২০২৪ সালের ৮ ই আগস্ট বাংলাদেশ দিবস হিসাবে ঘোষণা মহম্মদ ইউনূসের। ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানকে দ্বিতীয় স্বাধীনতা বলতে চাইছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা। কেউ কেউ বলছেন, দেশে যেভাবে মব চলছে, তাতে অত্যাচার-শাসন-মব দেশটার কি দ্বিতীয় ইনিং? তারই কি প্রস্তুতি নিচ্ছেন ইউনূস?
২০২৪ সালের ৫ই অগাষ্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। ৮ই অগাষ্ট বাংলাদেশের ক্ষমতা নেন মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। কিন্তু ইউনুস ক্ষমতা নেওয়ার পর দেশের উন্নতি তেমন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বরং দেখা যাচ্ছে, দেশে বাড়ছে বিশৃঙ্খলতা। এদিকে আখের গোছাচ্ছেন মুহাম্মদ ইউনূস। নতুন নতুন লাইসেন্স পাচ্ছেন তা গ্রামীণ ব্যাংকের আওতাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এমনকি এই দশ মাসে একাধিক বিদেশ সফর করেছেন প্রধান উপদেষ্টা। সেটা কেউ সরকারের সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। এদিকে ৮ ই আগস্ট কে নতুন বাংলাদেশ দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তরফে। যাতে দিনটিকে যথাযথভাবে পালন করা যায়, প্রত্যেকটা দপ্তরকে জানানো হয়েছে সরকারের তরফে। এর সঙ্গে ৫ ই আগস্ট কে গণঅভ্যুত্থান দিবস এবং ১৬ ই জুলাই শহীদ আবু সাঈদ দিবস হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি সরকারের পতনের তিন দিন পর দেশের জরুরী পরিস্থিতিতে আদালতের স্বপক্ষে একটি সরকার ক্ষমতা নেয়। কিন্তু সেই দিনটিকে কেন নতুন দেশের সূচনা হিসেবে দেখা হবে? উঠছে প্রশ্ন। আসলে মহম্মদ ইউনূস, মুক্তিযুদ্ধের থেকেও গণঅভ্যুত্থান কে আরো বড় করে দেখাতে চাইছেন। তাকে বিকল্পহীন রাষ্ট্রনায়ক হিসাবে তকমা দিচ্ছেন কেউ কেউ। অনেকে চাইছেন, বিনা নির্বাচনের পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকুক তিনি। সর্বোপরি, ইউনূসের বাংলাদেশের ক্ষমতা হাতে নেওয়ার দিনটিকে বাংলাদেশ দিবস হিসাবে পালন করাই হল মূল লক্ষ্য। এই দ্বিতীয় স্বাধীনতার তত্ত্ব প্রথম এসেছিল ইউনুসের মুখ থেকেই। গত বছর ৫ ই আগস্ট তিনি সামনে আনেন বিষয়টিকে। সেদিন তাকে একটি গণমাধ্যম প্রশ্ন করেছিল, শেখ হাসিনার পতনের পর, তার ক্ষমতা হাতে নেওয়ার পর লক্ষ্য কি? জবাব দিয়েছিলেন, আমরা নতুনভাবে স্বাধীনতা পেয়েছি। বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষ উদযাপন করছে। আসলে মানুষ দ্বিতীয় স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছে। যদিও তিনি উল্লেখ করেন, দেশের ক্ষমতা নেওয়া উচিত তরুণদের। এবং তিনি বলেন, তিনি তার কাজ চালিয়ে যাবেন। শেখ হাসিনার আমলে নাকি তিনি সেই পরিসর পাননি। তবে এখন ধারণা করা যায়, ৫ ই আগস্ট এর আগে তিনি ক্ষমতা নেবেন, সেটা ঠিক হয়ে গিয়েছিল।
তবে তিনি কেন এদিকে দ্বিতীয় স্বাধীনতা বলে উল্লেখ করছেন? এমনকি তিনি ক্ষমতা হাতে নেওয়ার পরও জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে বলেন, দ্বিতীয় স্বাধীনতার কথা। অর্থাৎ তিনি ক্ষমতা নেওয়ার সময় বা তারপরে বা এখনও তিনি দ্বিতীয় স্বাধীনতা কথাটি উল্লেখ করে যাচ্ছেন। এমনকি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র নেতারাও ৭১ মুক্তিযুদ্ধের থেকেও বড় করে দেখানোর চেষ্টা করছেন ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানকে। এমনকি দ্বিতীয় স্বাধীনতার জাতির পিতা হিসেবে মুহাম্মদ ইউনুসকে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। এমনকি তিনি একাধিক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, অতীত নিশ্চিতভাবে চলে গিয়েছে। অর্থাৎ মোহাম্মদ ইউনুস এবং বৈষম্য বিরোধী ছাত্র নেতারা কোনোভাবেই বাংলাদেশের অতীতকে মেনে নিচ্ছে না। তারা গণঅভ্যুত্থানকেই চূড়ান্ত হিসেবে দেখছে। কিন্তু বাংলাদেশ তো ভালো নেই। মব কালচার এখন প্রতিদিনের ঘটনা। পার পাচ্ছেন না কেউই। এমনকি পুলিশের উপস্থিতিতেও এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। আর এখানেই প্রশ্ন উঠছে, নতুন বাংলাদেশ দিবসে সরকার কিসের উদযাপন করতে চাইছে?












Discussion about this post