হোয়াইট হাউজে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নরেন্দ্র মোদীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। যে বৈঠকে বাণিজ্য থেকে অভিবাসন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে তাদের আলোচনায়। আরে দীর্ঘ আলোচনার মাঝে উঠে এসেছে বাংলাদেশ প্রসঙ্গও। আর এই বাংলাদেশ প্রসঙ্গে উঠে আসতেই ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন বাংলাদেশের সঙ্গে আমেরিকা যুক্ত নয় বাংলাদেশের যে সমস্ত সমস্যা রয়েছে তার সমাধান করবে ভারত। পুরো বিষয়টি মোদীর উপরই ছেড়ে দিলাম। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি হচ্ছে মোদির সঙ্গে বৈঠকের পরেই জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে শুল্ক নিয়ে দুদেশের মধ্যে কী অবস্থান তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি। ২০৩০ সালের মধ্যে দুইদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুন করার লক্ষ্য নিয়েছে ভারত-আমেরিকা। দীপাকে বৈঠকের পরে সাংবাদিক বৈঠকও করেন দুই দেশের রাষ্ট্র নেতা। সেই বৈঠকে একাধিক প্রসঙ্গ উঠে এসেছে, উঠে এসেছে বাংলাদেশ প্রসঙ্গও। বাংলাদেশের সমস্যা নিয়ে ভারতই অবস্থান নেবে। বাংলাদেশ প্রসঙ্গে একপ্রকার সাহস দিয়ে দিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট নরেন্দ্র মোদিকে। পদ্মা পাড়ের সমস্যা নিয়ে ভারতের যা অবস্থান হবে সেটাকেই সম্মতি জানাবে আমেরিকা।
এরপর তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেন সেই বৈঠকে বৈঠকে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ভারত ও আমেরিকা যৌথ ভাবে একটি বিবৃতি দিয়েছে। আর এই বিবৃতিতে আল কায়দা, আইসিস, জয়সি মহমদ ও লস্করি তইবার মত সন্ত্রাসী ও জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে যৌথভাবে লড়াই করবে ভারত ও আমেরিকা ।
এছাড়া বাণিজ্য মহাকাশ গবেষণা, ও শিল্প সন্ত্রাসবাদ ও সামরিক বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে দুই রাষ্ট্র নেতার মধ্যে। সন্ত্রাসবাদ নিয়ে একত্রিত হয়ে কাজ করার বার্তা মোদী ও ট্রাম্পের। বৈঠক শেষে যৌথভাবে আলোচনায় দেশের উন্নয়নের বিষয়ে এক হয়ে কাজ করে ভারত ও আমেরিকা জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করা বার্তা ও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ২০৩০ এর মধ্যে বাণিজ্যিক লেনদেন উন্নত করার আশ্বাস দিয়ে মোদি জানিয়েছেন দুই দেশের বাণিজ্যিক লেনদেন ৫০০ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে পৌঁছাবে। এছাড়াও আলোচনায় উঠে এসেছে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ।
দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে ভারতই যে সবচেয়ে প্রভাবশালী ও নির্ণায়ক শক্তি এবং বাংলাদেশ সংক্রান্ত বিষয়ে এখনকার আমেরিকা যে ভারতকে ডিঙিয়ে কোনও ধরনের সক্রিয়তা বা হস্তক্ষেপ দেখাতে চাইবে না, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যকে এভাবেই ব্যাখ্যা করছেন দিল্লির কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
১৩ ফেব্রুয়ারি বিকালে হোয়াইট হাউজে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের ঠিক ঘণ্টা খানেক আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, যেসব দেশ আমেরিকার পণ্যের ওপর চড়া শুল্ক বসায়, তাদের সবার ওপর ঠিক সেই হারে পাল্টা শুল্ক বা ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ বসানো হবে। আর সেই তালিকার সবার ওপরে যে ভারত থাকবে, তার কথায় ‘ইন্ডিয়া অ্যাট টপ অব দ্য প্যাক’ সেটাও কোনও রাখঢাক না করেই জানিয়ে দেন।
ভারতের জন্য চরম অস্বস্তিকর এরকম একটা ঘোষণার পর ধারণা করা হয়েছিল দুই নেতার মধ্যে শীর্ষ বৈঠকে ট্যারিফ শুধু প্রসঙ্গই আলোচনা হবে কিন্তু সেটা হয়নি, বরং একাধিক বিষয়ে বিশদে আলোচনা হয়েছে এই বৈঠকে।












Discussion about this post