বাংলাদেশে দিনে দিনে বাড়ছে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল। কিন্তু ঝটিকা মিছিল ঠেকাতে ব্যর্থ ইউনূস প্রশাসন। এইবার আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল ঠেকানোর জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী। এই নির্দেশের মাধ্যমে তিনি কী বোঝাতে চাইলেন? এটা বোঝাতে চাইলেন যে, যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, তাদের বেছে বেছে গ্রেফতার করতে হবে? একজন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এমন কথা বলতে পারেন? এই প্রশ্ন উঠছে বাংলাদেশের অন্দরে। তবে কি আতঙ্কে ভুগছে প্রশাসন? এদিকে কেউ কেউ বলছেন, আসলে শেখ হাসিনার ভয়ে ব্যাপক গ্রেফতার অভিযানের উদ্যোগ প্রশাসনের। যেটার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তবে এই প্রথমবার নয়। তিনি বিভিন্ন সময় এমন কথা বলেছেন। যা ঘিরে তুমুল সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। কিন্তু তারপরও তার বক্তব্যে তিনি অনড় থেকেছেন।
বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে চলছে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল। কিন্তু ডিএমপি কমিশনার এই বিষয়ে বলেছিলেন, মূলত ৩০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও করার জন্য আওয়ামী লীগের লোকজন এই ঝটিকা মিছিল করে। যেটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলছেন, ফ্যাসিস্টদের অপকর্ম ও ঝটিকা মিছিল ঠেকাতে গ্রেফতার বাড়াতে হবে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পুলিশকে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মানদণ্ড স্থাপন করার আহ্বান জানিয়েছেন। বলেছেন, ফ্যাসিস্টদের অপকর্ম, অত্যাচার, অপরাধ ও ঝটিকা মিছিল ঠেকাতে গ্রেফতার বাড়াতে হবে। এর সঙ্গে এটাও বলেছেন, নিরীহ মানুষকে হয়রানি করা যাবে না।
অনেকে বলছেন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দায়িত্বপূর্ণ পদ। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে সরাসরি প্রশাসনকে এমন নির্দেশ দেওয়ার আগে তার সতর্ক থাকার প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকে। তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্টদের তালিকা পুলিশের কাছে রয়েছে। তারা সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টিতে জড়িত। শুধু তাই নয়, অনেক অপরাধী জামিনে ছাড়া পেয়ে অপরাধ করছে। এখানে প্রশ্ন উঠছে, ফ্যাসিস্টদের তালিকা বলতে তিনি কি বোঝাতে চাইলেন? আওয়ামী লীগ যারা করত বা করে, তাদের ফ্যাসিস্ট বলা হচ্ছে?
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচন। এদিকে আওয়ামী লীগের ক্রযক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থাৎ খুব সহজে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। আর কোনওভাবে যাতে অংশগ্রহণ না করতে পারে, তারই পাকাপাকিভাবে ব্যবস্থা করতে চাইছে ইউনূস সরকার। সেই কারণে প্রশাসনকে নির্দেশ দিচ্ছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। যাতে কোনও আওয়ামী লীগ সমর্থকের জেলের বাইরে অস্তিত্ব থাকে। তাতে সুবিধা হবে অন্তবর্তী সরকারের। কারণ তারা ভালো করেই জানে, একমাত্র শেখ হাসিনার দলের জনসমর্থন বিপুল পরিমাণে রয়েছে বাংলাদেশে। সেটা বাংলাদেশের একাধিক সংস্থার সমীক্ষাতে উঠে এসেছে। তাই আশঙ্কাই এই নির্দেশ। বলছেন বিশেষজ্ঞরা।












Discussion about this post