বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পু দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে ৫ই অগাষ্ট গোটা দেশবাসীকে লিখিত বাণী দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ফ্যাসিবাদী অপশাসনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয়ের দিন হল ৫ই অগাষ্ট। যে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি রাষ্ট্রপতি হয়েছেন, বিশেষ সম্মানের অধিকারী হয়েছেন, সেই সরকারের আমলে তিনি ফ্যাসিবাদী অপশাসন বলছেন। কেউ কেউ বলছেন, রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পু নিজে থেকে এই বাণী বলতে চাননি। তাকে হয়তো বন্দুকের নল ঠেকিয়ে এগুলি বলানো হয়েছে। আবার কেউ কেউ ধারণা করছেন, বঙ্গভবনের ভিতরে তাকে হত্যা করা হয়েছে কিনা? কিন্তু প্রত্যেকের জানা উচিত, মহম্মদ ইউনূসকে নিজের গদি বাঁচানোর জন্য এবং তার উপদেষ্টা মন্ডলী ও সরকারকে বাঁচানোর জন্য রাষ্ট্রপতিকে বাঁচিয়ে রাখবেন। সংবিধানের শেষ কথার রাষ্ট্রপতি। তা বুঝেছেন মহম্মদ ইউনূস। অর্থাৎ নিজেদের স্বার্থে তারা রাষ্ট্রপতির কোনও ক্ষতি হতে দেবেন না। এদিকে বিএনপির কার্যকলাপও অনেকগুলি প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।
যখন বাংলাদেশের অন্দরে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে পদত্যাগ করানোর একটি রব উঠেছিল, তখন বিএনপি প্রতিবাদ করেছিল। এমনকি বঙ্গভবনে গিয়ে যখন মাহফুজ আলম বঙ্গবন্ধুর ছবি টেনে নামিয়ে দিয়েছিলেন। তখন রুহুল কবির রিজভী বলেন, এই কাজটা একেবারেই ঠিক হয়নি। এখানেই ওয়াকিবহুল মহল বলছে, রাষ্ট্রপতিকে পদে টিকিয়ে রাখার জন্য শুধুমাত্র প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস মরিয়া নয়, নিজেদের প্রয়োজনে বিএনপিও সেটাই চায়। তার কারণ এই সংবিধান এবং রাষ্ট্রপতি না থাকলে দেশ অস্থিরতার দিকে এগিয়ে যাবে। এবং বিএনপি যে সম্ভাবনা রয়েছে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ক্ষমতায় হাতে নেওয়ার, সেটাও চলে যাবে। এমনকি অনেকে আশঙ্কা করেছিলেন, জুলাই ঘোষণাপত্রের সঙ্গে সঙ্গে হয়তো সংবিধান বাতিল করে দেওয়া হবে। কিন্তু সেটা কেউ তারা টিকিয়ে রেখেছে নিজেদের প্রয়োজনে। যদি সংবিধান বাতিল হতো সেক্ষেত্রে শুধু রাষ্ট্রপতি নয় আরও তিন বাহিনীর প্রধানের পদও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। এই কারণেই কোনও কুল না পেয়ে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ বা সংবিধান পরিবর্তনের কোনও কথাই উঠেনি। অথচ কয়েক মাস আগেও হাসনাত আব্দুল্লাহ থেকে শুরু করে মাহফুজ আলম এবং সারজিসরা বারবার বলে আসছিলেন, মুজিব বাদী সংবিধান ফেলে দিয়ে তারা নতুন বাংলাদেশ গড়বেন।
এদিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবন থেকে বের হননি। এমনকি ঈদের নামাজ পড়তে যেতেও দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ তাকে জনবিচ্ছিন্ন করে একরকম গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছিল। তবে সংবিধান ছুড়ে ফেলা বা রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করানোর ক্ষমতা নেই মহম্মদ ইউনুসের। কারণ সেই সংবিধান মেনেই অন্তর্বর্তী কালীন সরকার গঠিত হয়েছে। এবং তারই সংবিধানিক প্রধান হচ্ছে রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পু। ফলে তাকে সরিয়ে দিলে ইউনুস এবং তার উপদেষ্টা বাহিনীকে সরে যেতে হবে, যেটা বুঝেছেন তারা।












Discussion about this post