‘বাধা দিলে বাধবে লড়াই,/ মরতে হবে/। পথ জুড়ে কী করবি বড়াই, /সরতে হবে॥ /লুঠ-করা ধন ক’রে জড়ো/ কে হতে চাস সবার বড়ো /– এক নিমেষে পথের ধুলায় পড়তে হবে।’
এই রবীন্দ্রগান আওয়ামী লীগের মূল মন্ত্র হয়ে উঠেছে। আগামী ১৩ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ক্ষমতাচ্যূত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাজা ঘোষণার দিন তারিখ ঘোষণা করবে। সেই দিন আওয়ামী লীগ বাংলাদেশজুড়ে লক ডাউনের ডাক দিয়েছে। তবে তাদের কর্মসূচি শুরু হচ্ছে আগামী সোমবার ১০ নভেম্বর থেকে। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে ভারতের একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছ, সোমবার তারা লকডাউনের ডাক দিয়েছে। ইতিমধ্যে দলের তরফ থেকে নানা প্রান্তে আয়োজন করা হয়েছে ছোটোখাটো বিক্ষাভ সমাবেশ। স্লোগান উঠেছে, ‘শেখ হাসিনা বীরের বেশে আসছে, আসছে ফিরে বাংলাদেশে,’ ‘শেখ হাসিনা ভয় নাই, তোমার পাশে দেশের ভাই’। হাসিনাও পথে নেমে লড়াই করার বার্তা দিয়েছেন। বলেছেন, যার হাতে যা আছে, তাই নিয়ে এবার পথে নামতে হবে। নেত্রীর বিরুদ্ধে চরম সাজা ঘোষণা করা হবে ধরে নিয়ে আওয়ামী লিগ ১০ নভেম্বর থেকে পথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১২ তারিখ পর্যন্ত তিন দিন দেশের জেলা, উপজেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ, মিটিং মিছিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল। ১৩ নভেম্বর ঢাকায় লকডাউন পালন করার আবেদন জানিয়েছে আওয়ামী লিগ।
আওয়ামী লীগ জানিয়েছে, তাদের বাদ দিয়ে কোনওভাবেই ভোট করা যাবে না। একাধিক আন্তর্জাতিক সংগঠনের তরফ থেকেও ইউনূসের ওপর চাপ তৈরি করা হয়েছে, যাতে তাঁর সরকার হাসিনার দলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়। এদিকে, সরকার জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। এই ক্ষেত্রে তাদের করার কিছু নেই। কিন্তু এটা সকলের জানা, যে নির্বাচন কমিশন বকলমে কাজ করে সরকারের নির্দেশে। এই উত্তপ্ত পরিবেশে আওয়ামী লীগে আস্তে আস্তে খোলস ছাড়াতে শুরু করেছে। তবে সব থেকে বড়ো কর্মসূচি আগামী ১৩ নভেম্বর। হাসিনা সহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সব মামলা প্রত্যাহার করে নিতে হবে। মহম্মদ ইউনূসকে পদত্যাগ করতে হবে। সেই দাবিতে ১৩ নভেম্বর অফিস-আদালত, হাট বাজার, স্কুল কলেজ সব বন্ধ রেখে তাদের এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সামিল হওয়ার ডাক দিয়েছেন।
এদিনের একটি খবরে জানা গিয়েছে, হাসিনাকে ফেরাতে অন্তর্বর্তী সরকার ইন্টারপোলের সাহায্য নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি ছাড়া আওয়ামী লীগের যে সব নেতাকর্মী দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন, তাদেরও দেশে ফিরিয়ে আনবে অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের পুরনো হাইকোর্ট ভবনের মেরামতির কাজ সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে রবিবার কোর্ট চত্বরে এসেছিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের আইনি উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন খুব শীঘ্রই ইন্টারপোলের মাধ্যমে হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে রেড নোটিশ জারি করা হবে। এই পলাতক ফ্যাসিবাদিরা যেখানেই লুকিয়ে থাকুন না কেন, যেভাবেই হোক তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। আদালতের পেশ করে তাদের বিচার প্রক্রিয়ার মধ্যে আনা হবে। অপর দিকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বক্তব্য ইউনূস সরকার পাকিস্তানকে একটি জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। তাই, দেশের আজ প্রয়োজন শুদ্ধিকরণের। হাসিনার দেশে প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়েই হবে সেই শুদ্ধিকরণ। তাই, এবার পথে নামতে হবে।
আওয়ামী লীগের এই কর্মসূচি মনে করিয়ে দিচ্ছে, গণনাট্য সংঘের এই গান পথে এবার নামো সাথী পথেই হবে পথ চেনা।












Discussion about this post