এই মুহূ্র্তে বাংলাদেশের বন্ধু পাকিস্তান আর ভারত শত্রু! পুরনো সমস্ত কৃতজ্ঞতা যেন এক নিমেশে ভুলে গেল বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে এই মুহূর্তে পরমাণু বোমা দিয়ে সাহায্য করার বার্তা পাকিস্তানের। আর তাতেই এই কথা বলছেন কূটনীতিকরা। প্রকাশ্যেই পাক কট্টরপন্থী ধর্মগুরু বাংলাদেশকে পরমাণু বোমা দিয়ে সাহায্য করার বার্তা দিয়েছেন। হাত গুটিয়ে বসে নেই ভারতও। ফ্রান্সের সঙ্গে ২৬টি ‘রাফাল মেরিন’ যুদ্ধবিমানের চুক্তি নিয়ে আলোচনা অন্তিম পর্যায়ে রয়েছে। সব ঠিক থাকলে আগামী মাসেই চূড়ান্ত হতে পারে চুক্তি। সোমবার এমনটাই জানালেন ভারতের নৌসেনার প্রধান অ্যাডমিরাল দীনেশ কে ত্রিপাঠি। সোমবার বার্ষিক নৌসেনা দিবস উপলক্ষে একটি সাংবাদিক বৈঠকে দীনেশ বলেন, ‘‘রাফাল-এম সংক্রান্ত আলোচনা এখন অন্তিম পর্যায়ে রয়েছে। এখন শুধু এটিকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির কাছে নিয়ে যাওয়ার অপেক্ষা। বেশ কয়েক দফা আলোচনার পর যুদ্ধবিমানগুলির চূড়ান্ত দামও কমানো গিয়েছে। আগামী মাসের মধ্যেই এ নিয়ে রফা হতে পারে।’’ যেহেতু এটি এক দেশের সরকারের সঙ্গে আর একটি দেশের সরকারের চুক্তি, তাই এটি চূড়ান্ত হতে বেশি সময় লাগবে না, এমনটাই দাবি দীনেশের। এর আগে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে ভারতের প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ কাউন্সিল ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ২৬টি রাফাল এম যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল। এদিকে ফ্রান্স গত ডিসেম্বরে ভারতীয় টেন্ডারে সাড়া দিয়েছিল। এদিকে ফ্রান্সের থেকে রাফাল কেনার পাশাপাশি ফরাসি সরকারের কাছ থেকে অস্ত্র, সিমুলেটর, খুচরো যন্ত্রপাতি, সংশ্লিষ্ট আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম, ক্রু প্রশিক্ষণ এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য লজিস্টিক সাপোর্ট কেনার চুক্তি হবে। এর আগে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছিল, যতক্ষণ না ভারত নিজস্ব টুইন-ইঞ্জিন ডেক-বেসড ফাইটার তৈরি করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত নৌবাহিনীর প্রয়োজন মেটাতে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসাবে রাফাল এম আমদানি করা হচ্ছে। এদিকে ভারতে তৈরি প্রথম টুইন-ইঞ্জিন ডেক-বেসড ফাইটারের প্রোটোটাইপটি ২০২৬ সালের মধ্যে আকাশে উড়তে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। এবং ২০৩১ সাল থেকেই এই ধরনের বিমানের উৎপাদন শুরু করা যাবে। এই মুহূর্তে ভারতীয় বায়ুসেনার কাছে রয়েছে ৩৬টি অত্যাধুনিক রাফাল। ২০১৬ সালেই ফরাসি সরকারের সঙ্গে রাফাল চুক্তি করেছিল ভারত সরকার। এদিকে মোদী জমানার প্রথম পাঁচ বছরে রাফাল নিয়ে প্রচুর বিতর্ক হয়েছে। কংগ্রেসের দাবি ছিল, ভারত সরকার অনেক বেশি টাকা দিচ্ছে এই ফাইটার জেটের জন্য। তারা অনেক কমে এই চুক্তি করে ফেলেছিল বলে দাবি কংগ্রেসের। অন্যদিকে বিজেপির পালটা দাবি ছিল, কংগ্রেস কখনও এই চুক্তি সংক্রান্ত পাকা কথা বলেনি। তাই তারা কী টাকায় চুক্তি করতে চেয়েছিল, সেই নিয়ে কথা বলে কি লাভ। পরে সুপ্রিম কোর্ট ও ক্যাগ সরকারকে এই নিয়ে ক্লিনচিট দিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে ফ্রান্স থেকে ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান ভারতে আনার চুক্তি হয়। সেই মতো রাফালের প্রথম ব্যাচটি এসে পৌঁছয় ২০২০ সালের জুলাই মাসে। এ বার বায়ুসেনার পাশাপাশি নৌসেনার হাতেও ২৬টি যুদ্ধবিমান এলে জলপথ থেকেই আক্রমণ শানাতে পারবে ভারত। ক্যাটোবার প্রযুক্তি থাকায় বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ থেকেই উড়ান কিংবা অবতরণ করতে পারবে রাফাল-এম। তবে এ বারের রাফালগুলির কাঠামোয় বেশ কিছু অদলবদলের অনুরোধ করেছে ভারতীয় নৌসেনা। জেট-গুলিতে আরও উৎকৃষ্ট রাডার লাগানোর কথা বলা হয়েছে। তবে এই রাডার লাগাতে আরও আট বছর সময় লেগে যেতে পারে। পাশাপাশি, বিমানগুলিতে দেশীয় কিছু প্রযুক্তি সংযোজনের অনুরোধ করেছে ভারত। এই অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ‘রুদ্রম’ এবং ‘অস্ত্র’, যেগুলি যথাক্রমে অ্যান্টি রেডিয়েশন মিসাইল এবং বিয়ন্ড ভিসুয়াল রেঞ্জ মিসাইল। এই অস্ত্রগুলি রাফাল-এম জেটে যুক্ত হলে তা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। নৌসেনার শক্তি বাড়াতে ইতিমধ্যেই দেশীয় ভাবে ৬২টি যুদ্ধজাহাজ ও ডুবোজাহাজ তৈরি করছে ভারত। আগামী বছরের মধ্যেই নয়া একটি যুদ্ধজাহাজও নৌসেনায় সংযুক্ত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।












Discussion about this post