বাংলাদেশে আগে ভালো ধান চাষ হতো। পদ্মার ইলিশ যে কতটা সুস্বাদু, তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। সেই বাংলাদেশের মাটিতে এখন জঙ্গি চাষ হচ্ছে। চাষ হচ্ছে মৌলবাদী শক্তির। যে হাসিনার আমলে এরা মাটির তলায় গুটিয়ে থাকত, যেভাবে সাপ গুটিয়ে থাকে, এখন তারাই ফনা তুলতে শুরু করেছে। আর এর জন্য দায়ী তদারকি সরকার প্রধান ইউনূস। সরকার এখন জঙ্গিদের বিরাট বড়ো স্পনসর। আর উস্কানি দিচ্ছে পাকিস্তান। কোনও কোনও প্রান্ত থেকে বলা হচ্ছে, ডিপস্টেটও এই কুচক্রে সামিল।
বাংলাদেশে যে নানা প্রান্তে জঙ্গি শিবির তৈরি হয়েছে, তারা একটা তালিকা নিউজ বর্তমান কিছুদিন আগেই প্রকাশ করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা র-য়ের এক শীর্ষ কর্তা ভারতে একটি গণমাধ্যমের কাছে তালিকা তুলে দিয়েছেন। সেই তালিকা রয়েছে তদারকি সরকার প্রধান ইউনূসের বাড়ির ১০০ মিটারের মধ্যে একটি জঙ্গি শিবির তৈরি করা হয়েছে। সেই শিবিরের ওপর চক্কর কাটছে ড্রোন।
আগে দক্ষিণ এশিয়া সহ বিশ্ব জানত পাকিস্তান জঙ্গি কার্যকলাপে মদত দেয়। তার প্রমাণও পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ কখনও জঙ্গিবাদ বা মৌলবাদকে প্রাধান্য দেবে সেটা কোনওদিন বোঝা যায়নি। অনেকের মনে হয়েছিল জুলাই-অগাস্টে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নতুন সূর্যের উদয় হবে। নতুন সূর্য উঠেছে ঠিক। তবে সূর্যের বলয় ঢেকে রেখেছে বিভিন্ন অপশক্তি। আর তারাই এখন দেশটাকে চালাচ্ছে।
আসলে এটা হওয়ার ছিল। আজ হোক বা কাল। কারণ, কোনও দেশের সরকার যদি দূর্বল হয় তাহলে তাঁকে ঘিরে ধরে হিংস্র হায়নার দল। একটি গণতান্ত্রিক দেশে সেই হায়নারা হলে বিরোধী রাজনৈতিক দল। আর বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এরা হল মৌলবাদী শক্তি। সরকার থেকে তো তাদের উৎসাহ দেওয়া চলছে। আগামীদিনে তদারকি সরকারের তরফে উৎসাহ ভাতা ঘোষণা করা হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। অবাক হওয়ার থাকবে না যদি সরকারের তরফ থেকে তাদের অবসরকালীন একটা মোটা টাকা এবং বেশ কিছু সুযোগ সুবিধে দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়। কারণ, সরকার তো জঙ্গিবাদ এবং মৌলবাদকে সমর্থন করে। যদি না করে, তাহলে কী করে তাদের এই রকেট গতিতে উত্থান ঘটল ?
গত ১৪ মাস আগে এই সব অশুভশক্তিকে মাথা তুলে দাঁড়াতে দেখা যায়নি। এখন তারা শুধু মাথা তুলে দাঁড়িয়ে নেই, কী করে এই দক্ষিণ এশিয়া অশান্ত করা যায়, তার একটি নীল নকশা তৈরি করছে। গত জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনের সময় বিভিন্ন থানা থেকে অস্ত্র লুঠ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। সূত্রের খবর, সেই সব অস্ত্র এই জঙ্গিদের হাতে চলে গিয়েছে। পরিস্থিতি যে দিকে এগোচ্ছে তাতে বাংলাদেশ একটি তালিবানে রাষ্ট্র রূপান্তরিত হতে পারে। মহিলাদের ঘরে থাকতে হবে। হাসিনা আমলে যেভাবে তারা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন, আগামীদিনে তাদের সঙ্গে সাংস্কৃতিক জগতের বিচ্ছেদ ঘটবে। চাকরি করা যাবে না। রাস্তার বাইরে একা বেরোতে পারবেন না। যদিও বা ঘরের উঠোন টপকে রাস্তায় তাদের আসার ক্ষেত্রে ছাড় মেলে তাহলে কী ধরনের পোশাক পরতে হবে তার একটা গাইডলাইনও হয়তো আগামীদিনে সরকারিস্তরে প্রকাশিত হবে।
আর এই অপশক্তিকে মদত দিচ্ছে এনসিপি, বিএনপি, জামায়াত। এরা সকলেই কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষশক্তি। তারা চাইছে বাংলাদেশে আরও অন্ধকারে ডুবে যাক। তাতে তাদের আরও লাভ হবে। কিন্তু একটা বিষয় হয়তো তারা বুঝতে পারছে না। বাংলাদেশের মানুষ যদি একবার উপলব্ধি করে যে, কষ্ট করে অর্জন করা স্বাধীনতা তারা হারাতে চলেছে, তাহলে গত বছরের মতো তারাও আবার রাস্তায় নামতে দ্বিধা করবে না।












Discussion about this post