বাংলাদেশে যে ঘটনা ঘটছে সেটা দেশের ইতিহাসে বিরল। এমন নজিরবিহীন ঘটনা এর আগে কেউ দেখেছে কিনা মনে করতে পারছে না। ২৪ জন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগ। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ২২ অক্টোবরের মধ্যে গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে পদক্ষেপ করেছে সেনাবাহিনী। প্রত্যেককে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। কেবলমাত্র একজন পালিয়ে গিয়েছেন। তিনি হলেন, মেজর কবীর। যদিও তিনি যাতে দেশের বাইরে পালিয়ে যেতে না পারেন, তেমনই বন্দোবস্ত করছে সেনাবাহিনী। অনেকেই বলছেন, যে ঘটনা ঘটছে, তাতে কি সেনানিবাসের ভিতর গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে গেল? গোপনে কি বড় কোনও সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান?
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মোহাম্মদ হাকিমুজ্জামান ঢাকার সামরিক সদর দফতরে ওই সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি বলেন, একজন কর্মকর্তা ছাড়া বাকি ১৪ জনই সেনা সদরে রিপোর্ট করেছেন। তাদের সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে সেখানে তিনি একবারও উল্লেখ করেননি যে ওই ১৪ জন সামরিক কর্তাকে গ্রেফতার বা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তিনি এও দাবি করেছেন, তাদের হাতে কোনও ওয়ারেন্ট এসে পৌঁছয়নি। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দেখেই আমরা ওই আধিকারিকদের সেনা সদরে রিপোর্ট করতে বলেছিলাম।
সেনানিবাসের ভিতরে যে পরিস্থিতি চলছে, তাতে অনেকগুলো প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে। যে যে বিষয়গুলি সামনে আসছে, যে ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশবাসী দেখতে পাচ্ছে, সেগুলির পিছনে কি বড় কোনও তত্ত্ব লুকিয়ে রয়েছে? তবে কি ফের বাংলাদেশে সেনা অভ্যুত্থান? অনেকে আবার এই প্রশ্নও তুলছেন , যে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান কি রয়েছে এর পিছনে?
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশে বিগত ১৫ মাস ধরে যে অব্যবস্থা চলছে, এই ঘটনা তারই চুরান্ত রূপের নির্দশন। এখান থেকেই ঘটনাপ্রবাহ অন্যদিকে মোড় নিতে পারে। ১৪ জন যে কর্মরত সামরিক কর্মকর্তাকে সেনাবাহিনী নিজেদের হেফাজতে রেখেছে। তাদের ২২ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাণব্যুনাল আদালতে হাজির করানোর কথা রয়েছে। কিন্তু সেনা কর্মকর্তাদের বিচার সিভিল আদালতে করা নিয়ে যে ধরণের বিভক্তির সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশ সেনার অন্দরে, তারমধ্যে একটা বড় অংশ ক্ষুব্ধ। কেউ কেু বলছেন, যে কোনও মুহূর্তে সেনা অভ্যুত্থান হতে পারে বাংলাদেশে? এমনকি সেনা নিবাসের মধ্যে গৃহযুদ্ধও হতে পারেও বলেও অনেকে মন্তব্য করছেন। এমনকি সেনাবাহিনীকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের গুজব,আলাপ-আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে সোশ্য়াল মিডিয়ায়। ইতিমধ্যেই বিষয়টিকে নিয়ে সরব হয়েছে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। তিনি অডিও বার্তাতে ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন, ইউনূস আমলে এটা অপশাসন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনা বিরল থেকে বিরতলতম ঘটনা। এতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নেতিবাচক মনোভাব স্পষ্ট হবে সাধারণ মানুষের। শুধু তাই নয়, আর ক্যান্টনমেন্টের উপর সাধারণ মানুষ ভরসা রাখবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকারের উপর সাধারণ মানুষের যে বিশ্বাস, সেই বিশ্বাস যে আর অক্ষুন্ন নেই, সেটাও পরিষ্কার হচ্ছে ধীরে ধীরে।












Discussion about this post