বাংলাদেশ ছেড়ে কি পালাতে চাইছেন মুহাম্মদ ইউনূস? তাঁকে কি আশ্রয় দেবে পাকিস্তান? হঠাৎ এমন প্রশ্ন উঠছে কেন? এর অনেক কারণ রয়েছে। এখন হাসিনাহীন বাংলাদেশে চলছে প্রবল অরাজকতা। এরমধ্যে নতুন খবর, যুবকদের অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ দেবে ইউনূস সরকার। প্রাথমিক স্তরে ৮ হাজার যুবককে অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বলে খবর। বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন উপদেষ্টা আসিফ মুহাম্মদ সজীব ভুঁইয়া। অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মোট ৪০ হাজারও বেশি যুবককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কিন্তু হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত কেন? কেন প্রয়োজন পরল দেশের যুবকদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়ার? তবে কি যুদ্ধে জড়াতে চলেছে বাংলাদেশ? এদিকে বিভিন্ন দেশ থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনার কথা শোনা যাচ্ছে? কিন্তু কার সঙ্গে যুদ্ধ করবে ইউনূসের দেশ? এরমধ্যে রিসেট বাটনে অতীত মুছতে চাইছেন ইউনূস।
গত বছর ৫ই অগাস্টের পর থেকে বাংলাদেশে চলছে চরম নৈরাজ্য। তারমধ্যে দেখা গেল, বাংলাদেশ সেনাকে গ্রেফতার করছে বাংলাদেশ সেনাই। এমনকি ভারত দখলের হুমকি এসেছে বহুবার। যদিও সেটা কতটা অলীক স্বপ্ন, ইতিমধ্যেই সে দেশের বহু মানুষ বলে দিয়েছে। এদিকে ভারতকে পাশ কাটিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে সখ্যতা তৈরি করেছে বাংলাদেশ। শুধু তাই নয়, ২৫ অক্টোবর পাকিস্তনের জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান জেনারেল সাহির শামসাদ মির্জা, তিনি ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সৌজন্য সাক্ষাৎ বলা হলেও, সেখানে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা হবে, সেটা বলাই বাহুল্য। আলোচনায় উঠে আসে, দুই দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কথা। জানা যাচ্ছে, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত করতে চাইছে। সেই নিয়েই আলোচনা চলেছে। এমনকি দুই দেশের সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান সম্পর্কেও আলোচনা হয়েছে। তবে কি বাংলাদেশের সংস্কৃতি বাদ দিয়ে পাকিস্তানের সংস্কৃতি ধারণ করতে চাইছে ইউনূসের দেশ? বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্য সংযোগ এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণের একটি বিশাল সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন পাক সেনাকর্তা। অর্থাৎ বাংলাদেশ এখন পাকিস্তানের উপর অত্যন্ত নির্ভরশীল। শুধু তাই নয়, ভারতের সঙ্গে আর কোনও আদান প্রদান করতে ইচ্ছুক নয় বাংলাদেশ। সেটা পরিস্কার হল। এদিকে ১৯৭১ সালে মুক্তি যুদ্ধে ভারত রক্ত দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছিল। এমনকি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বিশ্ব জনমত তৈরি করার জন্য বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছিল। নতুন রাষ্ট্র তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এখন ইউনূসের সরকার বলছে, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ভারত নাকি ভুল খবর প্রচার করছে।
বেশ কয়েক মাস আগে ইউনূস ভয়েস অব আমেরিকার একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তাকে যারা ক্ষমতায় এনেছিলেন, তারা কোন বিবেচনায় বঙ্গুবন্ধুর বাসভবন পুড়িয়ে ধ্বংস করে দিয়েছিল? তখন উত্তরে ইউনূস বলেন, ৫ই অগাস্ট গণ অভ্যুত্থানের সমিয় রিসেট বাটনে চাপ দিয়ে অতীতের সমস্ত কিছু ডিলিট করে দেওয়া হয়েছিল। তারমধ্যে মুক্তিযুদ্ধও ছিল। বাংলাদেশের ইতিহাস শুরু হয়েছে, ৫ই অগাস্টের পর থেকে। এদিকে জেনারেল মির্জাকে বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানান ইউনূস। সেটা অবশ্যি ভারতে দোষারোপ করে। তারমধ্যে সৌজন্য সাক্ষাতে ইউনূস জেনারেল মির্জাকে দিয়েছেন একটি মানচিত্র। কিন্তু সেই উপহারে ছিল আর্ট অব ট্রায়াম্ফ নামে একটি বই। সেই বইয়ের সূচিপত্রে একটি ছবি রয়েছে। সেই ছবি ঘিরে এখন প্রবলভাবে আলোচনা চলছে। কারণ সেখানে রয়েছে, একটি বাংলাদেশের ম্যাপ। সেখানে ভারতের উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলিকে বাংলাদেশের অংশ হিসাবে দেখানো হয়েছে। তবে এই প্রথমবার নয়, এর আগেও একাধিকবার জেনে বুঝে করেছেন ইউনূস। ফলে পাকিস্তানের সঙ্গে দহরম মহরম বাড়াতে চাইছে বাংলাদেশ। সেটা বারেবারে প্রমাণিত হল। এবং ভারত থেকে যে বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধে সাহাষ্য করেছিল, নিজেদের লড়াই হিসাবে লড়েছিল, সেগুলি রিসেট বাটনে প্রেস করে মুছতে চাইছেন ইউনূস। যেটা গোটা দেশের জন্য ভয়ানক পরিস্থিতি ডেকে আনছেন, বলছেন সে দেশের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।












Discussion about this post