বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান ভারত সফরে যাচ্ছেন। এই মাসের মধ্যেই তার যাওয়ার কথা। হঠাৎই এমন খবরে যেমন বাংলাদেশে প্রবলভাবে আলোচনা চলছে। একইভাবে আলোচিত হচ্ছে ভারতে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, তবে কি ভারত বাংলাদেশের সম্পর্কের যে অবনতি হয়েছিল, সেটা মিটে গেল? নাকি দুই দেশ এগোচ্ছে অন্য সমীকরণে? হঠাৎ কেন তড়িঘড়ি ভারতে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিলেন ওয়াকার? তবে কি ভারত পাকিস্তানকে হুমকি দিতেই ঘুম উড়ল সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকারের?
বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম খবর করছে, অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে ভারতে যেতে পারেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। জানা যাচ্ছে, আন্তর্জাতিক একটি সম্মেলনে যোগ দিতেই ভারত সফরে যাচ্ছেন তিনি। জাতিসংঘের শান্তি মিশনের সেনা পাঠানো দেশগুলিকে নিয়ে একটি সম্মেলনের আয়োজন করতে যাচ্ছে ভারত। সেখানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশ সেনাপ্রধানের। ১৪ই অক্টোবর নয়া দিল্লিতে এই সম্মেলন শুরু হবে বলে জানা যাচ্ছে। এদিকে আইএসপিআরের তরফে জানানো হয়েছে, এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত তাদের হাতে কোনও তথ্য নেই। পরে সেনাপ্রধানের সূচি হিসাবে জানিয়ে দেওয়া হবে। সূত্র বলছে, ৩০ টির বেশি দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব এই সম্মেলনে যোগ দেবে।
সম্মেলনের বিস্তারিত তুলে ধরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর উপ প্রধান রাকেশ কাপুর বলেন, দুটি পূর্ণাঙ্গ অধিবেশ থাকবে। একটি হবে জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা মিশনের টেকসই কার্যক্রমের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অন্য একটিতে শান্তি রক্ষা মিশনের কার্যক্রমে প্রযুক্তি ব্যবহারে নানা দিক তুলে ধরা হবে
কয়েকদিন আগে মালেশিয়ায় একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বীবেদী এবং বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান উপস্থিত ছিলেন। সেখানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে ভারতের সেনাপ্রধানের বৈঠক হয়েছে। সেখানে নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে খবর।
এখানেই অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, তবে কি জেনারেল ওয়াকারের হাত ধরেই ভারত বাংলাদেশের সম্পর্কের উন্নতি ঘটবে? যদিও ইতিমধ্যেই ওয়াকারের ভারত সফরের খবর সামনে আসতেই অনেকে তাকে কাঠগড়ায় তুলছে। কারণ গত বছর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মুহাম্মুদ ইউনূসের আমলে ভারত বিদ্বেষ নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি সাধনের চেষ্টা করেনি অন্তবর্তীকালীন সরকার। এমনকি এর জেরে প্রবলভাবে প্রভাবিত হয়েছে দুই দেশ এবং তাদের অর্থনীতি। কিন্তু তারপরও সম্পর্কের খুব একটি উন্নতি লক্ষ্য করা যায়নি। এখন হঠাৎই জেনারেল ওয়াকারের ভারতের নয়া দিল্লিতে আন্তর্জাতিক সন্মেলনে যোগ দেওয়াটা ভালো চোখে দেখছে না। তবে মনে করা হচ্ছে, এই সন্মেলনে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের পরিবর্তন ঘটবে। তবে সেটি ইতিবাচক দিক থেকে নাকি নেতিবাচক দিকে, সেটা য়েমন দেখার বিষয়। অন্যদিকে অনেকে বলছেন, দুই দেশের যে সম্পর্কের চরম অবনতি হয়েছে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়েছে জেনারেল ওয়াকার চাইছেন, দুই দেশের সম্পর্কের ফাটল জোড়া লাগাতে। তবে এখন দেখার পালা, আদেও এই সন্মেলনের পর কোন দিকে পরিস্থিতি গড়ায়!












Discussion about this post