বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মানবতা বিরোধী অপরাধের করণের মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা করেছে সে দেশের আদালত। তার সঙ্গে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও একই সাজা দিয়েছে। আর আবহেই ১৯ তারিখ বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের ভারত সফরের দিন। কিন্তু তার আগের দিনই দিল্লি উড়ে গেলেন খলিলুর রহমান। হঠাৎ কেন তৎপরতা তাঁর? এটা কি ভারতের চাপ? নাকি আগেভাবে দিল্লি পৌঁছে তিনি শেখ হাসিনার প্রত্যপনের অনুরোধ করবেন? এমন নানা প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে।
১৯ নভেম্বর, অর্থাৎ বুধবার বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের দিল্লিতে যাওয়ার কথা ছিল। কলম্বোর সিকিউরিটি কনফ্লেভের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা দেশ সম্মেলনে তার যোগ দেওয়ার কথা। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণভাবে একদিন আগেই দিল্লি সফরে গেলেন খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার সন্ধ্যের সাড়ে ছটার পরে তিনি দিল্লিতে পৌঁছান। ভারতের ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ সচিবালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। জানা যায়, এই সম্মেলনটি বৃহস্পতিবার দিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সকালে এই সম্মেলনটি শুরু হবে এবং মধ্যাহ্ন ভোজের পর তা শেষ হবে। ঐদিন বিকেলে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার ঢাকার উদ্দেশ্যে দিল্লি ছাড়বেন।
খলিলুর রহমান এমন একটা সময়ে দিল্লি সফরে গেলেন, যখন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল যে সাজা ঘোষণা করেছে, তা নিয়ে তোলপাড় যেমন ওপার বাংলা। তেমন ভারতেও এই নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। শুধু তাই নয়, অনেকে ধারণা করছেন, খলিলুর রহমান একদিন আগে দিল্লি উড়ে গেলেন ভারতের চাপের কারণে। এমনকি ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে তিনি বৈঠক করবেন, এমন বিষয়ও ভেসে উঠছে কূটনৈতিক ক্ষেত্রে। হতে লপারে সেটি শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে। কিংবা অন্য বিষয়ও হতে পারে।
প্রসঙ্গত, এখনও শেখ হাসিনা ভারতের আশ্রয়ে রয়েছেন। এমনকি হাসিনার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর সে পররাষ্ট্র মন্ত্রালয়ের তরফে ভারতের পররাষ্ট্র দফতরে চিঠি পাঠিয়েছে। হাসিনাকে প্রত্যপর্নের জন্য চিঠি দিয়েছে তারা। অন্যদিকে সাজা ঘোষণার পর দিল্লির তরফে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল। এতে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল ঘোষিত রায় ভারত লক্ষ্য করেছে। ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে ভারত বাংলাদেশের জনগণের শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি ও স্থিতিতিশীলতা-সহ সামগ্রিক কল্যাণের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। এই লক্ষ্য অর্জনে আমরা সব পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যুক্ত থাকব। ভারত এই বিবৃতির মাধ্যমে তেমন কিছু পরিষ্কার করেনি। কূটনৈতিক চালে, কৌশলে এই বিবৃতি দিয়েছে। এমনকি বুঝিয়ে দিয়েছে, ভারত তাদের দেশের সমস্ত কিছু যেমন নজর রাখছে। একইভাবে অন্তর্ভুক্তি শব্দটির মাধ্যমে বলার চেষ্টা করেছে, আওয়ামী লীগ- সহ সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলিকে যেন বাদ দেওয়া না হয় রাজনৈতিক ক্ষেত্র থেকে। তবেই ভারত তাদের সঙ্গে কাজ করবে। অন্যদিকে সাজা ঘোষমার পর মুখ খুলেছেন শেখ হাসিনা। তিনি যে রায়কে পরোয়া করেন না সেটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। অন্যদিকে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, যদি আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না দেওয়া হয়, তবে সহিংসতার রূপ নেবে বলে স্পষ্ট জানান। এই একই বিষয় নিয়ে বাংলাদেশের উপর চাপ আসতে পারে ভারতের তরফে। আলোচনা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার, আসলে ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার বৈঠক হয় কিনা!












Discussion about this post