ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে বৈঠকের পরে পরে কাতার ছুটলেন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। ভারতের একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সফর প্রসঙ্গে বাংলাদেশের তরফে বলা হয়েছে, গত ২৪ নভেম্বর ‘সরকারি’ সফরে কাতার গিয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে খলিলুরের সফরের বিষয়ে তারা কিছু নথিপত্র পেয়েছে। সেই নথি বলছে, খলিলুরের কাতার সফর ২৫ নভেম্বর থেকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু দোহায় গিয়ে তিনি কাদের সঙ্গে দেখা করবেন বা কাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন, সে বিষয়ে তদারকি সরকারের তরফে দেওয়া বিবৃতিতে কিছু উল্লেখ নেই। তবে ভারতের ওই গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, বেশ কয়েকজন মার্কিন শীর্ষকর্তার সঙ্গে ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ করার জন্য খলিলুর কাতার গিয়েছেন। তাঁর এই বৈঠকের বিষয়ে আমাদের বিদেশ মন্ত্রক অবগত রয়েছে। অবগত আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। খলিলুরের এই সফরকে আমাদের দেশের দুই মন্ত্রক একেবারেই হালকাভাবে দেখতে নারাজ। বিশেষ করে এই সফর হল ডোভালের সঙ্গে বৈঠকের পরে পরে। আরও যে বিষয়টি সব থেকে বেশি উল্লেখযোগ্য, তা হল দিল্লি আসার আগেই ডোভালের কাতার সফর ঠিক হয়ে যায়। সরকারি বিবৃতির তারিখ ২৪ নভেম্বর। আর ডোভালের সঙ্গে খলিলুরের বৈঠক হয়েছিল ১৯ নভেম্বর।
সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে ভারতের ওই গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোভালের সঙ্গে বৈঠকে খলিলুরের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বেশ কিছু নথিপত্র। সেই নথিতে উল্লেখ রয়েছে সীমান্ত লাগোয়া দুই থেকে তিনটি জেলায় ইসলামি জঙ্গিদের মোট ১২টি ডেরা রয়েছে। সাউথব্লক থেকে আগেই ঢাকাকে এই বিষয়ে অবগত করা হয়। জানিয়ে দেওয়া হয়, দ্রুত ওই সব জঙ্গি শিবির নিউট্রালাইজ করতে হবে। সাউথব্লকের ওই অনুরোধের পরেও ওই সব জঙ্গি শিবির এখনও কী করে রয়ে গিয়েছে, সেটা খলিলুরের কাছে জানতে চাওয়া হয়। তিনি কার্যত কোনও জবাব দিতে পারেননি।
এবার প্রশ্ন হল কেন সাত তাড়াতাড়ি তিনি দোহায় ছুটলেন? একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশে জাতীয় রাজনীতির চিত্রপট বদলে দেওয়ার পাণ্ডুলিপি তৈরি হয়েছিল দোহায়। মার্কিন কর্মকর্তারা ওখানে আসেন এবং সেখানকার অভিজাত হোটেলে বেশ কিছুদিন থেকে আবার দেশে ফিরে যান। তার কারণ মধ্যপ্রাচ্যের সব থেকে বড়ো সামরিক ঘাঁটি দোহাতেই। ভারতের ওই গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এটাও বলা হয়েছে, খলিলুর রহমান প্রথম কাতার যান গত ২৬ মে। গিয়েছিলেন কাতার এয়ারওয়েজের কিউ আর সিক্স থ্রি নাইন বিমানে। দোহায় খলিলুর বেশ কয়েকজন মার্কিন শীর্ষকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক করেন বেশ কয়েকজন মার্কিন শীর্ষ নিরাপত্তাকর্তার সঙ্গে। উল্লেখ করার মতো বিষয় হল খলিলুরের দোহা যাওয়ার আগেই ঢাকায় মার্কিন ‘চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স’ ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন দোহা গিয়েছিলেন।
দ্বিতীয়বার খলিলুর দোহা যান ২৬ জুলাই। সেই সফরেও তিনি আমেরিকার বেশ কয়েকজন শীর্ষকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন। তাঁদের সঙ্গে বৈঠকের পর খলিলুর চলে যান আমেরিকা। সেখান থেকে ঢাকা ফেরেন ৫ অগাস্ট। আর ওই দিন কিন্তু হাসিনা প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়ান। আর ঢাকা ক্রমশ উত্তাল হতে শুরু করে। গত ২৮ অগাস্ট খলিলুর ফের দোহা গিয়েছিলেন। সেদিনই তিনি বাংলাদেশ ফেরেন। দেশে কিছুদিন ছিলেন। পরে তিনি আবার দুদিনের সফরে গত ৩ সেপ্টেম্বর বেজিং যান। ঘনঘন তাঁর দোহা যাওয়ার কারণ কী? সূত্র বলছে, আগামীদিনে খলিলুর কোন পথে হাঁটবেন বাংলাদেশের পরবর্তী জাতীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতির অভিমুখ কী হবে, সেটা আগাম জানার জন্য তিনি বারে বারে দোহা ছুটছেন। দোহা দিয়ে মার্কিন কর্তাদের বলছেন, দোহাই বলুন এবার কী করতে হবে?
মুহাম্মদ ইউনূসের মব সন্ত্রাসের শিকার হয়েছিলেন বাংলাদেশের বহু মানুষ। মানুষ ছিল অতিষ্ট। তারেক রহমান তখন লন্ডনে। ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি...
Read more












Discussion about this post