গত ৫ অগস্ট ছাত্র জনতা আন্দোলনের জেরে মসনদ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিয়ে চলে আসেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হাসিনার ভারতে আসার পর এই প্রথম কোনও ভারতীয় বিদেশ সচিব গেলেন ঢাকায়। এদিন ঝটিকা সফরে ঢাকায় পৌঁছন ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি। সেখানে তিনি বিদেশ সচিব স্তরের বৈঠকের পর তিনি ঢাকায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের সঙ্গে বৈঠক করেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে এবং দুই প্রতিবেশীর মধ্যকার সম্পর্ক জোরদারে ‘সম্মিলিত ও সমন্বিত প্রচেষ্টায় আগ্রহী ভারত। আর একথা প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহম্মদ ইউনূসকে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি। সোমবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা মুহম্মদ ইউনূসের সঙ্গে এক বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব এ কথা জানান। ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বলেছেন, ‘সম্পর্ক বাড়ানো ছাড়া দ্বিতীয় কোনো চিন্তা নেই। আমরা এটাকে উভয় দেশের জন্যই লাভজনক হিসেবে দেখি।’ পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়ে আলোচনায় বিক্রম মিশ্রি বলেছেন, ‘আমরা যেখানে ছিলাম সেখান থেকেই আবার শুরু করতে চাই।’ প্রায় ৪০ মিনিটের ওই বৈঠকে সংখ্যালঘু ইস্যু, অপতথ্য প্রচার, ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান নিয়ে আলোচনা হয়। ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সরকারের সঙ্গে আমাদের কাজ করতে হবে।’ প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ককে ‘খুবই দৃঢ়’ ও ‘ঘনিষ্ঠ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে দুই প্রতিবেশীর সম্পর্কে কিছু মেঘ জমে ছায়া তৈরি করেছে। এই ‘কালো মেঘ’ মুছে ফেলতে ভারতের সাহায্য চেয়েছেন ইউনূস। ঢাকায় ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি বৈঠক শেষে আরো বলেছেন, আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক এবং পারস্পরিকভাবে উপকারী” সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার জন্য আমি আজ ভারতের ইচ্ছার কথা জানিয়েছি।” বাংলাদেশে আক্রান্ত সংখ্যালঘুরা। যার আঁচ পড়েছে এ দেশেও। এই বিষয়ে ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি বলেছেন, “আমরা সাম্প্রতিক ঘটনাবলী নিয়ে আলোচনা করেছি এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলিতে আমাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছি। আমরা সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সম্পত্তির উপর হামলার দুঃখজনক ঘটনা নিয়েও আলোচনা করেছি।” মহম্মদ ইউনুস বলেন, ভারত ও অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক চান তিনি। তবে স্বচ্ছতা ও সমতার ভিত্তিতেই প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সেই সম্পর্ক তৈরি হবে। মহম্মদ ইউনুস বলেন যে তিনি প্রশাসনিক প্রধান হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণের পরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সহ একাধিক রাষ্ট্রনেতা ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। ইউনুস বলেন, “আমরা ভারত ও অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সুসম্পর্ক চাই, কিন্তু তা স্বচ্ছতা ও সমতার ভিত্তিতে হওয়া উচিত।” ইউনুস জানান, ইতিমধ্যেই বন্যা মোকাবিলা করতে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সার্ক পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নিয়েছি। হাসিনা সরকারকে দুষে মহম্মদ ইউনুস বলেন, “স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের অহেতুক কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্প বাস্তবায়িত হতে দেখেছি, যেগুলো কখনোই দেশের মানুষের জন্য ছিল না, বরং এর সঙ্গে জড়িত ছিল কুৎসিত আমিত্ব এবং বিশাল আকারের চুরি। চলমান এবং প্রস্তাবিত সব উন্নয়ন প্রকল্পের যাচাই–বাছাই করার কাজ ইতিমধ্যে শুরু করেছি। কর্মসংস্থান তৈরি করবে, এমন প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।” পাশাপাশি, বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা সেন্টার দিল্লি থেকে সরিয়ে ঢাকায় কিংবা অন্য কোনও প্রতিবেশী দেশে স্থানান্তর করা হোক। সোমবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলিকে এই প্রস্তাব দিয়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার ভারতীয় বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইউনূস। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনীতিকদের সঙ্গেও বৈঠক করেন বাংলাদেশের তদারকি সরকারের প্রধান। বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা সেন্টার দিল্লি থেকে ঢাকা বা অন্য কোনও প্রতিবেশী রাষ্ট্রে সরানোর জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনীতিকদের অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post