গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রায় ঘিরে ঢাকা কার্যত স্তব্ধ ও আতঙ্কিত। একদিকে আওয়ামী লীগের ডাকা টানা কর্মসূচি, অন্যদিকে চোরাগোপ্তা হামলা। টানা কয়েকদিন ধরে ঢাকায় বেশ কিছু স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে হামলার ঘটনা ঘটেছে। কোথাও ককটেল বিস্ফোরণ আবার কোথাও ধারাবাহিকভাবে কিছু বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। যদিও এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, তবে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে ঢাকা শহরে। কেউ কেউ দাবি করছেন, ছোট ছোট এসব ঘটনা থেকে বড় ধরনের হামলা ও নাশকতার বড় কোনও ঘটনা ঘটে যেতে পারে। কে বা কারা এই ধরণের ঘটনা ঘটাচ্ছে, তা নিয়ে তদন্ত করার আগেই বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী দাবি করে বসেছেন, এটা আওয়ামী লীগের কাজ। যদিও তিনি তাঁদের সন্ত্রাসী বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, ১৩ নভেম্বর নিয়ে সতর্ক আছে সরকার। আইনশৃঙ্খলাবাহিনী সতর্ক অবস্থানে আছে, কোথাও কিছু ঘটলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি তিনি সাধারণ মানুষকেও আহ্বান জানান সতর্ক থাকার জন্য।
এরমধ্যেই জানা গিয়েছে সোমবার ভোর থেকে রাত পর্যন্ত ঢাকায় অন্তত ১২টি ককটেল বিস্ফোরণ ও তিনটি অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় একজন ছাত্রলীগ সমর্থককে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঘোষিত ‘লকডাউন’ কর্মসূচির ঠিক আগে সোমবার কেন আচমকা এই ধরণের ঘটনা ঘটল? নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণ বা বাসে আগুন দিয়ে আওয়ামী লীগ কোন রাজনৈতিক ফায়দা তুলবে? এই প্রশ্নও উঠছে। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের দাবি, এটা একটা সুপরিকল্পিত চক্রান্ত হতে পারে। এই ধরণের ঘটনা ঘটিয়ে আওয়ামী লীগের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা এটা। যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে সহানুভূতির হাওয়া তৈরি হয়েছিল, তা দূর হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, রাজধানীতে ইতিমধ্যেই বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ১৩ নভেম্বর বৃহস্পতিবার থাকবেন অন্তত ১৭ হাজার পুলিশকর্মী ও আধিকারিক। ওই দিনই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা করার কথা রয়েছে। তার আগেই ঢাকায় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন, প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যার ঘটনাও ঘটে গেল ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে। যা নিয়েই মূলত চর্চা চলছে রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলে।
বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে একটি মামলায় শুনানি শেষ হয়েছে। ১৩ নভেম্বরের পর যে কোনও সময় রায় ঘোষণা হতে পারে। এই আবহেই আওয়ামী লীগ বড়সড় গোলমাল পাকাতে পারে বলে গোয়েন্দা রিপোর্ট রয়েছে বলেই দাবি অন্তর্বর্তী সরকারের। বিগত কয়েক দিন ধরে ফেসবুকে আওয়ামী লীগের পেজ-সহ দলের নেতাদের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে এই কর্মসূচি নিয়ে টানা প্রচার চালানো হচ্ছে। ফলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের এই কর্মসূচি প্রতিহত করতে বধ্যপরিকর অন্তর্বর্তী সরকার। তবে ইউনূস সরকারের সমর্থনে থাকা বিএনপি ও জামাতের মতো রাজনৈতিক দলও পাল্টা কর্মসূচি ডেকে আওয়ামী লীগকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছে। তাঁরাও ওই দিন রাস্তায় নামছে। কিন্তু বিগত মাসগুলিতে দেখা যাচ্ছে আওয়ামী লীগের যে কোনও কর্মসূচি ও মিছিলে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি বাড়ছে। তাই সব পক্ষই এখন ভীত। তাই জন্যই কি ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুনের মতো ঘটনা ঘটছে ঢাকায়? যদিও আওয়ামী লীগের দাবি, যে কোনও মূল্যে কর্মসূচি তাঁরা সফল করবেই।












Discussion about this post