ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে পুরো ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাসে মোতায়েন করা হয়েছে দুই হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য। নিষিদ্ধ করা হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র বহন। তেমন কোনও গন্ডগোলের ঘটনা না ঘটলেও, ঘটনাপ্রবাহ আতঙ্ক উসকে দিচ্ছে। একজন ভিপি প্রার্থী থানায় জিডি করেছেন। জীবন শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন, এমন কারণ জানিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ এই ডাকসু নির্বাচন আদেও নির্বিঘ্নে হবে কিনা, সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এমনকি নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়েও অনেকে আতঙ্কে ভুগছেন।
ডাকসু নির্বাচনের আগের দিন পুলিশ বাহিনী টহল দিয়েছে গোটা এলাকা। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতে বহিরাগতরা প্রবেশ করতে না পারে, সেই কারণে নজরদারি আগেই বাড়িয়েছিল। কিন্তু যে খবরগুলো আতঙ্ক তৈরি করেছে, তার মধ্যে আগের দিন রাতে ভিপি প্রার্থী শামীম হোসেন নিজের জীবনের জন্য শঙ্কা বোধ করছেন। সেই কারণে শাহবাগ থানায় জিডি করেছেন। তিনি নিজের পরিচয় দিয়ে জিদিতে লিখেছেন, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী হিসাবে অংশগ্রহন করেছেন। এর মূল কারণ, ছাএদের জন্য একটি স্বাধীন প্লাটফর্ম তৈরি করা। ছাত্রদের নিজস্ব কন্ঠস্বর তুলে ধরায় তার প্রয়াস। এমনকি তিনি লেখেন, এই ধারণাটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলায় কিছু মহল তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। গত ২৮ তারিখ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান করাকালীন সময়ে অনলাইন এবং অফলাইনে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যক্তিগতভাবে তাকে আক্রমণ করা হয়। এমনকি বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়। এই প্রোপাগান্ডা গুলির মাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এমনকি উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে নানা ট্যাগিং দেওয়া হচ্ছে। এই কারণেই তার জীবন হুমকির মধ্যে পড়েছে। এবং সেই আশঙ্কা থেকেই শাহবাগ থানায় তিনি জিডি করেন। এমনকি আর একজন ভিপি প্রার্থী আবেদুল ইসলাম, তিনি বলেন ঘুম থেকে উঠে দেখি ফেসবুক আইডি ডিসেবল। এমনকি জানা যাচ্ছে, ডাকসুতে ছাত্রদল প্রার্থী আবিদের পর হামিমের ফেসবুক আইডি হ্যাকড। অর্থাৎ একের পর এক ফেসবুক আইডি হ্যাক করা হচ্ছে। এর জন্য ছাত্রদল ছাত্রশিবিরকে দায়ী করছে। জানা যাচ্ছে, ডাকসুতে এবার মোট ভোটার সংখ্যা ৩৯ হাজার ৮৭৪। ৫ ছাত্রী হলে ১৮ হাজার ৯৫৯, আর ১৩ ছাত্র হলে এ সংখ্যা ২০ হাজার ৯১৫।
ডাকসুতে ২৮টি পদের বিপরীতে ৪৭১ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যার মধ্যে বিভিন্ন পদে ৬২ জন ছাত্রী রয়েছেন। আর প্রতি হল সংসদে ১৩টি করে ১৮টি হলে মোট পদের সংখ্যা ২৩৪। এসব পদে ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন ১ হাজার ৩৫ জন। তবে শেষমেষ নির্বিঘ্নে ভোট হয় কিনা এবং শেষমেষ কে জয়ী হয় সেটাই দেখার।












Discussion about this post