‘বিনা রণে নাহি দিব সূচ্যগ্র মেদিনী’
মনে হয় না এই উক্তির সঙ্গে পাঠকের পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। এটা কে বলেছিলেন, কোন সময়ে বলেছিলেন, তা প্রায় সকলের জানা। এই উক্তি জীবনমন্ত্র হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। যে সরকার তাঁকে, তাঁর দলকে, তাঁর সরকারকে নানাভাবে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তিনি যে সেই সরকারকে ছেড়ে কথা বলবেন না, সেটা ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিচ্ছেন। শুধু তাকে নয়, আন্তর্জাতিকমহলকেও। সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু কন্যার বেশ কয়েকটি সাক্ষাৎকার আন্তর্জাতিকস্তরের গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। অনেকের অভিমত, এই সব সাক্ষাৎকার নাকি তিনি লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করেছেন। এই নিয়ে তর্ক বিতর্ক থাকতেই পারে। তবে সাম্প্রতীক অতিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেওয়া তাঁর সাক্ষাৎকারের সঙ্গে সদ্য সদ্য ভারতের একটি সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাৎকারের মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য ধরা পড়েছে। শেষ সাক্ষাৎকার আসলে ইউনূস সরকারকে তাঁর চ্যালেঞ্জ।
আমরা সকলেই জানি, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। আগামী ১৩ নভেম্বর ওই আদালত ঘোষণা করবে কবে তারা হাসিনার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের শাস্তির তারিখ। এই আদালত নিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা ইউনূসকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। হাসিনার কথায়, এই আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়ার মামলা নিয়ে বিন্দুমাত্র বিচলিত নন। উলটে তিনি তদারকি সরকারকে বার্তা দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু কন্যার মতে, তাঁর (হাসিনা) বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগের স্বপক্ষে কোনও প্রমাণ তদারকি সরকার পেশ করতে পারেনি। যে সব তথ্য আদালতে দেওয়া হয়েছে সেগুলি ‘Phony Evidence’। বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায় জাল বা ভূয়ো নথি। তাছাড়া তিনি যদি সত্যি অনৈতিক, অমানবিক কাজে লিপ্ত থেকেই থাকেন, তাহলে তদারকি সরকার কেন সরাসরি নেদারল্যান্ডের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে গেলেন না? সে আদালতে যেতে তাঁর বা তাঁর দলের থেকে তো বাধা দেওয়া হয়নি। হাসিনা জানিয়েছেন, তাঁর হিম্মত রয়েছে বলে তিনি ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে ওই আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।
তদারকি সরকারকে তাঁর আরও চ্যালেঞ্জ – বলা হচ্ছে জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনের সময় গুলি চালানোর নির্দেশ তিনি (হাসিনা) দিয়েছিলেন। এর জন্য বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে সেই সময় ফোনে তাঁর সঙ্গে প্রশাসনের যে কথাবার্তা হয়েছে সেগুলি পেশ করা হয়েছে। কিন্তু সেই অডিওতে (এর সত্যতা নিউজ বর্তমান খতিয়ে দেখেনি) কোথাও শোনা যায়নি গুলি চালানোর নির্দেশ। তাহলে কেন তাঁর বিরুদ্ধে এই মিথ্যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে? যে প্রশ্ন তদারকি সরকার প্রধানের বুক এক প্রকার ফালা ফালা করে দিয়েছে, সেটা হল ইউনূসের সম্পদের বিষয়ে। ভারতের ওই সর্বভারতীয় ইংরেজি দৈনিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাসিনা বলছেন,‘ড. ইউনূস তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়েছিল ১৯৯০ সালে। সেই সময় তিনি গ্রিন ব্যাংকে চাকরি করতেন। বেতন ছিল মাত্র ছয় হাজার টাকা। আজ তিনি বিশাল সম্পত্তির মালিক। এত কম সময়ের মধ্যে কী করে তিনি এই অগাধ সম্পত্তির মালিক হলে। ক্লিন্টন ফাউন্ডেশনে যে টাকা তিনি ঢেলেছেন, সেই টাকা তিনি কোথা থেকে পেলেন?। হিলারি ক্লিন্টনের ভোট প্রচারের জন্য তিনি যে টাকা খরচ করেছেন, সেই টাকার উৎস কী? ইউনূস বলছেন বর্তমানে তাঁর ফিক্সড ডিপোজিট পাঁচ হাজার কোটি টাকা। এই বিশাল টাকা বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংকে জমা রয়েছে। এই টাকার উৎস কোথায়? তাছাড়া তাঁর (ইউনূসের)বিরুদ্ধে তো কর ফাঁকির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ’
ড. মহম্মদ ইউনূস আপনি কী শুনতে পাচ্ছেন? আপনি পড়েছেন সেই সাক্ষাৎকার? কী জবাব দেবেন?












Discussion about this post