এবার কী দক্ষিণ এশিয়ার দুই দেশ ভারত এবং বাংলাদেশ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে চলেছে?
সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বা না বলা সম্ভব নয়। তবে উভয় দেশের তরফে সীমান্তে বড়ো মাপের সামরিক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। এই নিয়ে কোনও মহলেই দ্বিমত নেই যে ৫ অগাস্টের পর থেকে ঢাকা এবং উত্তরপাড়ার সঙ্গে দিল্লির সাউথব্লক ও সেনাভবনের সম্পর্ক কার্যত বারুদের স্তুপের ওপর দাঁড়িয়ে। একটা দেশলাই কাঠি জ্বালালেই হল। ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণে কেঁপে উঠবে সীমান্ত অঞ্চল।
সম্ভাব্য বিস্ফোরণের ভরকেন্দ্র হয়ে উঠতে চলেছে শিলিগুড়ির চিকেন নেক। প্রথম এই নিয়ে মুখ খুলতে দেখা যায় মাহফুজ আলমকে, যাঁকে অনেকেই ‘ইউনূসের কোলের ছেলে’ কটুকাটব্য করে। গত ডিসম্বরে বিজয় দিবসের রাতে ইউনূসের এই কোলের ছেলে তাঁর ফেসবুক পেজে চিকেন নেক নিয়ে বেঁফাস কথা বলে ফেলেন। পরে আবার সেই পোস্ট ডিলিট করে দেন। কী লিখেছিলেন মাহফুজ আলম?
‘বিজয় এসেছে, তবে সামগ্রিক নয়। মুক্তি এখনও বহুত দূরে। হিমালয় থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত জনপদ পুনরুদ্ধার ব্যতিত পোকায় খাওয়া পূর্ব পাকিস্তান হয়ে বাংলাদেশ নিয়ে আমরা মুক্তিতে ছুতে পারি না। এ রাষ্ট্রের জন্মদাগ তথা ভারত নির্ভরতা ও ভারতের আধিপত্য মুক্ত রাখতে ৭৫ আর ২৪ ঘটাতে হয়েছে। দুই ঘটনার ব্যবধান পঞ্চাশ বছর। কিন্তু আদতে কিছুই পরিবর্তন হয়নি। আমরা ভূগোল ও বন্দোবস্তে আটকা পড়ে রয়েছি। নতুন ভূগোল ও বন্দোবস্ত লাগবে। একটি খণ্ডিত ভূখণ্ড, একটা জন্মদাগ নেওয়া রাষ্ট্র দিয়ে হয় না। ’
ভারত কড়া ভাষায় এই পোস্টের তীব্র প্রতিবাদ জানায়। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, ‘তদারকি সরকারের একজন দায়িত্বশীল নেতার থেকে এই ধরনের মন্তব্য কাঙ্খিত নয়। দিল্লি নিরাপত্তা ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে নিবিড় জনসংযোগ রাখে। যথাযথ উদ্যোগ নেয়।’ সেই যে শুরু হল, তারপর থেকে বাংলাদেশের তদারকি সরকার অষ্টপ্রহর নাম সংকীর্তনের মতো গলায় মালা আর কাঁধে খোল ঝুলিয়ে গেয়ে চলেছেন চিকেন নেক, চিকেন নেক। গাইছেন আর দুহাত তুলে নাচছেন।
বিষয়টা এখন কীর্তন থেকে কর্তনে পর্যবসিত হয়েছে। কিছুদিন আগে সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান পরিত্যক্ত দুই বিমান ঘাঁটি লালমনির হাট ও ঠাকুরগাও গিয়েছিলেন। ভারতীয় সেনা গোয়েন্দারা সেই সফর টের পেয়ে যায়। তার পালটা হিসেবে ভারতীয় সেনা সীমান্তে ঘুটি সাজাতে শুরু করে। উত্তর ত্রিপুরার কৈলাশহরে তিন দশকের পুরনো একটি অসামরিক বিমানবন্দর সংস্কারের হাত দেয়। যদিও সেনা ভবনের তরফ থেকে বলা হয়েছে, এটি মূলত বেসামরিক কাজে ব্যবহার করা হবে। তবে প্রয়োজন হলে সামরিক বিমান ওঠা-নামা করবে। জ্বালানি সংগ্রহের ব্যবস্থা থাকবে। দুই দেশের সম্পর্ককে আরও উত্তপ্ত করে তোলেন নোবেল ম্যান ড. ইউনূস তাঁর চিন সফরে। সেখানে তিনি ওই সেভেন সিস্টার্স, যার মধ্যে শিলিগুড়ি করিডোর বা চিকেন নেক রয়েছে, বেফাঁস কথা বলে ফেলেন। আর পাকিস্তান সেনার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কর্তা শাহির সামসাদ মির্জার বাংলাদেশ সফরে কী হয়েছিল, তা আমাদের সকলে জানা। তাঁকে একটা বই উপহার হিসেবে দেওয়া হয়, যে বইয়ের প্রচ্ছদে ইচ্ছাকৃতভাবে একটি বিকৃত মানচিত্রে ছবি আঁকা হয়েছে, দেখানো হয়েছে ভারতের উত্তরপূর্বের বেশ কিছুটা অংশ বাংলাদেশের। এদিকে আবার বাংলাদেশ চিন থেকে J 10 CE যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তবে সাউথব্লক এবং সেনা ভবন থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে শিলিগুড়ির চিকেন নেক সহ সীমান্ত অঞ্চলে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। বাংলাদেশকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার মালমশলা তৈরি আছে। একবার ওপার থেকে হামলা শুরু হোক।












Discussion about this post