ANC + VO – এটাই হওয়ার ছিল, হলও তাই। প্রত্যাশামতোই বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেলেন তারেক রহমান। শুক্রবার রাতে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়। বিএনপির সভায় দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ইতিমধ্যে তারেক রহমান চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করায় স্থায়ী কমিটি সন্তোষ প্রকাশ করেছে। চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি যেন সফল হতে পারেন, সে বিষয়েও সকলে মিলে কাজ করার অঙ্গিকার করা হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তাঁর জায়গায় এলেন পুত্র তারেক। শনিবার ঢাকার একটি হোটেলে সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে যোগ দেন বিএনপির নতুন চেয়ারম্যান। সেখানে তিনি বলেন, হিংসা-প্রতিশোধ-প্রতিহিংসা একটি মানুষ, একটি দল বা যেভাবে আমরা বিবেচনা করি তার পরিণতি কী হতে পারে আমরা দেখেছি ৫ অগাস্ট। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, এটি শুধু বোধহয় আমার একার জন্য নয়, যারা আমার দলের নেতাকর্মী সদস্য এবং সামগ্রিকভাবে পুরা দেশের মানুষের সামনে এই দুটি উদাহরণ বোধহয় সবচাইতে বাদ বিবেচনা করার জন্য সবচাইতে ভালো উদাহরণ যে আসলে ৫ আগস্টের আগে ফিরে যাওয়ার কোনোই কারণ নেই আমাদের।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, তারেক ইতিমধ্যেই ভবিষ্যতে তাঁর কার্যপরিচালনার ইঙ্গিত দিতে শুরু করেছেন। ৫ আগস্টের ঘটনার পরবর্তী পর্যায়ে বাংলাদেশে যে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, আজও তা থামার লক্ষণ নেই। তারেক সুচতুরভাবে সে কথা বললেন বটে, তবে উচ্চারণ করলেন না। তিনি বললেন, আমরা দেখেছি হিংসা-প্রতিশোধ-প্রতিহিংসা একটি মানুষ, একটি দল বা যেভাবে আমরা বিবেচনা করি—তার পরিণতি কী হতে পারে আমরা দেখেছি ৫ অগাস্টে। এর প্রতিকারের রাস্তাও বাতলে দিলেন তারেক। তিনি বলেন, আমি সেজন্যই সকলকে অনুরোধ করব দলমত নির্বিশেষে আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে; কিন্তু আমরা যদি চেষ্টা করি, তাহলে সে মতপার্থক্যটাকে মতপার্থক্যের মধ্যে রেখে আলোচনার মাধ্যমে সেটির অনেক সমস্যার সমাধান হয়তো আমরা বের করে আনতে সক্ষম হব। তবে তারেকের সামনে যে কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে সেটা বোঝা গেল তাঁর চেয়ারম্যান হওয়ার প্রথম দিনেই।
শুক্রবার রাতে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির জরুরি সভা শেষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চল সফর স্থগিত করা হয়েছে।
যদিও এর আগে মির্জা ফকরুলের সরাসরি অভিযোগ ছিল আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বানচাল করার লক্ষ্যে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে চক্রান্ত করছে। এবার বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তে তেমনই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে মত অভিজ্ঞ মহলের। উল্লেখ্য, বিগত কয়েকমাসে বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক দলের নেতাদের, বিশেষ করে বিএনপির কয়েকজন নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। কয়েক দিন আগে বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। মির্জা ফকরুলের দাবি, নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করতে ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক সহিংসতা ঘটানো হচ্ছে। কিন্তু তারেক আশাবাদী, তিনি আগামীর বাংলাদেশের দিশা দেখানোর চেষ্টা করছেন, দেশকে স্থিতিশীল করা এবং সামাজিক উন্নয়নের জন্য নারী ক্ষমতায়নের কথা বলছেন। তাহলে কি খুব শীঘ্রই আমরা তারেকের কন্যা জাইমা রহমানকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে দেখতে পাবো? এই সম্ভাবনাও কিন্তু উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।












Discussion about this post