পাকিস্তানের পাল্টা টার্গেট হতে পারে ভারতের শিলিগুড়ি করিডোর বা চিকেন নেক। এমনটাই আশঙ্কা করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। মঙ্গলবার গভীর রাতে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ন’টি এলাকায় হামলা চালিয়েছে ভারতীয় সেনা। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে জঙ্গিদের একাধিক ঘাঁটি। বুধবার সকাল থেকে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাংলাদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যম ভারতকে কাঠগড়ায় তুলতে শুরু করে। কেউ কেউ পাক সংবাদমাধ্যমকে উদ্ধৃতি দিয়ে ভারতের পাঁচটি ফাইটার জেট ভূপতিত হয়েছে বলেও দাবি করতে শুরু করে। কেউ আবার পাক সেনাবাহিনী কাশ্মীরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ব্রিগেড হেড কোয়ার্টার ধ্বংস করেছে বলেও খবর প্রকাশ করে দেয়। বোঝাই যাচ্ছে, পাকিস্তানে চালানো ভারতীয় সেনার অপারেশন সিঁদূর বাংলাদেশ ভালো চোখে নেয়নি। মঙ্গলবার রাতে ভারত পাকিস্তানে অভিযান চালানোর আগেই বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমে একটি সংবাদ ভারতীয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। সেটা হল, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধের আবহে বিদেশমন্ত্রী ইসহাক দার টেলিফোনে কথা বলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে। একাধিক সুত্র জানাচ্ছে, যুদ্ধ বাঁধলে পাকিস্তান যাতে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারতকে পূর্ব সীমান্ত দিয়ে আক্রমণ শানাতে পারে সেই আর্জি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকারের বিদেশ মন্ত্রী। প্রয়োজনে বাংলাদেশ সেনা বাহিনী পাশে দাঁড়াবে, প্রত্যাশা করে পাকিস্তান, এমন কথাও বলেছেন পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ও উপ প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার। বিষয়টি যে ভারতীয় গোয়েন্দাদের নজর এড়ায়নি এটা বলাই বাহুল্য।
ভারতীয় গোয়েন্দা এজেন্সিগুলি শেখ হাসিনার পতনের পর থেকেই বাংলাদেশে অতি সক্রিয়। তাঁরা জানেন, পাকিস্তানের সেনাকর্তা থেকে শুরু করে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের প্রতিনিধিদের ঘনঘন বাংলাদেশে যাতায়াত করছেন। আইএসআই চিফ নিজেই ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুরে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি পাক বিদেশমন্ত্রী নিজেই কয়েকদিন আগে ঢাকা সফর করে ফিরেছেন। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান কৌশলগতভাবে ভারতকে চাপে রাখতে বাংলাদেশকে পাশে পেতে চাইছে। আর বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান উপদেষ্টাও যে সেটা চান সেটা আর নতুন করে বলে দিতে হবে না। সেই কারণেই শিলিগুড়ি করিডোর বা চিকেন নেকের দিকে বাড়তি নজর রাখছে ভারতীয় গোয়েন্দারা। পাকিস্তানের পরিকল্পনায় রয়েছে যদি ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ বাঁধে তাহলে বাংলাদেশের এয়ারবেস ব্যবহার করে চিকেন নেকে হামলা চালানো। যাতে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যকে বিচ্ছিন্ন করা যায়। এর ইঙ্গিত মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্তারা কয়েকদিন ধরেই দিয়ে চলেছেন। ইউনূস নিজেই বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে বলেছেন। কূটনীতিকদের একাংশ মনে করছেন, চিনের পরামর্শে পাকিস্তান এমন যুদ্ধ কৌশল নেওয়ার রাস্তা খোলা রাখার চেষ্টা করছে।
এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার গভীর রাতে পাকিস্তানের মাটিতে একাধিক এলাকায় হামলা চালায় ভারতীয় সেনা ও বিমানবাহিনী। ভারতের দাবি, ৯টি জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। খতম হয়েছে অন্তত ৭০ জনের বেশি জঙ্গি। হামলায় প্রাণ হারিয়েছে জইশ-এ-মহম্মদ প্রধান মৌলনা মাসুদ আজহারের পরিবারের ১০ জন সদস্য। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা কমিটির বৈঠকের পর পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ সরীফ পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন প্রত্যাঘাত করার। ফলে আন্দাজ করা হচ্ছে, পাকিস্তানও পাল্টা আঘাত হানতে পারে যে কোনও মুহূর্তে। এই আবহেই বুধবার ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দেশের ১০টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। মূলত আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী এলাকার মুখ্যমন্ত্রীদেরই এই বৈঠকে ডাকা হয়েছিল। বাংলাদেশ সীমান্তের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বৈঠকে ছিলেন। জানা যাচ্ছে, পাক হামলার আশঙ্কায় পশ্চিমবঙ্গেও হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, দিনাজপুর, কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি জেলায় বাড়তি নজরদারির কথা জানানো হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীকে। আশঙ্কা এই এলাকার একাধিক অরক্ষিত সীমান্ত দিয়ে যে কোনও সময় বড় নাশকতার ঘটনাও ঘটতে পারে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও জানিয়েছেন, বিভেদ ভুলে এখন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার সময়। তিনি আরও জানান, বিভ্রান্তকর বা প্ররোচনামূলক খবর ছড়ানোর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে। এখন দেশকে রক্ষা করার সময়।












Discussion about this post