বাংলাদেশ ব্যাংকে রিসার্ভ বাড়ছে। সরকার যথেষ্ট বাহবাও পাচ্ছে। কারণ দেশের অর্থনীতি বাড়ার জন্য সুখবর এটা। কিন্তু এরমধ্যে খবর, গত তিন মাসে কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে ৬ হাজার। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, তিন মাসে কি এমন বিপ্লব ঘটল, যার জন্য ৬০০০ বেশি কোটিপতি হয়ে গেল? অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, এতে দেশ ভালোর দিকে এগোচ্ছে নাকি অশনি সংকেত?
বাংলাদেশের একাধিক গণমাধ্যম খবর করছে, যেখানে বলা হচ্ছে, তিন মাসে কোটি টাকার ব্যাংক হিসাব বেড়েছে ৬ হাজার। কোটি টাকার হিসাব রয়েছে, এমন হিসাবে জুন শেষে জমা হওয়া অর্থের পরিমাণ ৮ লক্ষ ৮০ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা। ব্যাংক গুলিতে কোটি টাকার জমা রাখা হিসাবের সংখ্যা জুন প্রান্তিকের শেষে আগের তিন মাসের থেকে বেড়েছে ৬ হাজার।
এদিকে, মার্চ শেষে সব হিসাব মিলিয়ে মোট আমানত ছিল ১৯ লক্ষ ২৩ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা। জুন শেষে তা দাঁড়িয়েছে ১৯ লক্ষ ৯৬ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকায়। তিন মাসে আমানত বেড়েছে প্রায় ৭৩ হাজার ৭৫ কোটি টাকা।
এই সময়ের মধ্যে দেশে ব্যাংক হিসাবের মোট সংখ্যা ১৬ কোটি ৫৭ লক্ষ ৬৮ হাজার। ৮২১টি থেকে বেড়ে হয়েছে ১৬ কোটি ৯০ লক্ষ ২ হাজার ৬৭১টি। অর্থাৎ, নতুনভাবে প্রায় ৩২ লক্ষ ৯৫ হাজার ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। একই সময়ে ব্যাংক খাতে আমানতের পরিমাণও বেড়েছে। অর্থাৎ তিন মাসে কোটিপতি হিসাবগুলিতে জমা বেড়েছে প্রায় ৯৭ হাজার ১১৯ কোটি টাকা।
সেই টাকা কোথা থেকে এল, এখন সেঠাই সবথেকে বড় প্রশ্ন। অনেকে আবার এটার সঙ্গে চাঁদাবাজির মিল খোঁজার চেষ্টা করছেন। কারণ গত কয়েক মাসে দেশে যেভাবে চাঁদাবাজি বেড়েছে তাতে, অনেকে বলছেন, দিনে স্লোগান এবাং রাতে চাঁদাবাজির ঘটনা। আর সেটার প্রতিফলন ব্যাঙ্কে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই ৬ হাজার ব্যক্তি কারা? তাদের আয়ের উৎসই বা কি? এই টাকা যদি চাঁদাবাজির মাধ্যমে আসে, তবে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে সারা দেশে এই আলোচনা চলছে, যেখানে বলা হচ্ছে, গত তিন মাসে যেভাবে চাঁদাবাজির অভয়ারন্য তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে, তাতে একদম স্পষ্ট হয়ে গেল বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের এই পরিসংখ্যান। অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্যাঙ্ক খাতে কোটিপতি হিসাব বাড়ার বিষয়টি দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক দিক অবশ্যই। এটি ব্যবসা-বাণিজ্যে টাকার প্রবাহ এবং জনগণের আমানত রাখার সক্ষমতা বৃদ্ধিকে নির্দেশ করে। তবে সেই টাকা কীভাবে আসছে, কোনও অসৎ পথে আসছে কিনা, সেটা খতিয়ে দেখা উচিত। তার কারণ বাংলাদেশের অন্তবর্তীকালীন সরকারে থাকা উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তাদের নামও সেই তালিকায় রয়েছে কিনা, সেটা দেখা উচিত বলে বলছেন সে দেশেরই বহু মানুষ। এখন দেখার, এই বিষয়ে, শেষমেশ আর কি পরিসংখ্যান আসে!












Discussion about this post