কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সেই ভাষণ মনে আছে। লালকেল্লায় বিস্ফোরণের প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, কাউকে রেয়াত করা হবে না। হামলার নিন্দা করে তিনি বলেন, ‘আমি আমার সহ নাগরিকদের আশ্বস্ত করতে চাই যে দেশের শীর্ষস্থানীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি এই ঘটনার দ্রুত এবং পুঙ্খানুপুঙ্খু তদন্ত পরিচালনা করছে। তদন্তের ফলাফল শীঘ্রই প্রকাশিত হবে। আমি জাতিকে দৃঢ়ভাবে আশ্বস্ত করতে চাই যে এই ট্র্যাজেডির জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হবে। কোনও অবস্থাতেই তাদের রেয়াত করা হবে না। ’ বাংলাদেশকে কার্যত হুমকি দিয়ে বসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
রাজনাথের বক্তব্য যে বল্লমের তীক্ষ্ণ ফলার মতো তদারকি সরকারের প্রধান এবং তাঁর পারিষদবর্গের গায়ে লেগেছে, সেটা বোঝা যাচ্ছে ঢাকার প্রতিক্রিয়ায়। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রক থেকে বিবৃতি জারি করে বলা হয়েছে, রাজনাথ সিংয়ের মন্তব্যকে ‘অযথার্ত’ বলে দেগে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে এই মন্তব্য শিষ্টাচার ও কূটনৈতিক সৌজন্যের প্রতি সম্মানজনক নয়। কিন্তু ঢাকা ক্রমাগত ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলে যাবে, সে দেশে মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানের জঙ্গিরা হামলার নীল নকশা সাজাবে, এ দেশে হামলা হবে আর সাউথব্লক বা সেনাসদর চুপ করে বসে থাকবে সেটা তো আর হতে পারে না।
রাজনাথ সিং সম্প্রতি ভারতের একটি বৈদ্যুতিন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে যা বলেন তার সারমর্ম হল ভারত কোনও প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে বিবাদে জড়াতে চায় না। সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। কিন্তু ভারতকে কোনও দেশ অস্থিতিশীল করে তোলার চেষ্টা হলে ভারত তা প্রতিহত করতে বদ্ধপরিকর। এই বার্তার লক্ষ্য যে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
একধাপ এগিয়ে ভারত এবার সীমান্তকে আরও নিশ্ছিদ্র করে দিল। ভারতের গণমাধ্যমে এই নিয়ে খবর প্রকাশ করা হয়েছে। এমনকী বাংলাদেশের প্রথম সারির গণমাধ্যম থেকে শুরু করে ছোট ছোট গণমাধ্যমও সেই খবর প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত খবর বলা হয়েছে বাংলাদেশ সীমান্তের ৩০ কিলোমিটারের ভিতরে ভারত সেনাঘাঁটি তৈরি করেছে। এটা ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সংযোগ স্থাপনকারী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেন নেক’-য়ের কাছেই এটি তৈরি হচ্ছে। সম্প্রতি সেই সেনা ছাউনির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন ভারতীয় সেনার পূর্বাঞ্চলীয় কম্যান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আর সি তিওয়াড়ি। নাম রাখা হয়েছে লাচিত বোরফুকান মিলিটারি স্টেশন। খুব কম সময়ের মধ্যে তৈরি হয়েছে এই সেনা ছাউনি। সেনা ছাউনি তৈরি হয়েছে উত্তর দিনাজপুরের চোপরায়।
বাংলাদেশের অধিকাংশ গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত রয়েছে ৪,০৯৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে ভারতের জন্য। স্পর্শকাতর হল শিলিগুড়ি করিডোর। কারণ এই করিডোরের একপাশে রয়েছে চিন ও নেপাল। আরেক পাশে রয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে সুষ্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, বর্তমান ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। বিশেষ করে হাসিনা-পরবর্তী অধ্যায়ে দিল্লি-ঢাকা সম্পর্ক এখন শীতল। এই আবহে খুব অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতের একটি নতুন সামরিক ঘাঁটি চালু হওয়ার বিষয়টিকে উত্তরপাড়া এবং যমুনাভবন কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সীমান্তকে গুরুত্ব দিয়ে গত সেপ্টেম্বরে কলকাতায় ‘কম্বাইন্ড কম্যান্ডার্স কনফারেন্স হয়েছে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং তিন বাহিনীর প্রধান। ’
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post