ফের উঠে এল শেখ হাসিনার পদত্যাগের বিষয়। আদেও কি তিনি পদত্যাগ করেছিলেন? গত বছর তিনি ভারতে পালিয়ে আসার পর একটি সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছিল। যেটা তখন বলেছিলেন, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। এমনকি রাষ্ট্রপতিও বলেছিলেন। তখন সুপ্রিম কোর্টের রেফারেন্স চাওয়া হয়েছিল ১০৬ অনুচ্ছেদের ভিত্তিতে। তারপরই নতুন সরকার গঠিত হয়। পরে বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়। শেখ হাসিনা আদেও পদত্যাগ করেছিলেন কিনা, সেটা ঘিরে একাধিক সময় আলোচনা হয়েছে ঠিকই, তবে এখন নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
বিভিন্ন সময় শেখ হাসিনার পদত্যাগ নিয়ে নানারকম আলোচনা চলেছে গোটা দেশে। তবে সেটা সময়ের সঙ্গে থিতিয়ে গিয়েছিল। এখন দেখা যাচ্ছে, বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান ফের এটি ঘিরে আলোচনা তৈরি করে। তিনি বলছেন, শেখ হাসিনার পদত্যাগের দালিলিক প্রমাণ রাষ্ট্রপতির কাছে নেই। বিএনপির চেয়ারপারসন উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান বলেন, যেদিন প্রধানমন্ত্রী পালিয়ে গেলেন, সেদিন রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছিলেন। তাঁর পদত্যাগ পত্র আমার কাছে রয়েছে। রাষ্ট্রপতির এই কথা সঠিক নয়। রাষ্ট্রপতি মিথ্যে কথা বলেছেন বলে তিনি বলেন। প্রধানমন্ত্রী তো পালিয়ে গিয়েছেন। পদত্যাগ করলেন কখন? সেদিন দেশে প্রয়োজনে নিজের ঘাড়ে রাষ্ট্রপতি দায় নিয়েছেন বলে দাবি করেন বিএনপি নেতা। অর্থাৎ তিনি বলতে চেয়েছেন, সেই সময় রাষ্ট্রপতি যদি এই কথা না বলতেন তবে দেশের পরিস্থিতি আরও অরাজক হত। তবে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠে যায়, তবে কি অন্তবর্তাকালীন সরকারে অবৈধ? মুহাম্মদ ইউনূসের মিথ্যাচার ধরা পড়ে গেল?
বিএপি নেতা বলেন, সাংবাদিক মতিউর রহমান রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে পদত্যাগপত্র সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। তখন রাষ্ট্রপতি বলেন, আমার কাছে কোনও প্রমাণ নেই। অনেকে তখন দাবি জানায়, রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগ করতে হবে। সেই প্রেক্ষাপট লক্ষ্য করা গিয়েছিল। সেই সময় রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ঘিরে নানা রকম পরিস্থিতি তৈরি হয় দেশের অন্দরে।
এমনকি বিএনপি নেতা উল্লেখ করেন, একদিন দেখা গেল সমস্ত দফতর থেকে রাষ্ট্রপতি ছবি নামিয়ে নেওয়া হয়েছে। এমনকি তিনি বলেন, তাঁর পদত্যাগের আগেই এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশে। এমনকি তিনি উল্লেখ করেন, যতক্ষণ তিনি দেশের রাষ্ট্রপতি পদে রয়েছেন, ততক্ষণ বিভিন্ন দেশে দূতাবাসের তার ছবি থাকবে। এটাই উচিত। কিন্তু সেই নিয়মের তোয়াক্কা করেনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বরং এই ধরণের ঘটনার মান্যতা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। শুধু তাই নয়, দেশের অন্দরে একাধিক সময় অন্যান্য উপদেষ্টারা রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ চান। সেইঈ তালিকায় ছাত্রনেতারা তো রয়েছেনই। তবে এখন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি বিএনপি নেতার এই মন্তব্য সঠিক হয়, তবে কি শেখ হাসিনা চাইলে দেশে অবাধে ফিরতে পারেন? যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে। তার বিচপরও চলছে। কিন্তু তিনিই কি তবে খাতায় কলমে এখন দেশের প্রধানমন্ত্রী? শেখ হাসিনাও পরবর্তীকালে একাধিকবার দাবি করেছিলেন, তিনি পদত্যাগ করেননি। তবে কি সেটাই সত্যি হতে চলেছে? যদিও এখন দেখার, শেষমেশ এই মন্তব্যের পর পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়!












Discussion about this post