১৯৮৩ সালের প্রুডেন্সিয়াল কাপের ফাইনাল ম্যাচের কথা মনে আছে নিশ্চই।
সবাই ধরে নিয়েছিল জিম্বাবোয়ের কাছে ভারত হারছেই হারছে। ম্যাচ তাদের পকেটে চলে গিয়েছে। এখন শেষ উইকেটের পতন দরকার। নয় রানের মাথায় চারটে উইকেট পড়ে গিয়েছে। দুই ওপেনার শ্রীকান্ত এবং গাভাস্কার শূন্য রান করে প্যাভিলিয়নে। মহিন্দার ওমর নাথ করেছেন ২০ বলে পাঁচ রান। যশপাল শর্মা ২৮ বলে নয় রান। বাকি ব্যাটসম্যানদের রান আর উল্লেখ করার দরকার নেই। সেই প্রায় নিশ্চিত হেরে যাওয়া ম্যাচকে একাই ঘুরিয়ে দেন কপিল দেব। যাকে বলে একাই একশো। ব্যাটে ঝড় তুলেছিলেন। ভারতকে লজ্জার হার থেকে বাঁচিয়েছিলেন। আর বিশ্বকাপটা ভারতে নিয়ে এসেছিলেন।
কপিল দেবের এই ইনিংসের সঙ্গে শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের কর্মসূচির খানিকটা মিল পাওয়া যায়। ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর ইউনূসের ইনসুইং আর আউট সুইংয়ে আওয়ামী লীগ কার্যত নাস্তানাবুদ হয়ে পড়ে। সরকার এবং প্রশাসনের তরফে একটা ছবি তৈরির চেষ্টা চলে যে ‘নৌকা’ এবার পদ্মায় ডুবিয়ে ছাড়বেন ইউনূস। ছবি যখন এরকম তখন রাজনীতির ২২ গজে নেমে খেলা ঘুরিয়ে দিলেন হাসিনা। পরের পর চার আর ছয়। প্রতিটা বডিলাইন বোলিং হাসিনা সামলেছেন। গত কয়েক মাস তিনি টেস্টম্যাচের কায়দায় খেলে এসেছেন। এখন খেলছেন টি টোয়েন্টির কায়দায়।
তাঁর এখন নীতি অফেন্স ইজ দ্য বেস্ট ডিফেন্স। তাই, সরাসরি তদারকি সরকারের সঙ্গে প্রকাশ্যে সংঘাতে জড়িয়ে গিয়েছেন।গত দেড় বছর ধরে ইউনূস এবং তাঁর সরকার তাঁর (হাসিনার) বিরুদ্ধে যে মিথ্যে বিবৃতি দিয়েছেন, সেটা বলতে এখন আর দ্বিধা করছেন না মুজিব-কন্যা। তাঁর এই বয়ান সব থেকে বেশি করে লজ্জায় এবং অস্বস্তিতে ফেলেছে আমেরিকাকে। হাসিনা যদিও বা বলছেন, বাংলাদেশের ক্ষমতা থেকে তাঁর প্রস্থানের সঙ্গে ডিপস্টেটের কোনও সম্পর্ক নেই। কিন্তু কিছুদিন আগে ট্রাম্প সরকারের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড বিস্ফোরক বয়ান দেন। তিনি বলেন, কয়েক দশক ধরে অন্য দেশের ‘সরকার পরিবর্তন (রেজিম চেঞ্জ) বা রাষ্ট্রগঠনের’ নীতি অনুসরণ করে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনকালে যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতির সমাপ্তি ঘটেছে।
হাসিনার এই অকুতোভয় লড়াই ইউনূস এবং তাঁর অবৈধ সরকারে গ্যাঁট হয়ে বসে থাকা মন্ত্রীদের ভয় ধরিয়ে দিয়েছে। তাঁরা ভাবতেও পারছেন না এক মহিলা একাই একটি সরকারের ভিত কাঁপিয়ে দিতে পারে। অথচ আওয়ামী লীগ যাতে ঘুরে দাঁড়াতে না পারে, তার জন্য তারা কম চেষ্টা হয়নি। হাসিনার ব্যাটিং ইউনূসের বডিলাইন বোলিংকে পিটিয়ে ছাতু করে দিয়েছে। আর তাঁতে আরও কাঁপুনি ধরেছে ইউনূস এবং তাঁর উপদেষ্টাদের। শোনা যাচ্ছে কেউ কেউ নাকি বাংলাদেশ থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন।
সরকার যে ভয় কতটা পেয়েছে সেটা দুটি ঘটনা থেকে খুব স্পষ্ট। প্রথমত ইউনূসের কথার কোনও সঙ্গতি পাওয়া যাচ্ছে না। আর আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার গুন্ডাবাহিনী তৈরি। আওয়ামী লীগের শাটডাউন বানচাল করার চেষ্টা চলে। সরকার চূড়ান্ত ব্যর্থ। আর সেই ব্যর্থতা থেকে একটি বার্তা উঠে আসে – ইউনূসের এবার যাওয়ার সময় হয়েছে।
হাসিনার এই প্রত্যাবর্তন দেশ থেকে শুরু করে বিদেশী মিডিয়ার সব আলো শুসে নিয়েছে। এমনকী বাংলাদেশে হাসিনাপন্থী যে সব মিডিয়া রয়েছে তারাও বাধ্য হচ্ছে আওয়ামী লীগের কর্মসূচিকে ফলাও করে ছাপতে।
এদিকে আবার রায় ঘোষণার পরে পরে বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে হাসিনা এবং প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য দিল্লিকে












Discussion about this post