বাংলাদেশে এখন সবথেকে বড় ইস্যু নির্বাচন। লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছিল ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে। কিন্তু তারপরে আর কোনও উচ্চবাচ্য নেই। নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে কোনও ঘোষণা দেওয়া হয়নি এখনও পর্যন্ত। শুধুমাত্র বিএনপিকেই দেখা যাচ্ছে উৎসাহ হতে। তারা এখনও আশাবাদী, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ঠিক যেমনটা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে ঠিক হয়েছিল বলে জানা যায়। এদিকে মাহফুজ আলম একটি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। আর সেখানে তিনি যে যে বিবৃতিগুলি দিয়েছেন, তাতে এটা স্পষ্ট হয় যে বাংলাদেশের নির্বাচন প্রসঙ্গে অনেক কিছু বাকি রয়েছে। পাশাপাশি তার কথা শুনে মনে হচ্ছে, তিনি মহম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ত্যাগ করছেন। কারণ তার গলায় সুর বদল। পাকিস্তানের বিপরীতে কথা বলছেন। তবে কি তিনি বুঝে গেলেন, বাংলাদেশের মানুষের মনে ভাবাবেগকে আঘাত দিয়ে, তারা কর্তৃত্ব ফলাতে পারবেন না?
The week এ একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন মাহফুজ আলম। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, বাংলাদেশে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার উদ্বেগগুলো আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করছেন? তার উত্তরে মাহফুজ আলম বলেন, ঈদের আগে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ২০২৬ এ এপ্রিলে জাতীয় নির্বাচনের সময়সীমার কথা বলেছিলেন, সেটা নিয়ে কোনও ধরনের অনিশ্চয়তা থাকা উচিত নয়। এদিকে বিএনপি প্রথম থেকে ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে নির্বাচন হওয়ার দাবি করে আসছে। কিন্তু তেমন কোনও কথা উপদেষ্টা থেকে শুরু করে প্রধান উপদেষ্টার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত মাহফুজ আলম, তাদের গলায় নির্ধারিত নির্বাচনের সময়সীমার কথা শোনা যাচ্ছে না। তারা কেবল জুলাই সনদ ঘোষণাপত্র নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে লন্ডনে খলিলুর রহমান বলেছিলেন, নির্বাচন কমিশনার খুব দ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপ বা সময়সীমার ধারণা দেবে। কিন্তু প্রায় দু সপ্তাহ হতে চলল প্রধান উপদেষ্টার লন্ডন সফর করে এসেছেন । এখনও পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ে কিছুই জানায়নি। বরং তারা বলেছে, ওই সংবাদ সম্মেলনের উপর ভিত্তি করে নির্বাচন কমিশনের কোনওরকম মন্তব্য করা ঠিক নয়।
অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন বলতে কি বোঝায়! এই প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। তাকে কিছুদিন আগেই একটি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তার উত্তরে তিনি বলেছিলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন মানে সমস্ত জনগণের অংশগ্রহণ। সব রাজনৈতিক দলকে নয়। কিন্তু শেখ হাসিনা যখন এই মন্তব্যটি করেছিলেন, তখন বিএনপি থেকে শুরু করে আরও অন্যান্য রাজনৈতিক দল প্রত্যেকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা যখন ওই একই কথা বললেন, তখন অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো আর মুখ খুলছে না। এদিকে এই প্রশ্নের উত্তরে মাহফুজ আলম বলছেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন মানে সমস্ত রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নয়। গত ১৫ বছরে কর্তৃত্ববাদের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন দলগুলি গণতান্ত্রিকভাবে নিজেদের ক্ষয় করেছিল। যদি তারা এখন মাঠে নামে তবে তারা জনগণের প্রতিরোধের মুখোমুখি হবে। কিন্তু এখন প্রশ্ন উঠছে, এই সরকার তো কিছু মানুষের সমর্থনে বাংলাদেশে এসেছে। তাহলে শেখ হাসিনার আমলের বয়ানগুলো তারা তুলে ধরছে কেন?
অন্যদিকে তিনি সুর বদলে বলছেন, বাংলাদেশে ইসলামিক দলগুলোর যে আদর্শ দেখে আসা হচ্ছে, তার একটি সীমা থাকা উচিত। এই মানষিকতার ভোটার ১২ থেকে ১৫ শতাংশের বেশি নয়। এছাড়াও তিনি বলছেন, আমরা ইসলামাপন্থী পরবর্তী পর্যায়ে রয়েছি। যেখানে ইসলামী দলগুলি তাদের মতাদর্শকে সংযত করছে এবং তিনি বলছেন, আমরা অন্য পাকিস্তান নই। কিন্তু শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেখা গিয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের মাখামাখি সম্পর্ক। কিন্তু এখন তারা হয়তো বুঝতে পারছে, ৭১ কে বাদ দিয়ে বাংলাদেশে রাজনীতি করা সম্ভব নয়। তাই এখন তারা সুর বদলেছে। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এখনও তাদের জনগণের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে হবে। আর নির্বাচন আদেও বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে হয় কিনা, সেটাই সব থেকে বড় প্রশ্ন। আদেও বিএনপি যেটা ঘিরে স্বপ্ন দেখছে, বাস্তবায়িত হয় কিনা, তার উত্তর অবশ্য সময় দেবে।












Discussion about this post