১৭ ই নভেম্বর দিনটা স্মরণীয় হয়ে থাকলো বাংলাদেশ তথা বিশ্বব্যাপীর কাছে। কারণ বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে একটি মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছে গতকাল অর্থাৎ ১৭ নভেম্বর।সোমবার দুপুরে এই রায় সামনে আসতেই তুঙ্গে চর্চা শুরু হয়ে যায় বাংলাদেশ থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। অনেকেই আবার ট্রাইবুনাল এ বিচার ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কারণ এই আদালত ইউনুসের শেখানো বুলি আওরে দিয়েছেন হাসিনার রায় প্রকাশ করতে গিয়ে এমনটাই মনে করছেন।এনিয়েই এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসলেন তসলিমা নাসরিন। সরাসরি প্রশ্ন তুললেন যে অভিযোগে হাসিনাকে অপরাধী বলা হচ্ছে, সেই একই কাজ করে কেন বিচার থেকে রেহাই পাচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস?ও তাঁর ‘জিহাদি বাহিনী’?
অর্থাৎ তিনি তার উপদেষ্টা সহ এর রেসিপি ছাত্র নেতাদের দিকেই আঙ্গুলের তীর ঘুরিয়েছেন।সোমবার ঢাকার আইসিটি জানায়, গত বছরের ছাত্র আন্দোলনে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’-এর দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন শেখ হাসিনা। অভিযোগ, হত্যায় প্ররোচনা, প্রতিবাদীদের গুলি চালানোর নির্দেশ এবং সহিংসতা ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়া, এর ভিত্তিতেই তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। যদিও এই রায় প্রকাশের পরেই ভারতবর্ষ থেকে বিভিন্ন সাক্ষাৎকার দিয়েছেন শেখ হাসিনা তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন ইউনুসের দিকে এবং ইউনুস বাংলাদেশের সমস্ত অপকর্মের মূল দায়ী একথাও জানাতে ভোলেননি। এই রায় মোটামুটি ওলটপালট করে দিয়েছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমীকরণ। এর পর পরই রাতে এক্স-এ কড়া প্রতিক্রিয়া দেন তসলিমা। বাংলাদেশের স্বনামধন্য লিখিকা লেখেন, ‘যে কাজকে হাসিনার সরকারের অন্যায় বলা হচ্ছে, ইউনূস সরকার এবং তার জিহাদি বাহিনী একই কাজ করেও নিজেদের ‘ন্যায়’ ঘোষণা করছে।’ তাই তাঁর প্রশ্ন, ‘যখন কেউ ধ্বংসাত্মক কাজ করে এবং সরকার গুলি চালানোর নির্দেশ দেয়, তখন সরকার নিজেকে অপরাধী বলে না। তাহলে গত জুলাইয়ে নাশকতা দমন করতে হাসিনার দেওয়া নির্দেশে তাঁকে অপরাধী বলা হচ্ছে কেন?’
শুধু তাই নয় তসলিমা আরো জানায় ইউনুসের রাজত্বেই যত অপকর্ম বাংলাদেশের ঘাঁটি গেড়েছে এবং সমস্ত ছাত্রদের এক প্রকার লেলিয়ে দিয়ে হাসিনার বিরুদ্ধে পূর্ব পরিকল্পিত চক্রান্তই ছিল ইউনূসের। বলা বাহুল্য ১৯৯৪ সালে ‘লজ্জা’ বইকে কেন্দ্র করে চরম হুমকির মুখে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন তসলিমা। তখন থেকেই তিনি ভারতে রয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ইউনুস প্রশাসনের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন লেখিকা। তিনি দাবি করেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার কেড়ে নেওয়া উচিত ইউনূসের কাছ থেকে এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হওয়া উচিত তাঁর। প্রসঙ্গত গত বছরের ৫ অগস্ট ছাত্র আন্দোলনে হাসিনা সরকার পতনের পর ৮ অগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্বে বসার প্রথম থেকেই তার ভারত বিরোধী মনোভাব পাকিস্তানের সাথে গলায় গলায় বন্ধুত্ব যা অনেক কিছু প্রশ্নের জন্ম দেয়। এমনকি পিছনে থেকে যেভাবে হাসিনাকে দেশছাড়া করানো জনগণকে উত্তপ্ত করা এমনকি অনেকের মতে তো আবার ট্রাইবুনাল আদালতের বিচার আগে থেকেই স্ক্রিপ্ট রেডি করা ছিল ইউনূসের এমনটাই মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।
ক্যাঙ্গারু আদালতের রায়ে হাসিনার পাশাপাশি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন রাষ্ট্রীয় সাক্ষী হয়ে পাঁচ বছরের সাজা পেয়েছেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচন সামনে রেখে এই রায় নতুন অস্থিরতার জন্ম দিতে পারে। এমনকি হাসিনা পুত্র জয় এই রায়দানের পরেই জানিয়ে দিয়েছেন এই রায় তিনি মানেন না এবং এই রায় পূর্বপরিকল্পিত বাংলাদেশের যতদিন না সুষ্ঠু সরকার আসছে এমনকি আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়া হচ্ছে ততদিন তিনি বা তার মা অর্থাৎ শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন না। অন্যদিকে আবার হাসিনা এই রায়কে ‘রাজনৈতিক প্রতিশোধ’, ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ এবং ‘অবৈধ ট্রাইবুনালের সিদ্ধান্ত’ বলে দাবি করেছেন।
অন্যদিকে, এই রায় প্রসঙ্গে ইউনুস বলছেন, ক্ষমতা যাই হোক, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়’। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাই এখন প্রশ্ন একটাই. এই রায়ে যে উত্তাপ বাড়ছে, তা কোথায় গিয়ে থামবে? তার ভবিষ্যতেই বা কি কেউ তা জানে না। শুধু তাই নয় বিচারের নামে এই প্রহসন বাংলাদেশে কবে বন্ধ হবে?’ হাসিনার ফাঁসির সাজার প্রসঙ্গেও প্রশ্ন তুললেন তসলিমা।পালটা মুহম্মদ ইউনূসকে ‘ক্রিমিনাল’ দেগে তোপ দাগলেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। তার বারবার একটাই প্রশ্ন কেন শেখ হাসিনা-ই শুধু অপরাধী’কেউ নাশকতামূলক কাজ করলে এবং বর্তমান সরকার তাদের গুলি করার নির্দেশ দিলে, সরকার নিজেকে অপরাধী বলে না! তাহলে গত জুলাইয়ে যারা নাশকতা ছড়াল, নাশকতা ছড়ানোর দায়ে তাদের গুলি করার নির্দেশ দেওয়ার জন্য হাসিনাকে কেন অপরাধী বলা হচ্ছে?” তিনি এও মনে করিয়ে দেন যে যেখানে হাসিনার কোন সরাসরি সংযোগের প্রমাণও মেলেনি। সোশ্যাল মিডিয়া এক্স হ্যান্ডেলে বিস্ফোরক পোস্ট করার পরেই তিনি হাসিনার পক্ষে থেকে ইউনূসের অপরাধের শাস্তি দাবি তুলে লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছেন।












Discussion about this post