আওয়ামীলীগ সাবেক নেতা শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরি নওফেল কে দিয়ে জাতিসংঘে শনিবার একটি চিঠি পাঠিয়েছে আওয়ামীলীগ। বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নয় এমন নির্বাচনে সহযোগিতা থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘের প্রতি আবেদন জানিয়েছে এই চিঠি পাঠিয়েছে আওয়ামীলীগ। ঢাকায় জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি ইউএনডিপির প্রতিনিধি স্টেফান লিল্যারকে চিঠি দেন আওয়ামীলীগের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরি নওফেল। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না আওয়ামীলীগ। জাতিসংঘে পাঠানো চিঠিতে আওয়ামীলীগ বলে, অবাধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত হওয়ার আগে পর্যন্ত আমরা জাতিসংঘ এবং ইউএনডিপির প্রতি নির্বাচনে সহযোগিতা স্থগিতের সব রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে জাতীয় সংলাপ ও সমঝোতাকে উৎসাহিত করার এবং যেকোনো নির্বাচনী সম্পৃক্ততার মূল ভিত্তি হিসেবে মানবাধিকার ও আইনের শাসন সম্মনত রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।
এই নিয়ে জোর আলোচনা হয়েছিল। আওয়ামীলীগের চিঠির প্রেক্ষিতে সরকারের তরফ থেকে অবশেষে উত্তর পাওয়া গেল। সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মহম্মদ তৌহিদ হোসেন এ প্রসঙ্গে সচিবালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নয় এমন নির্বাচনে সহযোগিতা থেকে সরে আসতে জাতিসংঘের প্রতি আবেদন জানিয়েছে আওয়ামীলীগ। জাতিসংঘে দেওয়া আওয়ামীলীগের এই চিঠিতে কোনও কাজ হবে না। আওয়ামীলীগের চিঠি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে কারিগরি সহযোগিতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আওয়ামীলীগ যে চিঠি দিয়েছে তাতে কোনও উপকার হবে না। এধরণের চিঠি আদতে কোনও কাজের না। নির্বাচন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। সেই অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে জাতিসংঘ কিছু বলবে না।
অর্থাৎ, এ থেকে বোঝা যাচ্ছে জাতিসংঘে আওয়ামীলীগ প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না। অন্যদিকে, একটি প্রশ্ন উঠছে জাতিসংঘ যদি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কিছু না বলে সে ক্ষেত্রে অতীতের কথা মনে করতে হয়। এ সরকারের আমলে জুলাই – অগাস্ট আন্দোলন, জুলাই বিপ্লবের পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘ যে রিপোর্ট দিয়েছিল সেই রিপোর্টটাই বারবার হাই লাইট করেছিল সরকার। তাদের উপদেষ্টা সহ বিভিন্ন স্টেক হোল্ডাররা বারবার জাতিসংঘকে টেনে কথা বলেছেন, সাথে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের চিফ প্রসিকিউটর ও বলেছেন, হাসিনার যে মামলা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে চলছে সেই বিচারে হাসিনার ফাঁসি ও দেওয়া সম্ভব জাতিসংঘের দেওয়া প্রতিবেদনে অনুযায়ী। এর অর্থ জাতিসংঘের প্রতিবেদন সরকারের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।












Discussion about this post