ঢাকা সফর করেছেন পাকিস্তান সেনার লেফটেন্যান্ট জেনারেল তাবাসসুম হায়দার। মঙ্গলবার সকালে ঢাকা এসেছেন তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পসংস্থার সচিব অধ্যাপক হালুক গরগুন। তার সফরে বাংলাদেশের সঙ্গে তুরস্কের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে। তার সরকারি সফর প্রসঙ্গে বাংলাদেশের গণমাধ্যম জানিয়েছে, তিনি সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ জামান, নৌপ্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানের সঙ্গে আলোচনা করবেন। তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প সংস্থা প্রশিক্ষণ, গবেষণার মাধ্যমে সে দেশের সশস্ত্র বাহিনীর বিকাশ ও বিবর্তনের বিষয়ে ভূমিকা রাখে। সেই সঙ্গে সমরাস্ত্র ক্রয়-বিক্রয়ের দেখভাল করে। সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, গত সাত বছরে বারাক্তার টিবি-২, ড্রোনসহ অন্তত ১৫ ধরনের আধুনিক সমরাস্ত্র কিনেছে বাংলাদেশ। বুধবার হালুক গরগুনের ঢাকা থেকে তুরস্কের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা। দুই দেশের দুই সেনাকর্তার বাংলাদেশ সফর নিয়ে ঢাকা যে সরকারি বিবৃতি দিক না কেন, এই দুইয়ের সফর অন্যদিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। মহম্মদ ইউনূস ক্ষমতা দখলের পর এই প্রথম পাকিস্তানি জেনারেলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সফর। তাকে রেড কার্পেট দিয়ে স্বাগত জানায় তদারকি সরকার প্রধান। পাকিস্তানি জেনারেলের এই সফরের পিছনে রয়েছে বেশ কয়েকটি ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ। যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান এবং তুরস্ক তাদের স্বার্থসিদ্ধির জন্যই বাংলাদেশের মাটিকে ব্যবহার করছে। আর এদের অন্যতম লক্ষ্য ভারতকে নানা দিক থেকে চাপে রাখা। তারা নতুন একটি অক্ষশক্তি তৈরি করেছে। এর থেকে লাভবান হচ্ছে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী, সামরিক এবং বেসামরিক মাফিয়া। যাদের উদ্দেশ্য রাজনৈতিক নেতৃত্বকে প্রান্তে সরিয়ে দিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে। তার প্রথম নমুনা পাওয়া গিয়েছে বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের পরে পরে। ডিপ স্টেটে বাংলাদেশের ক্ষমতায় এমন কয়েকজনকে বসিয়েছে, যারা তাদের স্বার্থ পূরণের মাধ্যম হয়ে উঠবে।
যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য দক্ষিণ এশিয়ায় চিনের প্রভাব-প্রতিপত্তি হ্রাস করা। তাদের লক্ষ্য যেমন বাংলাদেশ। আবার চিনেরও লক্ষ্য বাংলাদেশ। এর মধ্যে তুরস্কের ভূমিকা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। দেশটি দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবসার বহর বাড়িয়ে চলেছে। হালুক গরগুন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাৎকালে পারস্পরিক কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি তারা দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেন। তুরস্কের ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিজের সেক্রেটারি বাংলাদেশে প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশে সম্ভাব্য কারিগরি ও কৌশলগত সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন। তুরস্কের লক্ষ্য বাংলাদেশকে একটি উৎপাদন ঘাঁটি হিসেবে নির্মাণ করা। ইতিমধ্য দেশটি বাংলাদেশের অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরিতে অস্ত্র উৎপাদন করতে শুরু করেছে।
চলতি বছর জানুয়ারিতে তদারকি সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তুরস্কের বাণিজ্যমন্ত্রী ড. ওমের বলাতের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধিদল বৈঠক করে। ওই বৈঠকে ইউনূস বাংলাদেশে শিল্প, কারখানা ও প্রযুক্তি হস্তান্তর আরও বেশি করে বিনিয়োগ এবং বাংলাদেশের যুবশক্তিকে কাজে লাগাতে তুরস্কের প্রতি আহ্বান জানান। ওপর দিকে, বাংলাদেশ ও তুরস্ক দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা পোশাক শিল্পের বাইরে প্রসারিত করতে পারে উল্লেখ করে তুরস্কের বাণিজ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ড. ওমের বলাত বলেন, আমরা প্রতিরক্ষা শিল্প, স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ এবং কৃষি যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সহযোগিতা গড়ে তুলতে পারি। উল্লেখ্য, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল প্রায় ৫৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, আর আমদানি ছিল প্রায় ৪২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বর্তমানে তুরস্কের প্রায় ২০টি বড় কোম্পানি বাংলাদেশে বস্ত্র ও পোশাক এবং আনুষঙ্গিক পণ্য, রাসায়নিক, প্রকৌশল, নির্মাণ এবং জ্বালানি খাতে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।












Discussion about this post