বিএনপি নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানকে শোকজ করা হয়েছে। সম্প্রতি বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ফজলুর রহমান জুলাই আন্দোলনে বিদ্রুপ ভাবে মন্তব্য করেছেন। অর্থাৎ তিনি হাসিনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এবং ছাত্র নেতাদের মুখোশ টেনে খুলে দিয়েছেন তিনি। সেখানে ছাত্র শিবিরকে দোষী করতে গিয়ে যে কথাগুলি তিনি বলেছেন, সেটা জুলাইয়ের আন্দোলনের সঙ্গে যায় না। সেই কারণে বিএনপি তাকে শোকজ করেছে। এবং বিএনপি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে শোকজের জবাব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে কি এই বিএনপি নেতাকে বহিষ্কার করবে দল?
বিএনপি নেতা ফজলুর রহমানকে শোকজ করাকে ঘিরে তোলপাড় পরে গিয়েছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে। তিনি শুধু বিএনপি নেতাই নন, তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। এমনকি গত বছর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেখা গিয়েছে। যে কয়েকজন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, তার মধ্যে ফজলুর রহমান একজন। তিনি কখনোই মুক্তিযুদ্ধকে ছোট করার বিষয়ে আমল দেননি। ফলে জুলাই আন্দোলন সম্পর্কে বেশ কিছু মন্তব্য করতে গেলে, সেগুলি বিতর্কিত হয়ে গিয়েছে। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার কুশপুতুল দাহ করা হয়েছে। এবং তাকে সকালের নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এবার মুখ খুলেছেন ফজলুর রহমান। এই বিষয়ে ফজলুর রহমান বলেছেন, তিনি এখনো পর্যন্ত শোকজের চিঠি পাননি। তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে এই তথ্য জেনেছেন। শোকোজের চিঠি হাতে পেলে তবেই তিনি এর উত্তর দেবেন।
আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে আসা ফজলুর রহমান, গত বছর ৫ই অগাস্টের পর থেকেই বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন। সর্বশেষ গত বছরের ৫ই অগাস্টের পতনের জন্য জামাতই ইসলামী এবং তার সহযোগী সংগঠনগুলিকে দায়ী করেছেন। তার ভাষায় এটা কোনও সাধারণ রাজনৈতিক ঘটনা নয়। বরং সুপরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। যার মূল পরিকল্পনাকারী জামাত। তিনি একটি টেলিভিশন টক শোতে বলেছেন, এই জুলাই আন্দোলনের মূল পরিকল্পনাকারী হল ইসলামী ছাত্র শিবির। তিনি দাবি করেছেন, এই সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার জন্য ষড়যন্ত্র করে আসছে। তিনি আরো বলেছেন, ৫ ই আগস্ট যে কালো শক্তি ঘটিয়েছে, সেই কালো শক্তির নাম হল জামাতই ইসলামী। তাদের অগ্রগামী শক্তির নাম হল ইসলামী ছাত্রশিবির। সারজিস আলম যারা অভিনয় করছে, তাদের আমি অভিনেতা বলব। এমনকি তিনি বলেন, জামাত পরিকল্পনা করে এই দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যেটার পিছনে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে। এমনটি তিনি বলেন, জামাতের প্রধান প্রতিবন্ধ হল বিএনপি। যদি একটি সুষ্ঠ নির্বাচন হয়, তবে বিএনপি দুই তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে ফিরবে।
অর্থাৎ ফজলুর রহমান বিএনপির হয়ে কথা বলেছেন। এবং জামাত পরিকল্পনা করে যে এই দেশে প্রতিষ্ঠিত হতে চাইছে এবং সরকারের কাছাকাছি যেতে চাইছে, সেটাই উল্লেখ করেছেন ফজলুর। এর পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনকে অভিনয় বলে উল্লেখ করাতেই তিনি রোষে পড়েছেন। অনেকে বলছেন, অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির চাপে পড়ে বিএনপি হয়তো ফজলুর রহমানকে বহিষ্কার করে দিতে পারে। এবং বিএনপি এই মুহূর্তে চায় নির্বাচন হোক। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে, নির্বাচন করাতে যেকোনও ইস্যুর সঙ্গে সমঝোতা করবে বিএনপি। তাই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ফজলুর রহমানের মত একজন নেতাকে ছেঁটে ফেলতে বিএনপি পিছুপা হবে না।
এখন দেখার, শেষমেষ বিএনপি কোনও পথ খুঁজে পায় কিনা, কিংবা কোনও উপায় না পেয়ে ফজলুর রহমানকে বহিষ্কার করে দেয় কিনা।












Discussion about this post