বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর দলবল এখন অনেকটা ব্যাকফুটে। এর অন্যতম কারণ হাসনাত আব্দুল্লাহ। যিনি সদ্য গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিনাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক। দুদিন আগে যিনি একটি ফেসবুক পোস্টে বোমা ফাটিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফেরাতে তৎপর সেনাবাহিনী। তাঁকে এবং তাঁর দুই সঙ্গীকে ঢাকা ক্যাণ্টনমেন্টে ডেকে একটা প্রস্তাব দেওয়া হয় সেনাবাহিনীর তরফে। হাসনাতের কথায়, “রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ”, অর্থাৎ সংশোধিত রূপে নতুন নেতৃত্বে ফিরবে আওয়ামী লীগ, যা তাঁদের মেনে নিতে হবে। মোদ্দা কথা হল, হাসনাত বোঝাতে চেয়েছিলেন, সেনাবাহিনী তাঁদের চাপ দিয়েছিল, কিন্তু তাঁরা মেনে নেননি। যদিও তিনি এই ফেসবুক পোস্ট করেন ২১ মার্চ, আর তাঁদের ক্যাণ্টনমেন্টে ডাকা হয়েছিল গত ১১ মার্চ। ফলে প্রশ্ন ওঠে, এতদিন পর কেন এমন অভিযোগ তুললেন হাসনাত? বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের একাংশ দাবি করছেন, কোনও বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়েই এমনতর ফেসবুক পোস্ট করেছে এই ছাত্র নেতা। তাঁরা এমনও মনে করছেন, অনেকটাই কাঁচা কাজ করে ফেললেন হাসনাত। যা সেনাবাহিনীও বলছে।
রবিবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদর থেকে একটি সংবাদ মাধ্যমকে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, “ফেসবুকে ছাত্র নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্যটি হাস্যকর এবং অপরিপক্ক গল্পের সম্ভার”। যদিও সেনাবাহিনীর তরফে এমন কথা বলার পরও দেখা যাচ্ছে বিষয়টি মোটেই হালকা ভাবে নেওয়া হয়নি। রবিবার সকাল থেকেই ঢাকা শহরে সেনাবাহিনীর তুমুল তৎপরতা শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর ঢাকা ক্যাণ্টনমেন্টে দফায় দফায় বৈঠক হচ্ছে। সোমবার সকালে বাংলাদেশের সমস্ত সেনাকর্তাদের তলব করা হয়েছিল সামরিক পোশাকে সজ্জিত হয়ে। তিন বাহিনীর প্রতিনিধিরাই উপস্থিত ছিল। দিনভর চলেছে ওই বৈঠক। আরও একটি বিষয় সামনে এসেছে, সেনাবাহিনীর তরফে বাংলাদেশের সমস্ত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকতে বলা হয়েছে। সবমিলিয়ে বাংলাদেশ যেন সামরিক শাসন বা এমার্জেন্সির দিকে এগোচ্ছে।
এখানে আসল প্রশ্ন হল ছাত্র নেতারা আচমকা কি মতলবে সেনাবাহিনীর উপর আঘাত হানলেন? ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এটা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত বছরের ৫ আগষ্টের পর থেকেই এমন পরিস্থিতি চলছে ভিতর ভিতর। শেখ হাসিনার পতন ও দেশত্যাগের পর তাঁদের টার্গেট ছিলেন সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান। কারণ তিনিই প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে নিরাপদে ভারতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন সেনা বিমানে। হাসিনা বিরোধী চক্রান্তকারী শক্তিগুলির উদ্দেশ্য ছিল তাঁকে গণভবনের সামনে প্রকাশ্যে হেনস্থা করা বা ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়া। কিন্তু সেনা প্রধানের তৎপরতায় তা হয়নি। সেই রাগ তাঁরা দীর্ঘদিন পুষে রেখেছেন এবং সুযোগ পেলেই ছোবল মারার চেষ্টা করেছে। পাশাপাশি তাঁদের টার্গেট ছিল রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুও। তাকেও বহু ভাবে বহুবার হেনস্থা করা হয়েছে। কিন্তু দুজনেই নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন। এবার সেনাবাহিনীর ভিতরে বিদ্রোহ বা ক্যু করে ওয়াকার উজ জামানকে গ্রেফতারের ছক করা হয়েছিল। কিন্তু সেটাও ভারতের সৌজন্যে করা যায়নি। উল্টে সেনা প্রধান বাহিনীর পূর্ণ কমান্ড নিজের হাতে নিয়ে নেন কয়েকজনকে নজরবন্দি করে। সেই কারণেই সেনাপ্রধানের বেইজ্জতি করতে চেয়ে এই ধরণের কুরুচিকর পোস্ট করে বসেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তবে সেনাবাহিনী তৎপরতা শুরু করতেই হাওয়া বেরিয়ে যায় ছাত্র নেতাদের। সেই সঙ্গে তাঁদের যারা উস্কানি দিয়েছিল, তাঁরাও এখন গর্তে ঢুকে গিয়েছে ভয়ে। হাসনাত আব্দুল্লাহর সহযোগী সারজিস আলমের একটি ফেসবুক পোস্ট এ ক্ষেত্রে উল্লেখ করা যায়। তিনি হাসনাতের বক্তব্যকে খণ্ডন করে রবিবার ফেসবুকে লেখেন, তিনিও ওই বৈঠকে ছিলেন, কিন্তু সেনা প্রধান তাঁদের কোনও চাপ দেননি। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, ষড়যন্ত্র ধরা পড়তেই বলির পাঁঠা করা হল হাসনাতকে। এখন দেখার তাঁর কি পরিস্থিতি হয়।












Discussion about this post