হাসিনা দেশে ফিরছেন সেটা অনেক আগেই স্পষ্ট হয়ে যায়। আর সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের তাঁর বিরুদ্ধে, তাঁর প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জমান খান কামালের বিরুদ্ধে দেওয়া সর্বোচ্চ শাস্তি সেই প্রত্যাবর্তনের রাস্তাকে যেন আরও বেশি প্রসারিত করে দিল। কিছুদিন আগে ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রী ভারতে একটি গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। তিনি এর আগেও ভারত সহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে তাঁর সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছিল। তবে ভারতের ওই গণমাধ্যমে গত ১৩ নভেম্বরের সাক্ষাৎকারের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয়। এর আগে পর্যন্ত তাঁর সাক্ষাৎকার ছিল তদারকি সরকারকে নিয়ে। পাশাপাশি ছিল বাংলাদেশের অস্থির অবস্থা নিয়ে তাঁর মানসিক উদ্বেগ। ১৩ নভেম্বর ভারতের ওই গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারের রয়েছে সেনাপ্রধান ওয়াকার উজজামানের প্রসঙ্গ।
গণমাধ্যমের তরফ থেকে হাসিনাকে প্রশ্ন করা হয়, তাঁর সেফ এগজিটের বিষয়ে সেনাপ্রধানের ভূমিকা কতখানি? আপনি কি মনে করেন তিনি নিরপেক্ষভাবে তাঁর ভূমিকা পালন করতে পেরেছে? না কি তাঁর পর মার্কিন চাপ ছিল? সেই চাপের কাছে তিনি নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন? অথবা তাঁকে একটা ভারসাম্যের খেলা খেলতে হয়েছিল? উদ্দেশ্য যতটা সম্ভব রক্তপাত প্রাণহানি এড়িয়ে যাওয়া?
জবাবে হাসিনা জানিয়েছেন, ‘সেনাবাহিনীকে অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। উনমত্ত জনতার হাত থেকে একটি সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে এমনভাবে রক্ষা করা যাতে মৃত্যুমিছিল এড়িয়ে যাওয়া যাবে। আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে। আলোচনা হয়েছে আমার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি। আমার সরকারের যে সব কর্মী রয়েছেন, তারাও যাতে নিরাপদে থাকতে পারেন, তা নিয়েও সেনাপ্রধানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আলোচনা হয়েছে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে। সেনাপ্রধানের ওপর বাইরে থেকে কোনও চাপ ছিল না বা তাঁকে চাপ দেওয়া হয়েছিল কি না, সে ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারব না। ’
তাঁর কাছে এও জানতে চাওয়া যে তিনি কি মনে করেন তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে সে দেশের নাগরিক সমাজের একাংশ এবং সেনাবাহিনী গোপনে চেষ্টা করেছিল? জবাবে হাসিনা বলেন, ‘এই ধরনের কোনও পরিকল্পনা হয়েছিল কিনা আমি সেটা বলতে পারব না। সেই সময় আমার ধ্যানজ্ঞান ছিল আমার দেশ তথা দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এমনটা যে আমায় করতে হবে সেটা ৫ অগাস্ট আমি বুঝতে পারি। ইউনূস যে দ্রুত গতিতে ক্ষমতা দখল করেছেন, গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িতদের রেয়াত করেছেন, বিচারবিভাগীয় তদন্ত প্রক্রিয়াকে ভেঙে দেওয়া থেকে স্পষ্ট যে এটা দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা। ইউনূস ক্ষমতা দখল করার জন্য এই সব করেছেন অথবা তাঁকে যারা ক্ষমতায় দেখতে চেয়েছিলেন, এটা তাঁদের সমবেত পরিকল্পনা। ’
জানতে চাওয়া হয়, ক্ষমতা থেকে তাঁর সরে যাওয়ার পিছনে আমেরিকার কতটা অবদান রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। জবাবে ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমেরিকার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক বেশ ভালো। তারা অথবা বিদেশি কোনও শক্তি এই কাজ করেছে বলে আমি বিশ্বাস করি না। আসলে এটা ইউনূস এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ পশ্চিমের মিত্রদের কাজ। এখন তারা বুঝতে পারছে তা কী ভুল করেছে। ’
হাসিনার এই বক্তব্য থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট হচ্ছে যে বাংলাদেশ থেকে তাঁর সেফ এগজিটের ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ মদত ছিল। ধরে নেওয়া যেতে পারে তাঁকে দেশে ফেরাতে বাহিনী রাস্তা প্রশস্ত করবে।












Discussion about this post