গত এক মাসে এক ঝাঁক চিন সফর। শুরু জামাত নেতাদের দিয়ে। দলের নেতা সফিকুর রহমানের নেতৃত্বে নয় সদস্যের এক প্রতিনিধিদল চিন গিয়েছিলেন। বলা হচ্ছে, চিন সরকারের আমন্ত্রণে এই সফর অনুষ্ঠিত হয়। চিন গিয়েছিলেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার উজজামান। তিনি গিয়েছিলেন ২১ অগাস্ট। ছিলেন ২৭ অগাস্ট পর্যন্ত। সাংহাই কো-অপারেশনের বৈঠকের আগে তাঁর এই সফর। সরকারি ভাষ্যে বলা হচ্ছে, সফরের মূল লক্ষ্য ছিল দ্বিপাক্ষিক স্তরের সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। জেনারেল ওয়াকার চিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং পিপলস লিবারেশন আর্মির উর্ধ্বতন কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রশ্ন হল, চিন কেন বাংলাদেশের সেনা প্রধানকে আমন্ত্রণ করল? এর মূল কারণ, চিন বাংলাদেশকে অস্ত্র সরবরাহ করে থাকে। সেনাপ্রধান ওয়াকারের চিন সফরের উদ্দেশ্য ছিল এইচ কিউ সেভেন্টিন – ভূমি থেকে আকাশ, এফকে থ্রি মাঝারি পাল্লার প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রয় বা অধিগ্রহণের ব্যাপারে আলোচনা করা।
এর পরে চিন সফর করেন এনসিপি নেতারা। দলের আহ্বায়ক নাইদ ইসলামের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধিদল গত ২৬ অগাস্ট চিন সফরে যান। তার আগে তারা গিয়েছিলেন মালয়েশিয়া। সফরের উদ্দেশ্য চিনের সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিকদলগুলির সম্পর্ক গভীর করা। হাসিনা পরবর্তী বাংলাদেশের সঙ্গে চিন সম্পর্ক তৈরিতে আগ্রহী। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে চিন কিন্তু বিএনপিকে সে দেশে আসার জন্য আমন্ত্রণ করেনি। এরপর বাংলাদেশ সফর করেন সে দেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুল রহমান। তাকে কিন্তু চিন আমন্ত্রণ করেনি। তিনি চিনের বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে অংশ নেন। চিনের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ২৮ অগাস্ট সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, ২৬টি দেশের প্রতিনিধিরা তাদের বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে অংশ নেন। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে মহম্মদ ইউনুস কিন্তু বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে ছিলেন না। প্রশ্ন হচ্ছে কেন?
এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে বাংলাদেশের তদারকি সরকারের আমলে বাহিনীর শীর্ষকর্তাদের সাম্প্রতিক অতীতে ঘন ঘন চিন সফর লক্ষ্য করা যায়নি। সফর তো হল। কিন্তু তার ফলাফল কী। সফরের ঘোষিত উদ্দেশ্য ছিল একরকম, আর পরোক্ষ কারণ। বাংলাদেশ চরম অর্থ সংকটে রয়েছে। এই অবস্থায় তারা অস্ত্র কিনবে এটা অলীক কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়। সফরের অঘোষিত উদ্দেশ্য হল আমেরিকার দখলদারি থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করা। উদ্দেশ্য, যেমন করে হোক বাংলাদেশে একটা নির্বাচন করিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় আসীন করা। বাংলাদেশে সামরিক ঘাঁটি বসানোর ছাড়পত্র নেওয়া, সেন্ট মার্টিন আইল্যান্ডের দখল নেওয়া। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের আধিপত্য কায়েম রাখতে বাংলাদেশে একটি কাঠপুতলুকে বসানো। সেই কাঠপুতুলটি হল বিএনপি। আমেরিকা তাকে চিহ্নিত করে ফেলেছে। আমেরিকা পাশাপাশি ভারতকেও চাপে রাখতে চাইছে। ঢাকার ওপর দিল্লির প্রভাব যাতে খর্ব করা যায়, সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। স্বাভাবিকভাবেই চিন ও ভারত চাইবে এর ঠিক উলটোটা করতে।
তবে ঢাকার সরকারি ভাষ্যে বলা হয়েছে, জেনারেল ওয়াকার পিপলস লিবারেশন আর্মির স্থল বাহিনীর পলিটিক্যাল কমিশনার চ্যান হুইসহ উচ্চপদস্থ চিনা সামরিক এবং বেসামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সেনাপ্রধানের সঙ্গে আলোচনায় দ্বিপাক্ষিকস্তরের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় ছিল বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, দুই দেশের কৌশলগত সহযোগিতা, জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক, বাস্তুচ্যূত মায়ানমারের নাগরিকদের প্রত্যাবর্তন সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post