বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা এবং চট্টগ্রামে হঠাৎই বড় ধরনের তিনটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশের মিরপুরের রূপনগরে একটি পোশাকের কারখানা এবং রাসায়নিক গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের আগুন শনিবার রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। কয়েকদিনের ব্যবধানে তিন জায়গায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আতঙ্কিত বাংলাদেশের মানুষ। এর জেরে ইউনূস সরকারের তরফে বিবৃতি দেওয়া হয়। বলা হয়, এই ঘটনা গুলি নাশকতা হিসেবে প্রমাণিত হলে অথবা আতঙ্ক ও বিভাজন তৈরির লক্ষ্যে ঘটানো হলে, এবং সেটি প্রমাণিত হলে মোকাবিলা করা হবে। তবে কি সরকারও ভাবছে এর পিছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে?
মিরপুর এলাকায় পোশাক কারখানায় আগুন লাগার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনিক কর্তাদের মতে, রাসায়নিক গুদামটি একটি তৈরি পোশাক কারখানার পাশেই ছিল।
ঢাকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আগুনের ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির। তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনাগুলি কোথাও গিয়ে একই সূত্রে গাঁথা। এই ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত। এমনটাই মন্তব্য করেন তিনি। বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সূত্রের খবর, বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুড়ে গিয়েছে পরমাণু কেন্দ্রের সরঞ্জাম। এমনকি পরমানুকেন্দ্রের জন্য রাশিয়া থেকে আমদানি করা ১৮ টন সামগ্রী পুড়ে গিয়েছে। এই ঘটনার পরে নিরাপত্তাজনিত কারণে ফ্লাইট চলাচল সাময়িক ভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
কিছুদিন আগেই হঠাৎই বাংলাদেশের বিমানবন্দরে প্রশাসনিক তরফে নজরদারি বাড়ানো হয়। নাশকতা ঘটতে পারে এমন আশঙ্কায় নজরদারি, নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছিল। তবে প্রশ্ন উঠছে, যে আশঙ্কা করা হয়েছিল, সেই আশঙ্কায় কি সত্যিই হল? প্রশ্ন উঠছে, এত নিরাপত্তা থাকার পরও কিভাবে আগুন লাগলো? এটা কি প্রশাসন বা সরকারের ব্যর্থতা নয়? অন্যদিকে ইউনূস সরকারের আমলে এই প্রথম অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নয়। গত বছর ডিসেম্বরে ২৬ তারিখে গভীর রাতে সচিবালয়ের ভিতরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। যে ভবনে আগুন লেগেছিল, সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। সেখানে গত সরকার এবং বর্তমান সরকারের বহু নথি পুড়ে গিয়েছে। তখন বহু উপদেষ্টা খতিয়ে দেখার পরে মন্তব্য করেন, এটা ষড়যন্ত্র কিনা, সেটা তদন্ত কমিটির রিপোর্ট সামনে এলে বোঝা যাবে। রিপোর্টে উঠে আসে, সিসিটিভি ক্যামেরাতে দেখা যায়, একটি বৈদ্যুতিক স্পার্ক থেকে আগুন ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে। একটি সাদা পাওডারের প্রসঙ্গ উঠে আসে। কিন্তু তারপর আর কিছু জানা যায়নি। অন্যদিকে মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজের উপর বিমান ভেঙে পড়ে। সেখানেও বহু ছাত্রের মৃত্যু হয়। কিন্তু সেই তালিকা ঠিকমতো দিতে পারেনি অন্তবর্তীকালীন সরকার। এমন অভিযোগ উঠে এসেছিল। তাই বিশেজ্ঞরা বলছেন, যখন মুহাম্মদ ইউনূসের আমলে একের পর এক ঘটনায় তেমন কোনও ফলাফল লক্ষ্য করা যায়নি। এক্ষেত্রেও তেমন কিছু আশা করা ঠিক হবে না বাংলাদেশবাসীর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যতদিন না নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসে দেশ চালাবে ততদিন যে কোনও ঘটনার বিচার দেশবাসী পাবে কিনা, তা নিয়ে সন্দিহান রয়েছে। তবে বিমানবন্দরে কীভাবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল, আদতে নাশকতার ছক ছিল কিনা, সেটা আদেও বেরিয়ে আসে কিনা, সেটাই দেখার।












Discussion about this post