বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের আদলে বুয়েট ছাত্র ছাত্রীরা যে আন্দোলন শুরু করেছে, সেটা একটি বড় লাগাতার আন্দোলনে রূপ পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারা মঙ্গলবার শাহবাগে ৫ ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে এবং শেষ করে লং মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচি দিয়ে। তারা লংমার্চ টু ঢাকা কর্মসূচিতে সারা বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ছাত্রীদের ঢাকা অভিমুখে আসার আহ্বান জানান। এবং এর পাশাপাশি তারা আহ্বান জানান, এইচএসসি পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের। তারা আবার পরে যমুনা অভিমুখী কর্মসূচিও পালন করতে চায়। এমনকি এতে ঢাকা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পড়ুয়ারা। অর্থাৎ সারা ঢাকা থেকে ছাএদের জড়ো করার কাজটি খুব দ্রুততার সঙ্গে মঙ্গলবার শুরু হয়েছে। এবং বুধবারই তারা ঘটাতে পেরেছে আন্দোলনে। এমনকি এই আন্দোলনটি যমুনাতে যাওয়ার সময় তাদের ওপর কাঁদানো গ্যাস, টিয়ার গ্যাস ছোড়া হয়েছে। এমনকি ছাত্রদের অভিযোগ, তাদের ওপর মারাত্মকভাবে লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ।
এখন এই আন্দোলনটি লাগাতার হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে বলে অনেকে জানাচ্ছেন। তার কারণ এই ছাত্ররা ঘোষণা করে দিচ্ছে, যে তারা কমিটি প্রত্যাখ্যান করেছে। যে কমিটিতে বুধবার আন্দোলনের মুখে সরকার ঘোষণা করেছে, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এবং ডিপ্লোমা কলেজের ছাত্রদের মাধ্যমে তাদের দাবি দাওয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে তারপর একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য, সেই কমিটি প্রত্যাখ্যান করেছে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্ররা। এবং বুয়েট শিক্ষার্থীরা বলেছেন, শুধু তারা কমিটি প্রত্যাখ্যান করেছে তাই নয়, তারা স্বরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ক্ষমা সহ পাঁচ দফা দাবি রেখেছেন। এমনকি বলা হয়েছে, যদি এই বাস্তবতা দাবি মানা না হয়, তবে প্রয়োজনে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে লাগাতার অবরোধ চালিয়ে যাবেন।
আসলে তাদের দাবি ছিল, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের নামের আগে ইঞ্জিনিয়ার লিখতে না দেওয়া। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের পদোন্নতি দিয়ে নবম গ্রেডের উন্নীত না করা এবং দশম গ্রেটে চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে স্নাতক ইঞ্জিনিয়ারদের সুযোগ দেওয়া।
এর আগে জনপ্রশাসনের এর সচিব জানিয়েছিলেন, যাতে সেই দাবিগুলি ছাত্ররা স্মারকলিপি আকারে জমা দেন। তিনি জানিয়েছিলেন, আলোচনা ছাড়া সম্ভব নয়। কিন্তু সেই দিকে না হেঁটে, কেন ওই ছাত্র-ছাত্রীরা গোটা দেশব্যাপী আন্দোলন করার মনোভাব পোষণ করল? এটাই ভাবাচ্ছে রাজনৈতিক মহলকে। এমনকি এই আন্দোলন অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। এমনকি এই প্রশ্ন উঠছে, এই আন্দোলন শুধুমাত্র কি তাদের এই তিন দফা দাবির মধ্যেই সীমিত থাকবে? নাকি এর ব্যাপকতা আরো বাড়বে? কারণ জুলাই গনঅভ্যুত্থানের আন্দোলনও সরকারের অপ্রত্যাশিতভাবে ব্যাপকতা ধারণ করেছিল। ফলে প্রশ্ন তো উঠছেই।












Discussion about this post