কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন গড়তে সুস্থ ধারার মিডিয়ার বিকল্প নেই। ভারতীয় কিছু গণমাধ্যম কিংবা টিভি মিডিয়ার মাধ্যমে নাটক-সিরিয়ালে পারিবারিক বিরোধ,সামাজিক কূটচাল, দ্বন্দ্ব-সংঘাত, স্বামী-স্ত্রী, বউ-শাশুড়ির চুলোচুলি দেখিয়ে সমাজকে কলুষিত করতে বাংলাদেশের দর্শকদের উদ্বুদ্ধ করে আসছে। এই মিডিয়াগুলির মাধ্যমে সংস্কৃতির নামে হিন্দুত্ববাদী অপসংস্কৃতি প্রচার করে আসছে বলে দাবি করছে বাংলাদেশ। তাই বাংলাদেশে বন্ধ হল ভারতীয় গণমাধ্যম স্যাটেলাইট চ্যানেল। গতকাল থেকেই তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের দাবি, ভারতীয় একটি স্যাটেলাইট চ্যানেল গত মঙ্গলবার দাবি করা হয়, গ্রেপ্তার চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ নিহত হয়েছেন পুলিশের হামলায়। ৬ নভেম্বর আরো একটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের চ্যানেলে বলা হয়, প্যারিসে পালিয়ে গেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। একই দিন সেই টিভি চ্যানেলে দাবি করা হয়, চট্টগ্রামে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর হামলায় তিন হিন্দু নিহত হয়েছেন, আহত ৮০ জন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের শুরু থেকেই ভারতের মূলধারার সংবাদমাধ্যমে একের পর এক বাংলাদেশবিরোধী গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি বাংলাদেশের। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর বাংলাদেশকে ছোট করে দেখাচ্ছে ভারত। তা ক্রমাগত বেড়েই চলে এসে বলে দাবি বাংলাদেশ সরকারের। কিন্তু গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামে নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণের আইনজীবী দাবি করে খবর প্রচারের আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার কিছুই করেনি। যদিও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের ফ্যাক্ট চেকে এর আগে একাধিক খবরকে ভুয়ো খবরকে চিহ্নিত করা হয়। এএফপি বাংলাদেশ ব্যুরোর প্রধান ফ্যাক্ট চেকার কদরুদ্দিন শিশির সমকালকে বলেছেন, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে ইসলামী উগ্রপন্থার উত্থান হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছে। বাংলাদেশের হিন্দুরা নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন এমন বয়ান তৈরি করছে। তাদের আরো দাবি, ভারতীয় বিভিন্ন পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করে বাংলাদেশে ভারতীয় পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ করতো, এবং এখনো করছে। দেশের সচেতন নাগরিক মহল বারবার প্রতিবাদ করার পরও কেউ কর্ণপাত করেনি। এর আগেও বাংলাদেশে ভারতের স্যাটেলাইট চ্যানেল বন্ধের দাবি তুলে হাইকোর্টের দারস্ত হয়েছিল এক গোষ্ঠী। সেই মর্মে রিট পিটিশনও দাখিল করা হয়েছিল। হাইকোর্টের বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের বেঞ্চের নির্দেশে অবশ্য এই মামলা খারিজ হয়ে যায়। রিটকারী আইনজীবী অবশ্য বলেছিলেন, দেশের স্বার্থে ও বিদেশি সংস্কৃতির অগ্রাসন বন্ধে রিট আবেদনটি করেছিলাম। আদালত আমাদের রিট খারিজ করে দিয়েছেন। এতে আমরা সংক্ষুব্ধ। এ রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে যাব। সেই ঘটনার পরে আবারও পুনরায় উত্তাল বাংলাদেশে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বন্ধের দাবি উঠলো। গত আগস্ট মাস থেকে উত্তপ্ত হয়েছে বাংলাদেশ। জায়গায় জায়গায় ছাত্র আন্দোলন- হিন্দু অত্যাচারের ঘটনা শিরোনামে। জানি ইতিমধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত, আমেরিকা। এই গোটা ঘটনাকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এবার সেই আবহেই বাংলাদেশে বন্ধ হল ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post