কিছুদিন আগেই কলকাতায় এসেছিলেনজাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। একদিকে দিল্লিতে সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দিবেদি হুমকি দিচ্ছেন পাকিস্তান এবং বাংলাদেশকে, আর অন্যদিকে কলকাতায় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের দুদিনের সফর। এখানেই জল্পনা তৈরি হচ্ছে। আসলে ২০২৪ এর শেষ দিকে সীমান্তে অশান্তি বেড়েছে। বিএসএফ এবং বিজিবি এর মধ্যে সংঘাত। উত্তপ্ত হয়েছে পরিস্থিতি। তারমধ্যে অনুপ্রবেশকারীদের উৎপাত। অন্যদিকে মৌলবাদীদের
লাগাতার হুমকি এসেছে ভারতের কাছে। আর সবথেকে বেশি চিন্তা বাড়িয়েছিল, গোয়েন্দাদের রিপোর্ট। সেই রিপোর্টে বলা হয়, ভারতের ভিতর জঙ্গি সংগঠনগুলি নাকি মজবুত করছে। এমনকি কিছুদিন আগেও বিভিন্ন জঙ্গি ধরা পড়ছিল ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। সব থেকে বেশি পশ্চিমবঙ্গ থেকে। তবে কি বাংলাতেই আস্তানা গাড়তে চাইছে জঙ্গিরা? এই প্রশ্নটাই উঠছে।
আর সেই চিন্তা থেকেই কলকাতা সফরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। খবর, বৈঠক করেছেন গোয়েন্দা শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে। সবথেকে বেশি উদ্বেগের কারণ, আনসারুল্লা বাংলা টিম, জামাতুল মুজাহিদীন….এমন জঙ্গি সংগঠনগুলি বাড়তে থাকছে। এগুলি সবই বাংলাদেশের সংগঠন। বলা ভালো জঙ্গি সংগঠন। তথ্য বলছে, এখনো পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের প্রত্যেকের উদ্দেশ্য ছিল, বাংলার স্লিপার সেল গুলিকে জাগিয়ে তোলা। তাদের সংগঠন আরো মজবুত করা। গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, আনসারুল্লা বাংলার নিশানায় ছিল ভারত। ২০২২ থেকেই নাকি এই আনসারুল্লা বাংলা টিম এর পাশে রয়েছে লস্কর-ই-তৈবা। এদের উদ্দ্যেশ্য, ভারতে নাশকতা সৃষ্টি করা।
এই মুহূর্তে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি টালমাটাল। রাজনৈতিক অস্থিরতা বেরিয়ে চলেছে। এর ফলে সেখানকার প্রশাসনিক কার্যকলাপ চলছে অত্যন্ত ধীরগতিতে। আর এই সুযোগ কি কাজে লাগিয়ে কখনো বৈধ নথি দেখিয়ে, আবার কখনো অবৈধ নথিতে বাংলাতে বসবাস করছে। যদিও এই সমস্ত এলাকাগুলিতে কড়া নজরদারিতে রয়েছে বিএসএফ। চালানো হচ্ছে পুলিশে তল্লাশি। কোনও সন্দেহভাজনকে দেখলেই আটক করা হচ্ছে। চলছে জিজ্ঞাসাবাদ। কিসের উদ্দেশ্যে তারা এসেছে, খতিয়ে দেখা হচ্ছে প্রশাসনের তরফে। তবে গোয়েন্দা রিপোর্ট যে তথ্য পেশ করছে, তাতে উদ্বেগ ধরছে ভারত সরকারকে। সামান্য নজরদারিতে এই অনুপ্রবেশ আটকানো কি আদৌ সম্ভব? সেই আশঙ্কা থেকেই কলকাতায় অজিত দোভাল। গোয়েন্দা বিভাগের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন তিনি। নিরাপত্তায় জোরদারের সঙ্গে সুকৌশল অবলম্বন করতে হবে, সেই সমস্ত বিষয়ে জানিয়েছেন। জাতীয় নিরাপত্তা, বিশেষ করে বাংলার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থেকে বাংলা সফর বলে মনে করছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা কর্তারা। বাংলাদেশ উত্তপ্ত হওয়ার পর থেকে ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে বজ্র আঁটুনি করেছে ভারত। এইবার দেখার, কি পদক্ষেপ করা হয় জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে।












Discussion about this post