ভারত পাকিস্তানের মধ্যে যেভাবে সংঘাত চলছে তাতে যুদ্ধ যুদ্ধ রব বিশ্ব দরবারে। কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার প্রতিশোধ নিয়েছে ভারত। পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে নটি জঙ্গি খাঁটি উড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় সেনা। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের উপর কি প্রভাব পড়তে পারে ? এই প্রশ্ন উঠছে বাংলাদেশের অন্দরে।
২০২৪ এর ৫ই অগাস্টের পর ভারত বাংলাদেশের সম্পর্কে অবনতি ঘটে। এমনকি বাংলাদেশের চরম ভারত বিদ্বেষ লক্ষ্য করা যায়। এদিকে গত ৯ মাসে বহু আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ বলেছেন, বাংলাদেশ কোনভাবেই ভারতকে এড়িয়ে যেতে পারবেনা। ভৌগোলিক কারণ যেমন রয়েছে তেমনই রয়েছে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণ। তাহলে ভারতকে বাদ দিয়ে কি করবে বাংলাদেশ? ভারত পাকিস্তান একমাত্র স্থলবন্দর আটারি-ওয়াঘা। অথচ বাংলাদেশে ১৬ টি স্থলবন্দর এই মুহূর্তে কার্যক্রম চালাচ্ছে। মোট ২৫ টি স্থলবন্দর প্রস্তাবিত সহ বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা বাণিজ্য, প্রাকৃতিক সম্পদ বিনিময়, চিকিৎসা, স্বাস্থ্য, জ্বালানি নানাভাবে বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক যুক্ত। এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার ঘটনার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যে পদক্ষেপ করেছে ভারত, সেই একই পদক্ষেপ বাংলাদেশের উপর করলে কি পরিণতি হবে গোটা দেশটির, সেটা ভেবেই আতঙ্কিত বাংলাদেশের বহু মানুষ। ইতিমধ্যেই ভারত সিন্ধু জলবন্দর যুক্তি বাতিল করে দিয়েছে। জল নিয়ে মহা বিপাকে পড়েছে পাকিস্তান। অন্যদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে গঙ্গা চুক্তি রয়েছে ভারতের। আর সেটি শেষ হতে চলেছে ২০২৬ এ। মেয়াদ শেষের পর এই চুক্তি যদি নতুন করে করা না হয়, তবে বাংলাদেশের পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ হয়ে যাবে। অন্যদিকে চিন্তা বাড়াচ্ছে বাণিজ্য নিয়ে। বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করে দিলে, চরম সমস্যায় পড়বে পদ্মাপারের দেশ। এমনকি ভারত বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করেছে।। তার মধ্যে চলমান কিছু রেলের প্রকল্প স্থগিত করে দিয়েছে ভারত। এমনকি ভারত থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় বাংলাদেশে। ইতিমধ্যেই আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে নানা জল ঘোলা তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত বলেছে, যথাযথ আইন মেনেই আদানির সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। এমনকি ডিজেলের জন্য ভারতের উপর নির্ভর করতে হয় বাংলাদেশকে। শুধু তাই নয়, চিকিৎসা ক্ষেত্রেও ভারতের ওপর নির্ভর করে বহু বাংলাদেশী। ইতিমধ্যেই ভিসা করাকরি করতেই বহু বাংলাদেশের নাগরিক সমস্যায় পড়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তান ভারতের জন্য আকাশ সীমা বন্ধ করে দিয়েছে। ভারতও পালটা আকাশী মা বন্ধ করে দিয়ে পদক্ষেপ করেছে। কিন্তু একই পরিস্থিতি বাংলাদেশের উপর করলে, কি পরিণতি হবে বাংলাদেশের? উঠে আসছে প্রশ্ন।
এরমধ্যে বাংলাদেশের অন্তবর্তি সরকার মায়ানমার সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক খারাপ করে ফেলেছে মায়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে সমর্থন করতে গিয়ে। এদিকে মায়ানমার সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো। আর সেই ভারত যদি মিয়ানমারকে বলে আকাশ সীমা বন্ধ করে দিতে, তাহলে কোথায় যাবে বাংলাদেশ? ইতিমধ্যেই ভারত পাকিস্তানের সম্পর্ক অবনতি হওয়ার জেরে বাংলাদেশের বহু মানুষ লাফাতে শুরু করেছে। কিন্তু ভারত কড়া পদক্ষেপ নিলে বাংলাদেশ পার পাবে না। কিন্তু এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পাকিস্তানপন্থী ব্যক্তিদের অবসান। যদি অন্তরবর্তী কালীন সরকার এর হাল ধরতে পারে তবেই বাংলাদেশ প্রাণে বাঁচবে। এখন দেখার, শেষমেশ কি পরিস্থিতি তৈরি হয়।












Discussion about this post