আশঙ্কা ছিলই। এবার সেই আশঙ্কায় সত্যি হল। নিউ ইয়র্ক পাড়ি দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। আর তার আগে থেকেই সেখানে উত্তেজনা। বিমানবন্দরেও আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের সরব হতে দেখা গিয়েছে। এমনকি বিএনপি জামাতের নেতা কর্মীদেরও সরব হতে দেখা গিয়েছে। এরইমধ্যে একজন অনলাইন এক্টিভিস্ট, যিনি মূলত জামাতপন্থী বলে পরিচিত, তাকে লাঞ্ছিত করেছে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা। এমনটাই অভিযোগ। পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করেছেন এবং নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছে। এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। খবর এসেছে, বিমানবন্দরে ঘটেছে আরও একটি ঘটনা। একদিকে যখন আওয়ামী লীগের নেতা, কর্মী-সমর্থক বিক্ষোভ করছে ইউনূসের বিরুদ্ধে, তখন বিএনপি এবং জামাতের লোকজন স্বাগত জানাচ্ছে ইউনূস ও তার সঙ্গী সাথীদের। অনেকে বলছেন, বিদেশের মাটিতে এই দুটি রাজনৈতিক দলের সমর্থক আওয়ামী লীগকে মোকাবিলা করার জন্য, এটা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এমনকি ইউনূস সরকারের এই কৌশল সফল হয়েছে। সেই কারণে বিদেশের মাটিতে বিএনপি ও জামাতের সমর্থন পেয়েছে অন্তবর্তী সরকার। এমনকি জাতিসংঘের অধিবেশনের সামনে বিভিন্ন ঘটনা ঘটানোর প্রস্তুতি চলছে বলেও খবর।
এর আগেও প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস বিদেশ সফরে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন। এবারও তেমনটাই আশঙ্কা করা হয়েছিল। আর সেই আশঙ্কায় পদে পদে মিলে গেল। আমেরিকা সফরে আওয়ামি লীগের বিক্ষোভ সামলাতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামির দুই শীর্ষ নেতা এবং এনসিপির দুই নেতা-নেত্রীকে মানব ঢাল করে নিয়ে গিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মুদ ইউনূস। কিন্তু তাতেও রক্ষা হল না।
জানা গিয়েছে, জামাতপন্থী একজন ব্লগারকে লাঞ্ছিত করেছে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে। জানা যায়, আমেরিকার স্থানীয় সময় ২ সময়, বিমানবন্দরে ল্যান্ড করার কথা ছিল প্রধান উপদেষ্টার, তখন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যেমন বিমানবন্দরের বাইরে বিক্ষোভ করেছেন। ঠিক একইভাবে বিএনপি এবং জামাতের বেশ কিছু সমর্থক জড়ো হয়ে স্বাগত জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টাকে। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ এসে ব্লগার মাসুদ রহমানকে উদ্ধার করেছে।
এমনকি আওয়ামী লীগের সমর্থক এবং বিএনপির সমর্থক মুখোমুখি হয়ে, তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তির মতো ঘটনা পর্যন্ত হয়েছে। পরিস্থিতি সংঘাতের দিকে গিয়েছে। যদিও পরিস্থিতির সামাল দিতে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। দুই বাহিনীকে তারা সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এই সমস্ত পরিস্থিতি দেখার পর রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার আগে এবং পরে বড় কিছু ঘটতে পারে। যেটা মোটেই সুখকর হবে না প্রধান উপদেষ্টার জন্য। সূত্রের খবর, ২৬ তারিখ প্রধান উপদেষ্টার জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার কথা। এর আগে সরকার বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছে, সাইড লাইনে কারও সঙ্গে বৈঠক করা যায় কিনা। এখনও পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার নিশ্চিত হয়েছে। এখানেই অনেকে বলছেন, আসলে আওয়ামী লীগ চেষ্টা করছে, জাতিসংঘকে ঘিরে ইউনূসের যে কর্মসূচি, সেটা যেন কোনওভাবেই ফলপ্রসূ না হয়। আর তাদের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে বিএনপি এবং জামাত। তারাও তাদের অবস্থান স্পষ্ট করছে এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে। এমনকি এটাও বলা হচ্ছে, ইউনূস যে হোটেলে থাকবেন, সেখানে খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ঠিক যেমনটা হয়েছিল বিমানবন্দরে।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বিশ্ববাসীর কাছে এই বার্তাটা যাচ্ছে যে বাংলাদেশের পরিস্থিতির কোনও স্থিরতা নেই। এখনও অস্থিরতা বিরাজ করছে। গত ১৩ মাসে শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়নি বাংলাদেশে। এমন বার্তা বিদেশের মাটিতে যাওয়া মানে সরকারের জন্য একটি বিব্রতকর পরিস্থিতি। বলছেন বিশেষজ্ঞরা।












Discussion about this post