বরাবর দেখা গিয়েছে, ভারতের শত্রু দেশের তালিকায় অবশ্যই রয়েছে চীন এবং পাকিস্তান। তবে ইদানিং লক্ষ্য করা গিয়েছে, পঞ্চম স্থানে বাংলাদেশের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে ভারত। তবে আমেরিকার নজর ভারতের উপর পড়তেই চীনের সঙ্গে ভারতের সর্ম্পক সহজের দিকে এগোচ্ছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। আমেরিকা ভেবেছিল, ভারতের উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে চাপে ফেলবে। কিন্তু চীন বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়েছে। এদিকে এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। এদিকে বাংলাদেশের বহু রাজনীতিকরা চীন সফরে যাচ্ছেন। এমনকি তারা চীনের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করার চেষ্টা করছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান চীন সফরে গিয়েছিলেন। তার সফরটি দীর্ঘ। তবে কি বড়সড় কিছু ঘটতে চলেছে? আসলে চীন ও ভারতকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনীতি কোন দিকে এগোচ্ছে, সেটা নিয়ে বিভিন্ন মতামত দিচ্ছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। এদিকে আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক খুব একটা ভালো দিকে এগোচ্ছে না বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশ ভারতের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক ছাপিয়েছে। ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের এই চাপ ভারত চীন সম্পর্ককে কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। আমেরিকার শুল্কনীতিকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেছে বেজিং। বেজিংয়ের তরফে বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতিতে তারা ভারতের পাশে থাকবে। বৃহস্পতিবার নয়া দিল্লির এক অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভারতের উপরে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। এবং আরো শুল্ক বাড়ানোর হুমকি দিচ্ছে। চীন এটার বিরোধিতা করে।এবং তারা ভারতের পাশে থাকবে বলে জানায়। এমনকি চীনের তরফে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত শুল্কের হার প্রয়োগ করে, সেটিকে হাতিয়ার করে তারা বিভিন্ন দেশের থেকে শুল্ক আদায় করছে যুক্তরাষ্ট্র। অথচ বিশ্ব নিয়ে মুক্ত বাণিজ্যের সুফল ভোগ করছে তারা। তিনি বলেছেন, এমন কর্মকাণ্ডে নীরব থাকা বা আপোষ করা নিপীড়দের আরও সাহসী করে তোলে। অর্থাৎ চীন নীরব থাকবে না এবং তারা আপোষ করবে না।
এরমধ্যে খবর, ভারত যে সমস্ত পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করতো, সেগুলি নাকি আগেই বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল ভারতের তরফে। এবার জানা যাচ্ছে, সেই সমস্ত পণ্য চীন আমদানি করবে বলে খবর। অর্থাৎ আমেরিকার কতৃত্ব থাকছে না ভারতের উপর। চীন এবং ভারতের বন্ধুত্ব স্থাপন হলে যুক্তরাষ্ট্র কে ছড়াই ভারত পথ চলতে শুরু করবে।এদিকে ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার পুরোনো বন্ধুত্ব। রাশিয়া থেকে ভারত তেল কেনাতে বিশেষ ছাড় পাবে ভারত। সেই ঘোষণা চলে এসেছে। ফলে বলাই যায়, যুক্তরাষ্ট্রের কতৃত্ব কমে গিয়েছে এই অঞ্চলে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের যে শুল্ক রাজনীতি, সেটা ধোপে টিকলো না।
অন্যদিকে সুযোগ বুঝে বাংলাদেশ চাইছে, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে ফায়দা তুলতে। কারণ আমেরিকার আধিপত্যবাদ এই অঞ্চলে থাকছে না, সেটা ভারত চীনের জোটের ফলে। অনেকে বলছেন, ভারত চীন যেকোনও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ইস্যুতে বড় ফ্যাক্ট হয়ে দাঁড়াবে।
সম্প্রতি বেশ নজরে এসেছে বাংলাদেশের সমস্ত স্টেক হোল্ডার চিনামুখী হচ্ছে। যেন কোনভাবেই চীন ভারতের কোনও ধরনের ইন্ধনে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের অবস্থানে না যায়। রাজনৈতিক দলগুলো চেষ্টা করছে, চিন যেন তাদের সমর্থন দেয়। রাজনৈতিক দলগুলো চেষ্টা করছে, চীন যেন তাদের সমর্থন দেয়।তারপর এক ধরনের পরিবেশ তৈরি করে, যেটা বিএনপি আগে সফর করেছে। এখন এনসিপি করছে। সেনাবাহিনীর প্রধান সফর করছেন।
এদিকে আমেরিকার করিডোর দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের সরকার পিছিয়ে আসছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীন, রাশিয়া এবং ভারত…এই তিনটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের যদি জোট দেখা যায়, তবে বাংলাদেশের ব্যাপারে একটি অবস্থান স্পষ্ট করে ফেলে, তাহলে যার পক্ষে ঘোষণা যাবে, তারা লাভবান হবে এবং যার বিপক্ষে যাবে তারা ক্ষতিগ্রস্থ হবে। এদিকে বলা হচ্ছে, যদি খারাপ পরিস্থিতি হয়, তবে সেটা মোকাবিলা করা কঠিন হবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের।












Discussion about this post