শেখ মুজিবুর রহমানের মাজার ভাঙাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে গোপালগঞ্জ। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইন্টারনেট, জারি করা হয়েছে কারফিউ। শেখ হাসিনার পথেই কি হাঁটছে মহম্মদ ইউনূসের সরকার? যেভাবে হাসিনার সরকারের পতন হয়েছিল, ঠিক একইভাবে কি এই সরকারেও পতন ঘটবে? এমন আলোচনা যখন চলছে, তখন ইন্টারনেট কিভাবে বন্ধ করতে হয়, কিভাবে মেটিকূলাস ডিসাইন করতে হয় ইন্টারনেট বন্ধের, সেই বিষয়ে পরামর্শ নেওয়ার জন্য কারাগার থেকে জুনায়েদ আহমেদ পলক সরকারের ইন্টারনেট বিষয়ক উপদেষ্টা বানানোর আলোচনা চলছে। আসলে গোপালগঞ্জের ঘটনার পর সরকার একটি সেল তৈরি করেছে, যেখানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া মনিটরিং করছেন। গোপালগঞ্জের মানুষকে প্রবল ভাবে সতর্ক করছেন। এখানে মানবতা প্রসঙ্গ উঠে আসছে। যখন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা উঠে আসছে, তখন এখন কেন সেটা হবে না? আসলে কি হতে চলেছে গোপালগঞ্জকে কেন্দ্র করে? এরমধ্যে কি মেটিকুলাস ডিসাইন রয়েছে? যেখানে একটা নির্দিষ্ট কোনও ঘটনা যাতে ঘটে সেই কারণে এটি পরিকল্পনা করা হয়েছে? তবে কি পদ্মাপাড়ে ফের গণঅভ্যুত্থান হতে চলেছে?
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির ছাত্রনেতারা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কর্মসূচি পালনের নামে বঙ্গবন্ধুর মাজার ভাঙার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু সেটা রুখে দেয় সেখানকার সাধারণ মানুষ এবং আওয়ামী লীগের কর্মীরা। এই ঘটনায় রণক্ষেত্রের চেহারা নয় গোটা এলাকা। ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। এরই মধ্যে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। কারফিউ জারি করা হয়েছে। যে যে কর্মকাণ্ডের জন্য শেখ হাসিনা সরকারের সমালোচনা করা হয়েছে, সেই একই কাজ করছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। গণহারে শায়েস্তা করার একটা প্রক্রিয়া চালাচ্ছে এই সরকার। এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেশ কিছু কর্মকাণ্ড সামনে এসে, যেগুলিকে অনেকে বলছেন মানবাধিকার লঙ্ঘন করছেন তারা। একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, একটি ছেলেকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ ভ্যানে করে নিয়ে যাচ্ছে। এখানে অভিযোগ উঠছে, ওই ছেলেটিকে পুলিশ গ্রেফতার করে গুলি করে মেরেছে। এই ঘটনা যদি সত্যি হয়ে থাকে, তবে আলাদা বাংলাদেশ কিভাবে হল? এমনকি আরেকটি ভিডিও সামনে এসেছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে বুটের মাধ্যমে এক মৃতদেহকে খোঁচানো হচ্ছে। অর্থাৎ গত বছর শেখ হাসিনার পুলিশ যে যে কর্মকাণ্ড করেছে বলে অভিযোগ, সেই দৃশ্যগুলি ফের সামনে আসছে। গত বছর যারা মানবাধিকার লঙ্ঘিত হবে বলে ছাত্র জনতার উপর গুলি করতে চায়নি, ছাত্র জনতার পাশে দাঁড়িয়েছে, তাদেরকেই দেখা গেল গোপালগঞ্জে জনতার দিকে গুলি করছে। এমন কি বলা হচ্ছে, গোপালগঞ্জে একদিনের যে পরিমাণে গুলি করা হয়েছে, তাতে বাংলাদেশের ইতিহাসে একদিনে এত পরিমাণ গুলি করার ঘটনা বোধহয় বিরল।
এরপরই দেখা যায়, সরকারের পক্ষ থেকে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ আবার বলছেন, শুধু গোপালগঞ্জে নয়, সেখানকার ঘটনা যাতে সারা দেশে ছড়িয়ে না পড়ে, ওটা দেখে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া উচিত। আর এই বিষয়ে জেলে থাকা জুনায়েদ আহমেদের পরামর্শ নেওয়া উচিত বলে বলছেন কেউ কেউ।
এমনকি জারি করা হয়েছে কারফিউ। ঠিক গত বছর এই সময়ে শেখ হাসিনার সরকার কারফিউ জারি করেছিল। কারণ এই সময় ছাত্র আন্দোলনের তীব্রতা চরম আকার ধারণ করেছিল। কিন্তু সেই সময় সরকারের এই কাণ্ডকারখানা বিশ্বব্যাপী সমালোচিত হয়েছিল।
অন্যদিকে উপদেষ্টা আসিফ মোহাম্মদ সাজিব ভূঁইয়া ছবি একটি ছবি পোস্ট করেছেন। যেখানে দেখা যাচ্ছে, তিনি গোপালগঞ্জের ঘটনা মনিটরিং করছেন। এমনকি তিনি যে ভাষায় এই ছবিটা ক্যাপশন দিয়েছেন, সেটা নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। তিনি লিখছেন, গোপালগঞ্জে কারফিউ জারি করা হয়েছে। জীবন মরণ পরিস্থিতি তৈরি না হলে সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বেরোবেন না। সমস্ত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের সন্ত্রাসীদের তিনটি হাইপেন দিয়ে লেখা হয়েছে (_)ভেঙে দেওয়া হবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কি ভেঙে দেওয়ার কথা বলছেন তিনি? একজন উপদেষ্টা কি এইভাবে কথা বলতে পারেন? এছাড়াও গোপালগঞ্জের শুধু আওয়ামী লীগ কর্মীরা নন, সাধারণ মানুষও প্রতিরোধ করে তুলেছিল। তবে কি তাদের উদ্দেশ্যে ওই বার্তা দিলেন উপদেষ্টা? তিনি কি মানবাধিকার লঙ্ঘনের মত ভাষা প্রয়োগ করছেন না? যেটা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে করা হয়েছিল বলে অভিযোগ!
অন্যদিকে এ বিষয়ে আলজাজিরার সাংবাদিক জুলকারনাইন সাইয়ের ফেসবুক লিখছেন, জুস পান করতে করতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী নেতাকর্মীদের ভেঙে ধ্বংস করে ফেলতে আহ্বান জানাচ্ছে সরকারের একজন উপদেষ্টা তিনি মন্ত্রী পদ মর্যাদার সমমান। মানব অধিকার কিন্তু সিলেক্টিভ বিষয় না। এই ঘৃণার চক্র থেকে বের হতে হবে। তারা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক, তাদের অধিকার ও নাগরিক মর্যাদাও আমার আপনার সমান। দেশটা যে কিন্তু কারোই ব্যাপার না, সেটা ভুলে যাওয়া একদমই ঠিক হবে না। যদি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী নেতাকর্মীরা কেবল আওয়ামীলীগ সমর্থনের জন্য আক্রান্ত হন, সেটা আপনাদের পুরো অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকেই কঠিন প্রশ্নের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে।
সত্যিই তো, কোন সংগঠন কে সমর্থন করা দোষী হতে পারে না, যতক্ষণ না সে প্রমাণিত হচ্ছে দোষী। এবং দেশটা কারোরই একর নয়। যেমন শেখ হাসিনার একার ছিল না, ঠিক একইভাবে সজীব ভূইয়ারও একা নয়। এখন প্রশ্ন এটাই, যে পথে শেখ হাসিনার পতন হয়েছিল এবং তার বিরুদ্ধে যে যে অভিযোগ উঠেছিল, সেগুলো কি পুনরাবৃত্তি হচ্ছে না?












Discussion about this post