বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অন্যতম উপদেষ্টা আইনজীবী ফজলুর রহমান। সম্প্রতি একটি টেলিভিশন টক শো-তে তিনি বলেছেন, ‘যারা ৫ অগস্ট ঘটাইছে, সেই কালো শক্তির নাম হল জামায়াতে ইসলাম। তাদের যে অগ্রগামী শক্তি তার নাম হইল ইসলামী ছাত্রশিবির। সারজিস আলমরা, যারা ওই অভ্যুত্থানের অভিনয় করছে, ৫ অগস্টের অভিনেতা যারা, আমি তাদেরকে নেতা বলতে চাই না। তাদের আমি অভিনেতা বলব। সেই আলবদর, আল শামস, জামায়াতে ইসলাম আমরা মনে করেছিলাম ৫৪ বছর পর পূর্বপুরুষের পরাজয়ের গ্লানি তারা ভুলে গেছে। কিন্তু না, সেই পরাজয়ের গ্লানি দ্বিগুণ আকারে তাদের মধ্যে এসেছে। রবিবার তিনি এই মন্তব্য করেছিলেন। আর সোমবার সকাল থেকেই ফজলুর রহমানকে গ্রেফতারের দাবিতে রাজধানী ঢাকার সেগুনবাগিচায় তাঁর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ শুরু করছেন একদল ছাত্র। মূলত মধ্যরাত থেকেই ‘বিপ্লবী ছাত্র জনতা’ ব্যানারে ঢাকার কনকর্ড টাওয়ারের সামনে তাঁদের বিক্ষোভ চলছে। পাশাপাশি ‘বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ’, ‘জুলাই রাজবন্দী’সহ কয়েকটি সংগঠনের নেতা-কর্মীরা এ অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই সংগঠনগুলি মূলত জামাত ও এনসিপির ছায়া। এমনকি ফজলুর রহমানকে প্রাণে মারার হুমকিও শোনা গিয়েছে ওই বিক্ষোভ থেকে। বিএনপি নেতা ফজলুর রহমান গণ-অভুত্থান এবং হাসিনা সরকারের পতনকে জামাত-ই-ইসলামির ষড়যন্ত্র বলে বর্ণনা করায় আশ্চর্যজনকভাবে তাঁর দলই ক্ষুব্ধ। রবিবার রাতেই তাঁকে এহেন মন্তব্যের জন্য কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বিএনপি। জানা যাচ্ছে, বিএনপি-র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর পাঠানো সেই কারণ দর্শানোর নোটিসে বলা হয়েছে, ‘আপনি জুলাই-অগস্ট ঐতিহাসিক গণ অভ্যুত্থান নিয়ে ক্রমাগত কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে আসছেন। আত্মদানকারী শহিদদের নিয়ে যে বক্তব্য দিচ্ছেন তা সম্পূর্ণরূপে দলীয় আদর্শ ও গণঅভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী। এই গণঅভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন নিয়ে আপনার বক্তব্য জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। আপনার বক্তব্য দলের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার সুপরিকল্পিত চক্রান্তের প্রয়াস বলে অনেকেই মনে করেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার এ ধরনের বীরোচিত ভূমিকাকে আপনি প্রতিনিয়ত যে অপমান করছেন, এর জন্য তাঁর বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানাতে তাঁকে ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছে বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সোমবার এই সব নিয়ে মুখ খুলেছেন বিতর্কিত বিএনপি নেতা ফজলুর রহমান। এদিন দুপুরে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির ভবনে ল-রিপোর্টার্স ফোরামের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমান। তাঁর দাবি, আমি যে কথা বলছি, ছাত্ররা যদি মনে করে বা অন্য সকলে মনে করে আমি জামায়াত-শিবির, মুক্তিযুদ্ধ-বিরোধী লোকজনের বিরুদ্ধে আমি কথা বলছি, আমি তা বলব। তাঁর আরও দাবি, আমার কথার মধ্যে যদি, কারও অসম্মান করে থাকি, আঘাত করে থাকি, তারা মনে করে, তাহলে তারা এটার পলিটিক্যালি জবাব দেবে, আমিও তাদের জবাব দেব। দলকেও আমি নির্দিষ্ট সময়ে জবাব দেব।
ফজলুর রহমানের দাবি, তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। তিনিও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে একজন এরিয়া কমান্ডার হিসেবে লড়াই করেছিলেন। আজ জীবনের শেষ দিকে এসে আমি আমার মত পরিবর্তন করতে পারবো না। কিন্তু আমার এক মন্তব্যের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা আমার বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছে, অনেকে কুরুচিকর মন্তব্য করছেন।
সুত্রের খবর, প্রবীন এই নেতার বিরুদ্ধে বিএনপি খুব শীঘ্রই কড়া কোনও ব্যবস্থা নিতে পারে। দলের মূল রাশ এখন কার্যনির্বাহী চেয়ারপারসন তারেক জিয়ার হাতে। জানা যাচ্ছে তিনি ফজলুর রহমানকে বহিষ্কারের প্রস্তাবে সবুজ সংকেত দিয়ে দিয়েছেন। যদিও রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সবকিছুই নির্ভর করছে বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার উপর। কারণ ফজলুর রহমান তাঁরই রাজনৈতিক উপদেষ্টা। শেষ মুহূর্তে স্বয়ং বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া হস্তক্ষেপ না করলে বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে দিতে পারে বিএনপি। রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত, এই মুহূর্তে জামাত ও এনসিপিকে চটাতে চাইছেন না তারেক রহমান। কারণ, ভোট হলে তাঁরই প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। সেই কারণেই অহেতুক বিতর্ক ঘাড়ে নিতে নারাজ বিএনপি। সেই কারণেই মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানকেও বলি দিতে প্রস্তুত তারেক রহমান জিয়া।












Discussion about this post