তেলের সঙ্গে জল কোনওকালে মিশেছে বলে কেউ কোনওদিন শোনেনি। কিম্বা সাপের সঙ্গে বেজির গলায় গলায় ভাব? কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতিতে এবার সেটাই ঘটতে চলেছে। জামায়াতকে জামাই আদর করার কী ফল হতে পারে, সেটা আন্দাজ করতে পেরেছে বিএনপি। এই মৌলবাদী শক্তিকে রুখতে তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে এ দেশের একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন তেমন ইঙ্গিত দিয়েছে। আর বিএনপি নেতা সোমবার যা বললেন, সেটা সেই সম্ভাব্য আঁতাতে সিলমোহর দিচ্ছে। সোমবার ছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের হাসিনা এবং তাঁর সরকারের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। আর রবিবার রাত থেকে ঢাকা কার্যন্ত ক্ষোভের আগুনে পুড়তে শুরু করে। আইন-শৃঙ্খলার চূড়ান্ত অবনতি। আর তা নিয়ে এবার মুখ খুললেন আওয়ামীর রাজনৈতিক ‘শত্রু’ বিএনপির প্রথম সারির নেতা কাজি মনিরুজ্জামান।
ভারতের একটি সংবাদংস্থাকে কাজি বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থতির এই রকমভাবে ভেঙে পড়বে সেটা কল্পনাও করা যাচ্ছে না। আমি একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী। আমি আবার ব্যবসায়ীও বটে। সত্যি কথা বলতে কী বর্তমান পরিস্থিতি রীতিমতো আতঙ্কের। আমাদের আশা বাংলাদেশে একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসীন হবে। তারা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনবে। বর্তমানে বাংলাদেশজুড়ে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, নির্বাচিত সরকার সেই অচলাবস্থা কাটাতে পারবে। দেশ ফিরবে স্বাভাবিক ছন্দে।’
এই বরিষ্ঠ বিএনপি নেতা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচন ছাড়া দ্বিতীয় কোনও রাস্তা আর নেই। নির্বাচন হতে হবে স্বচ্ছ এবং অবাধ। গত বছর থেকেই আমরা একটি অস্থিরতার মধ্য দিয়ে চলেছি। সেই অস্থিতিকর পরিস্থিতির এবার অবসানের প্রয়োজন। এই প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশের বড়ো প্রতিবেশী দেশকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রশ্ন করা হয়েছিল ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়েও। সেই সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে কাজি মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে সব প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সুসম্পর্ক রয়েছে। আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লডা়ই করতে হবে। বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্পকে যদি কোনওভাবে রক্ষা করা না যায় তাহলে বাংলাদেশ আরও অস্থির হয়ে উঠবে।’ ভারত প্রসঙ্গে তাঁর অনুধাবন, ‘আমাদের যেমন ভারতকে দরকার, ভারতেরও দরকার আমাদের। ভারত আমাদের অন্যতম বড়ো একটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র। ওই দেশের সঙ্গে আমাদের দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত হার্দিক। আশা করি অদূর ভবিষ্যতে সেই সম্পর্ক থাকবে।’
আসলে বিএনপি এখন বুঝতে পেরেছে ইউনূসের মতলবটা কী? ইউনূসের মতলব হল দেশ রসাতলে যাক। এখন যতটা গিয়েছে, তার থেকেও আরও রসাতলে গেলে মন্দ হবে না। কিন্তু তাকে ক্ষমতায় থাকতেই হবে। তাই, তিনি জামায়াতের কোলে উঠে বসেছেন। আর সেটা আওয়ামী লীগ আগেই বুঝতে পেরেছে। আর বিএনপি একটু দেরিতে হলে বুঝতে পেরেছে। জামায়াতের হাতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা কোনওভাবে চলে গেলে সাড়ে সর্বনাশ। তাই, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে তাদের শত্রু হলেও দেশবাঁচাতে দরকার হলে তাদের হাত ধরতে হবে।
সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে ভারতের একটি গণমাধ্যম থেকে বলা হয়েছে, বিএনপির তরফ থেকে আওয়ামী লীগের কাছে ফিড পাঠানো হচ্ছে। তারা চাইছে হাসিনার দল যেন দ্রুত এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়। ভোট নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই যেন এই ব্যাপারে একটা সমঝোতা হয়ে যায়।












Discussion about this post