বাংলাদেশের সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া। তার সময়কাল ছিল 2012 এর জুন মাস থেকে 2015 এর জুন মাস। তিনি কুমিল্লার বাসিন্দা। বর্তমানে এই সাবেক সেনাপ্রধানের প্রসঙ্গ উঠে আসছে। গণঅভ্যুত্থানের সময় দেখা গিয়েছিল, এই ছাত্র অভ্যুত্থানকে সমর্থন করেছিলেন তিনি। সমাজ মাধ্যমে এই অভ্যুত্থানের হয়ে সাওয়াল করেছিলেন। এমনকি তিনি এবং বহু প্রাক্তন সেনাকর্তা সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়েছিলেন, সেনাদের এখন ব্যারাকে ফিরে যাওয়া উচিত। কারণ দেশবাসীর ওপর গুলি চালাতে পারে না সেনাবাহিনী। তিনি প্রথম থেকেই হাসিনা বিরোধী বলে পরিচিত ছিলেন। এখন তিনি একটি মন্তব্য করেছেন। যা ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
সাবেক সেনাপ্রধান বলেন, বর্তমান সেনাপ্রধান নাকি গণঅভ্যুত্থানির পর বলেছিলেন, যেই ক্ষমতায় বসুক না কেন তাকে রাষ্ট্রপতির কাছে গিয়ে সংবিধানসম্মতভাবে শপথ নিতে হবে। সেনাপ্রধানের বক্তব্য, যারা জয়ী হল, তারা কেন পরাজয় বাহিনীর কথা শুনবে। অর্থাৎ তিনি বলতে চেয়েছেন, বর্তমান সেনাপ্রধান এবং বাহিনী হাসিনাপন্থী। তিনি বলছেন, গণঅভ্যুত্থানের নামে, স্বৈরাচারী সরকারকে সরাতে আরেকটি স্বৈরাচারী সরকার এসেছে। এবং দেশে যদি আবার সংস্কার করা হয়, তবে বিএনপি ক্ষমতায় এলে সেই আওয়ামী লীগের মতোই স্বৈরাচারী হবে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য ভাবে আরেকটি বিষয় তিনি বলেছেন, যদি সত্যি এটা গণঅভ্যুত্থান হয়, তাহলে সেই স্বৈরাচারী সরকারের সমস্ত কিছুই মুছে ফেলা উচিত ছিল গোটা বাংলাদেশে।
অর্থাৎ শুধুমাত্র সরকারের পরিবর্তন নয়, দেশের সংবিধান, রাষ্ট্রপতি থেকে সেনাবাহিনীরও পরিবর্তন দরকার ছিল। কারণ এখন যে সেনাপ্রধান রয়েছেন তিনি হাসিনাপন্থী। কাজেই তাদের হয় দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া উচিত ছিল, আর না হয় পদত্যাগ করা উচিত ছিল। কিন্তু সেগুলি কোনটিই হয়নি। মাঝখান থেকে শুধুমাত্র সরকার পরিবর্তন করে একটি উপদেষ্টা মন্ডলী গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার করা হল।
এখানেই প্রশ্ন উঠছে, যে সাবেক সেনাপ্রধান প্রথম থেকে ছাত্রদের আন্দোলনকে সমর্থন করে এলেন, তিনি এই গণঅভ্যুত্থানকে ব্যর্থ উত্থান বলে অভিহিত কেন করছেন? তবে কি সেনাবাহিনীর মধ্যে বিভিন্ন ইস্যু উস্কে দিয়ে সেনা বিদ্রোহ করানোর চেষ্টা করছেন? যার মাস্টারমাইন্ড হবেন সাবেক এই সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া? নাকি তিনি চেষ্টা করছেন যে সরকার তৈরি হয়েছে, সেটা ভেঙে দিয়ে এমন একটি সরকার আনতে যেখানে তার সুবিধা হবে? একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
তবে এতে পরিষ্কার, বাংলাদেশের গণতন্ত্র কতটা ভঙ্গুর। একটি পরিকল্পিত চক্রান্তে বারবার দেশের প্রেক্ষাপট বদলে যায়। কারণ এই দেশ পূর্বে বহুবার দেখেছে সেনা বিদ্রোহ, সরকার পরিবর্তন, গণহত্যা, খুন। এমনকি ছাত্র বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের জেরে সরকারের পতন। এখন উঠে আসছে এই সাবেক সেনাপ্রধানের নাম, যিনিও ঘোলা জলের মাছ ধরার চেষ্টা করছেন। তবে কিছুদিন পর বোঝা যাবে তার আসল উদ্দেশ্যটা ঠিক কি!












Discussion about this post