মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কি অসুস্থ? তাঁর অসুস্থতা কিসের? কতটা অসুস্থ তিনি? এরকম বহু প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে দুনিয়া। কারণ এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ব্যক্তিত্ব হলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকার ইতিহাসে তিনিই সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট। যদিও নি ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় নিজেকে তাঁর প্রতিপক্ষ প্রাক্তন মার্কিন জো বাইডেনের চেয়ে তীক্ষ্ণ, শক্তিশালী এবং স্বাস্থ্যবান হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। কিন্তু ট্রাম্পের হাতের ক্ষত প্রথম নজর কেড়েছিল চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারী। ফরাসি রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর হোয়াইট হাউস সফরের সময় একজন গেটি ফটোগ্রাফার ট্রাম্পের হাতের একটি ক্লোজড ছবি তুলেছিলেন। সেই ছবিটিতে দেখা গিয়েছিল যে তাঁর হাতের পিছনে মেকআপের মতো কিছু লাগানো আছে। এরপরই শুরু হয়ে যায় জল্পনা। অনেকেই দাবি করতে থাকেন, ওই মেকআপটি আসলে একটি বড় ক্ষত সম্পূর্ণরূপে আড়াল করার চেষ্টা। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে ওয়াশিংটন এক্সামিনারের একটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিজেই দাবি করেছিলেন,প্রচারের সময় অতিরিক্ত উৎসাহী সমর্থকরা তার হাত খুব জোরে চেপে ধরেছিলেন, তাত্ই আঘাত লেগেছে। কিন্তু আরও ছবি সামনে আসার সাথে সাথে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ব্যাখ্যাটি অনেকেই মানতে নারাজ ছিলেন। ট্রাম্পের হাত নিয়ে যখন প্রশ্ন তুঙ্গে, ঠিক তখনই একটি নতুন বিষয় সামনে আসে। নিউ ইয়র্ক ম্যাগাজিনের খবর অনুযায়ী, ১৩ জুলাই নিউ জার্সিতে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ ফাইনালে ট্রাম্পের গোড়ালি লক্ষণীয়ভাবে ফোলা অবস্থায় দেখা যায়। আরও ছবি ছড়িয়ে পড়ে। এরপর আরও জল্পনা শুরু হয়। এবার এমন খবর ছড়াচ্ছে তাতে গোটা বিশ্বই কৌতুহলী হয়ে পড়ছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নাকি অসুস্থতার জন্য সরে দাঁড়াতে পারেন। আর সেই জল্পনা আরও উস্কে দিয়েছেন আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্স। তিনি সম্প্রতি দাবি করেছেন, যদি ভয়াবহ কোনও বিপর্যয় হয়, তা হলে আমি মার্কিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিতে রাজি।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভান্স বিপর্যয় বলতে কী বুঝিয়েছেন, তা স্পষ্ট করে ব্যাখ্যা করেননি। ফলে জল্পনা আরও বেড়েছে। কেউ কেউ দাবি করছেন, ৮০ ছুঁইছুঁই ডোনাল্ড ট্রাম্প অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব ছাড়তে পারেন। আবার কেউ কেউ দাবি করছেন, শুল্ক-যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেই অসন্তোষ দানা বাঁধতে শুরু করেছে। ট্রাম্পকে সরিয়ে দেওয়ার দাবিও উঠছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট সেই দিকেও ইঙ্গিত করতে পারেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনও কারণে পদচ্যুত না-হলে বা ইস্তফা না দিলে ২০২৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত আমেরিকার প্রেসিডেন্ট থাকার কথা ডোনাল্ড ট্রাম্পেরই। আর সেই মতো তাঁর ডেপুটি থাকার কথা জে ডি ভান্সের। যদিও ওই সাক্ষাৎকারে জে ডি ভান্স ট্রাম্পের অসুস্থতা নিয়ে বলেছেন, আমি নিশ্চিত যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভাল আছেন। তিনি পুরো মেয়াদ শেষ করবেন। সেই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, তবে ঈশ্বর না করুন যদি কোনও ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে, আমি তার জন্য প্রস্তুত। গত ২০০ দিনে আমি যে অভিজ্ঞতা পেয়েছি, তা বিশেষ ‘অন-দ্য-জব ট্রেনিং’। ভান্সের এই মন্তব্য নিয়েই সোড়গোল পড়ে গিয়েছে দুনিয়াজুড়ে। যদিও হোয়াইট হাউসের চিকিৎসক ডাঃ শন বারবাবেলা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘ক্রনিক ভেনাস ইনসাফিসিয়েন্সি’ ধরা পড়েছে, যা ৭০ বছরের ঊর্ধ্বে অনেকের মধ্যেই দেখা যায় এবং সাধারণত ক্ষতিকর নয়। আবার পায়ের গোড়ালি ফোলাকে কেন্দ্র করেও নানান জল্পনা চলছে।
কূটনৈতিক মহল মনে করছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতি দেশের অভ্যন্তরেই অসোন্তেষ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ভারত ও ব্রাজিলের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খুচরো বাজারেই দাম বাড়তে শুর করেছে। চাল-ডাল থেকে শুরু করে কলা-ভোজ্য তেল, সবকিছুর দাম হু হু করে বাড়ছে। অন্যদিকে মার্কিন গাড়ি শিল্প, ভারী ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প ধাক্কা খেতে শুরু করেছে। কারণ এর বেশিরভাগ পার্টস ভারত থেকে আমদানি করে মার্কিন সংস্থাগুলি। আবার ট্রাম্পের জারি করা বেশিরভাগ শুল্ককেই বেআইনি বলে রায় দিয়েছে মার্কিন আদালত। সবমিলিয়ে দেশের ভিতরেই প্রবল চাপে সরকার। রিপাবলিকান দলের একাধিক সেনেটরই এখন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তোপ দাগতে শুরু করেছেন বলে জানা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জে ডি ভান্সের মন্তব্য যথেষ্টই ইঙ্গিতপূর্ণ। এই পরিস্থিতিতে যদি ভারতের জামাই জে ডি ভান্স মার্কিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পান, তাহলে ভারতের জন্য সুবিধাই হবে বলে মনে করছেন একাধিক মহল। উল্লেখ্য জে ডি ভান্সের স্ত্রী ভারতের হায়দরাবাদের আদি বাসিন্দা। তিনি সম্প্রতি ভারতে এসে শ্বশুরবাড়িতে ঘুরেও গিয়েছিলেন।












Discussion about this post