গুরুতর অসুস্থ বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার পুত্র তারেক রহমান লন্ডনে রয়েছেন। মায়ের এমন সংকটজনক পরিস্থিতিতে তিনি কি দেশে ফিরবেন? এই প্রশ্নটা বারবার উঠেছে। শেষমেষ জানা গেল, তিনি দেশে ফিরছেন না। নিরাপত্তাজনিত কারণে দেশে ফিরছেন তারেক রহমান। এদিকে দলের সিদ্ধান্ত, বেগম খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়া হবে চিকিৎসার কারণে। তবে অসুস্থ খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাতারের আমিরের এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে কারিগরি সমস্যা দেখা দেওয়ার যাত্রা বিলম্বিত হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। তবে এত কিছুর পরও কেন তারেক রহমান দেশে ফিরলেন না? তা ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
জানা যাচ্ছে, সবকিছু ঠিক থাকলে আজ শুক্রবার সেই যাত্রা হতে পারে। আবার কিছু সূত্র জানাচ্ছে, রবিবারের আগে লন্ডন যাত্রা হচ্ছে না খালেদা জিয়ার। এমনকি এটাও জানা যাচ্ছে, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত। আগে তিনি যেমন ছিলেন, এখন তাঁর শারীরিক অবস্থা একই। এদিকে চিকিৎসার জন্য শাশুড়িকে লন্ডনে নিয়ে যেতে তারেক রহমানের স্ত্রী জোবাইদা রহমান ঢাকায় এসেছেন। শুক্রবার সকাল পৌনে ১১টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে তিনি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছন। উল্লেখ্য, রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে প্রায় ১৩ দিন ধরে অসুস্থ হয়ে রয়েছে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সিসিইউতে রাখা হয়েছে তাঁকে। দীর্ঘদিন ধরে খালেদা জিয়া আর্থ্রোইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যা-সহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। এখন পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটে। এই অবস্থায় মাকে দেখতে কেন খালেদা পুত্র বাংলাদেশে আসতে পারছেন না, তা নিয়ে নানা জল্পনা, কল্পনা তৈরি হয়েছে। জানা যাচ্ছে, তিনি নিরাপত্তাজনিত কারণে দেশে ফিরতে পারছেন না। কারণ বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান ওয়ান ইলেভেনের পর ২০০৮ সালে জেল থেকে বেরিয়ে সপরিবারে ব্রিটেনে চলে যান। তারপর তিনি আর দেশে ফেরেননি। জানা যায়, সেই সময় তিনি নাকি তৎকালীন সেনাকর্তাদের কাছে মুচলেখা দিয়েছিলেন তারেক। তাতে লেখা ছিল, তিনি আর বাংলাদেশের সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরবেন না। সেই সেনাকর্তাদের মধ্যে অনেকেই এখনও সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদে আসীন রয়েছেন। এমনকি তদের মধ্যে একজন জেনারেল ওয়াকার। তাই এই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তারেক দেশের মাটিতে পা দিলেই তিনি গ্রেফতার হতে পারেন। এরপর বিদেশ থেকেই তিনি দল পরিচালনা করে আসছেন। মায়ের শারীরিক অবস্থা সংকটের পরও তিনি দেশে ফিরতে পারছেন না। একবার ফেরার সিদ্ধান্ত নিলেও এখন জানা যাচ্ছে, মাকে লন্ডনেই নিয়ে যাবেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতি সংকটের সঙ্গে সঙ্গে বিএনপির ভবিষ্যতও কি সংকটের দিকে? খালেদা জিয়ার পর তারেক রহমানই বিএনপি নেতৃত্ব। তিনি দেশে নেই। ফেরার সম্ভাবনাও ক্ষীণ। এছাড়াও আর কেউ তেমন কেউ নেই, যে দলের নেতৃত্ব দিতে পারেন। এদিকে সামনে নির্বাচন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন গড়িমসি করতে পারে অন্তবর্তীকালীন সরকার। অন্যদিকে আরও একটি সম্ভাবনার কথা তুলে ধরছেন বিশেষজ্ঞরা। মাইনাস টু ফর্মুলা। যেমন আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা দেশের বাইরে যেতে বাধ্য হয়েছেন, ঠিক একইভাবে বেগম খালেদা জিয়াও দেশ ছাড়লে আওয়ামী লীগকে যেমন উপড়ে ফেলার ষড়যন্ত্র চলছে, একইভাবে বিএনপি কেউ একই পরিস্থিতিতে ফেলা যাবে। ফলে সবমিলিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠছে।












Discussion about this post