চীনের তিয়ানজিনে দুই দিন ব্যাপী সফর শেষে সোমবার রাতে দিল্লিতে ফিরে এসেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি সেখানে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন বা এসসিও জোটের শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেন। আন্তর্জাতিক মহল বলছে, এই সম্মেলনের প্রভাব কিছুদিন পরই বোঝা যাবে। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যে প্রভাব পড়বে সেটা হলফ করে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রথমত, বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান যেকোনও মুহূর্তে পালাতে পারেন। তবে এটা ভারতের কথা শুনে নাকি হাসিনাকে ফেরাতে নাকি নিজেকে বাঁচানোর জন্য দৌড়াদৌড়ি করছেন, সেটা সময় বলবে। অন্যদিকে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করছেন মহম্মদ ইউনূস। ফ্রান্স, ইতালি, জার্মানি, স্পেন..যেকোনও একটি ইউরোপিয়ান দেশে থাকার জন্য ব্যবস্থা করছেন। জানা যাচ্ছে, ফ্রান্স, ইতালি নাকি না করে দিয়েছে। বাকি রয়েছে মাত্র কয়েকটি দেশ।
এরমধ্যে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে তৎপরতা বাড়িয়েছে। পরপর তিনটি মিছিল করেছে শেখ হাসিনার দল। একটি হয়েছে ধানমন্ডি এবং অন্যটি বনানীতে। আরও একটি মিছিল হয়েছে গুলশানে। মিছিলে অংশগ্রহণ ছিল বেশ অনেক মানুষের। তারা সবাই আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী তাই নয়, সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও ছিল। অর্থাৎ বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ যে ধীরে ধীরে নিজেদের ক্ষেত্র বাড়াচ্ছে, সেটা স্পষ্ট।
এদিকে খবর, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস প্রাণের আশঙ্কা করছেন। তিনি মনে করছেন, যে কোনও সময় তিনি খুন হতে পারেন। এই পরিস্থিতিতে কোনও পথ খুঁজে না পেয়ে ঢাকাতে অনুষ্ঠিত ভারতের হাইকমিশনার প্রনয় ভার্মার সঙ্গে যোগাযোগ করে সেফ এক্সিট খুজছেন। জানা যাচ্ছে, সেখানে ভারত তিনটি শর্ত দিয়েছে। নির্বাচন নিয়ে জটিলতার মধ্যে পরে গিয়েছেন ইউনূস। তাই কোনও কিছু কুল না পেয়েই ভারতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। ভারত নাকি তিনটি শর্ত দিয়েছে। একটি হল, মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে যারা রয়েছে, তাদের নিশর্ত মুক্তি দিতে হবে। এমনকি হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ প্রভুকেও। দ্বিতীয়ত, শান্তিপূর্ণভাবে আপনাকে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। তৃতীয়ত, ভারতের সঙ্গে টার্মিনাল হয়ে যেকোনও জায়গায় যেতে পারেন। তবে একা। কিন্তু ভারতে থাকা চলবে না। এই তিনটি শর্ত নাকি দেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, বাংলাদেশে নির্বাচন দিলেও তিনি বিপদে পড়বেন, আর না দিলেও বিপদে পড়বেন।
তারমধ্যে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে বড় কিছু ঘটাতে পারে, এই আশঙ্কায় পুলিশ এবং গোয়েন্দারা তৎপর। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতে থেকে শেখ হাসিনা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আতঙ্কে রাখছেন। যেটা হাসিনার জয় হিসাবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এখন দেখার, বাংলাদেশের সেনাপ্রধান এবং প্রধান উপদেষ্টার পরিস্থিতি কি হয়!












Discussion about this post