বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস অবশেষে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে রোজার আগে বাংলাদেশের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁর এই ঘোষণার পরে বিএনপির মেজাজ যতটা যতটা ফুরফুরে, ততটাই বিষণ্ণ জামায়াতে ইসলামি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি নেতাদের। আশ্চর্যের বিষয় হল, মুহাম্মদ ইউনূস যে জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করেছেন, তা নিয়েও জোর আপত্তি তুলেছে এই দু’টি দল। একমাত্র বিএনপি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই দুই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছে।
প্রশ্ন হচ্ছে, এনসিপি, যাদের বাংলাদেশের মানুষ কিংস পার্টি বলে আখ্যা দিয়েছেন, তাঁরা কেন নাখুশ? বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আগামী আসন্ন ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন হলে প্রকাশ্যে আপত্তি জানায়নি জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা। কিন্তু তাঁরা যে এই সিদ্ধান্তে খুশি নয় , তা তাদের বক্তব্য থেকেই উঠে আসছে। এনসিপি বলেছে, ‘সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া ভোটের সময়সীমা ঘোষণা করে প্রধান উপদেষ্টা ঐতিহ্য লঙ্ঘন করেছেন। তাদের এও দাবি, বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশা হল ‘ফ্যাসিস্ট’ আওয়ামি লিগের নেতাদের বিচার ও সংস্কারের সুপারিশগুলি রূপায়ণ করা। অন্যদিকে জামায়াত নেতারা দাবি করছেন, সংস্কার ও স্বৈরাচারীদের বিচারের পরে নির্বাচন হোক। অর্থাৎ, এই দুই দল এই মুহূর্তে বাংলাদেশে নির্বাচন চাইছে না।
পাঁচ আগস্ট বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে যে বর্ণাঢ্য সমারোহের আয়োজন করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার সেখানে কেন জানিনা একটা তাল কাটা ব্যাপার ছিল। ওইদিন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন যা আজ জাতীয় নাগরিক পার্টির সবচেয়ে বড় বিজয়ের দিবস বলেই মনে করা হয়। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা গেল এনসিপির পাঁচ শীর্ষ নেতা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে হাওয়া বদল করতে পৌঁছে গেলেন। অভিযোগ উঠেছিল, হাসনাত সার্জিস তাসমিম জারা, নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারির মতো নেতারা কক্সবাজার গিয়েছিলেন সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে দেখা করতে। এই ব্যাপারে নিশ্চিত প্রমান না পাওয়া গেলেও তাঁদের ঐদিন কক্সবাজার যাওয়া নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি এই পাঁচ নেতাকে শোকজ করেছে। এটা কি এনসিপির সত্যিকারের কোনও পদক্ষেপ, নাকি জনগণকে আই ওয়াশ করার চেষ্টা করল কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। আসলে ফেব্রুয়ারি মাসে ভোট হলে এনসিপি বা জামাত কেউই হালে পানি পাবে না, সেটা তারা জানে। তাই জুলাই ঘোষণা পত্র হোক বা জাতীয় নির্বাচন কোনটাই তারা পছন্দ করছে না।
নাহলে কেবলমাত্র এনসিপির এই পাঁচ শীর্ষ স্থানীয় নেতা কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে যেতেন না। এই পাঁচ নেতা খুব একটা ছোটখাঁটো নেতা নয়। বাংলদেশের জুলাই আন্দোলনের সময় থেকে এই পাঁচজন একেবারেই প্রথমসারিতে ছিলেন। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের দশজন প্রভাবশালীর মধ্যে হাসনাত, সারজিস, পাটওয়ারি ও তাসমিম জারার নাম আসবেই। তাঁরা বর্ষপূর্তির দিনই ঢাকা ছেড়ে কেবলমাত্র হাওয়া খেতে কক্সবাজার যাবেন সেটা হতে পারে না। রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, জুলাই ঘোষণাপত্র এবং দ্রুত জাতীয় নির্বাচন, কোনওটাই মেনে নিতে পারছে না এনসিপি। ফলে হতাশ হয়েই তাঁরা কক্সবাজার চলে গিয়েছিলেন। আর তাঁদের শোকজ করাটাও একটা আইওয়াশ। কারণ এই মুহূর্তে এই পাঁচ নেতাকে বাদ দিয়ে এনসিপির অস্তিত্বই সংকটে পড়বে।












Discussion about this post