বদল হওয়া বাংলাদেশ কি আদেও ভালো আছে? নাকি বাংলাদেশ ফের পূর্ব পাকিস্তানে ফিরতে চাইছে? নাকি১৯৭৫ সালে ফিরতে চাইছে তারা? আসন্ন নির্বাচনে মাঝেই এমন প্রশ্ন উঠছে। কবে হবে বাংলাদেশের বহু প্রতীক্ষিত নির্বাচন? এরমধ্যেই অফিসার্স এড্রেসে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান বেশ কিছু মন্তব্য করেছেন। অনেকে বলছেন, সেনাপ্রধান নির্বাচনের কথা বলেছেন। এবং ঘুরিয়ে মহম্মদ ইউনূসের বিদায় চেয়েছেন তিনি। তবে কি ফের পদ্মাপাড়ে সেনা অভ্যুত্থান?
মহম্মদ ইউনূসের আমলে বাংলাদেশের মানুষ যে ভালো নেই, সেটা পরিসংখ্যান দেখলেই বোঝা যায়। চলতি বছরে, অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে জুলাই মাসে ৩৬৩ টি নির্যাতন হয়েছে। তাতে মৃত্যু হয়েছে ৩২২ জনের। তালিকায় নারী ও শিশু সংখ্যা ২০৮ জন। আত্মহত্যা করেছেন ১১৪ জন।
এদিকে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান মঙ্গলবার ঢাকা ক্যাক্টনমেন্টে অফিসার্স অ্যাড্রেস অনুষ্ঠানে এই কথা বলেন। জানা যায়, ওই দিন অনুষ্ঠানে সেনাকর্তারা কেউ কেউ সরাসরি আবার কেউ কেউ ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন। দেশ এখন নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করে সেনাপ্রধান বলেন, নির্বাচনের জন্য সেনাবাহিনী সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। একটা নির্বাচন যাতে সুষ্ঠ এবং অবাধ হয়, তার সবরকম সহযোগিতা করবে সেনাবাহিনী। দীর্ঘদিন ধরেই সেনাবাহিনী মাঠে রয়েছে। এই কথা উল্লেখ করে জেনারেল ওয়াকার বলেন, আগে কখনোই দীর্ঘ সময় ধরে সেনাবাহিনীকে মাঠে থাকতে হয়নি। তাই প্রত্যেকের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখা প্রয়োজন। দূরত্ব থাকলে সেটা দূর করতে হবে। এমনকি তিনি বলেন, একটি সেনা কর্তার সঙ্গে রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা নিয়ে তদন্ত চলছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্যি হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান। সেনা সদস্যরা দেশের হয়ে কাজ করবে। কিন্তু নির্দিষ্ট কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে তারা কাজ করতে পারে না। আর এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তাধীন। তিনি বলেন, সেই অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে অবশ্যই শাস্তি দেওয়া হবে। তবে সেটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রায়ালের মাধ্যমে নয়। একজন সেনা কর্তাকে গড়ে তুলতে রাষ্ট্রের বহু অর্থ খরচ হয়। এটা উল্লেখ করে এদিন সেনাপ্রধান বলেন, কেউ যাতে অপরাধী জড়াতে না পারে, সেদিকে নজর রাখতে হবে।
এছাড়াও সম্প্রতি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নিয়ে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সেটা নিয়েও উত্তর দেন সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, এসব অপপ্রচার দেখে বিভ্রান্ত হবেন না। নিজেদের কাজ করুন এবং নিজেদের কাজে কেউ যাতে প্রশ্ন তুলতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। অনেকে বলছেন, সেনা অভ্যুত্থান হতে পারে যে কোনও মুহূর্তে। তখন কি করবেন মহম্মদ ইউনূস? এদিকে এমন একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত একটি গণমাধ্যম দা ক্যাচ লাইন। সেখানে লেখা রয়েছে, ৫৪ বছর পর পূর্ব পাকিস্তানকে নিয়ে হিসাব-নিকাশের সময় এসেছে। স্পষ্ট দাবি, পূর্ব পাকিস্তানকে ফেরত পেতে চায়। এই নিবন্ধ প্রকাশিত হতেই নজরে এসেছে আওয়ামী লীগের। পাকিস্তানের এই মনোভাবকে তীব্র সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, মোহাম্মদ ইউনূসের আমলে বাংলাদেশ মোটেই সুরক্ষিত নয়। তিনি নাকি বিদেশের কাছে বাংলাদেশকে বিক্রি করে দিতে চান। এখন কোন দিকে এগোচ্ছে বাংলাদেশ, সেটাই সবথেকে বড় প্রশ্ন।










Discussion about this post