আজই বাংলাদেশে নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা হতে পারে। নির্বাচন কমিশনার আজই তফশিল ঘোষণা করতে পারে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে। আর আজই উপদেষ্টা আসিফ মুহাম্মদ সজীব ভুঁইয়া পদত্যাগ করতে পারেন। এমনটাই সূত্র মারফত খবর। যা ঘিরে তোলপাড় বাংলাদেশের রাজনীতি। এখন প্রশ্ন, শুধুমাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া নন, মাহফুজ আলমের বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। তাঁকেও নাকি সরকারের পক্ষ থেকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছিল। সেক্ষেত্রে তিনিও কি পদত্যাগ করতে পারেন? উঠছে প্রশ্ন। আসলে কি হতে চলছে বাংলাদেশের রাজনীতি, সেটা নিয়েই তুমুল আলোচনা চলছে।
বেশ কিছুদিন আগে একটি সাক্ষাৎকারে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেছিলেন, তাঁরা দুজন ছাত্র উপদেষ্টা নয়, আরও কয়েকজন পদত্যাগ করতে পারে। আর সেটা তফশিলের আগে। এমনকি নির্বাচনে আরও কয়েকজনের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করেছিলেন তিনি। তবে তলে তলে কি ঘটছে, সেটা সময় এলেই বোঝা যাবে। তবে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এবং মাহফুজ আলম…এই দুই ছাত্র উপদেষ্টার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। তাঁরা নির্বাচন চলাকালীন অবস্থায় সরকারে থাকলে, নির্বাচনে প্রভাবিত করতে পারেন। এমন গুরতর অভিযোগ যেমন ছিল, একইভাবে রাজনৈতিক দল বিএনপি এই দুই ছাত্র উপদেষ্টার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ সামনে এনেছিল। এঅমনকি অন্তবর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে বিএনপির প্রতিনিধি দল বৈঠকে বসলে তারা এগুলি উত্থাপিত করেছে। পাশাপাশি তারা সরকারের কাছে আবেদন করেছিল, যাতে এদের দুজনকে উপদেষ্টা পদকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তাঁদের একাধিক সময়ে বিতর্কিত মন্তব্য যেমন সরকারকে বিব্রত করেছে, তেমনই রাজনৈতিক দল ও বাংলাদেশের রাজনীতিকে বিব্রত করেছে। আর এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার সেই সন্ধিক্ষণ এল। আর এই দিনই আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া একটি জরুরি সাংবাদিক বৈঠক ডেকেছেন। সেখানে তিনি নিজের পদত্যাগের কথা জানাতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি নাটকীয় ঘটনাও ঘটতে পারে। তিনি হয়তো বলতেই পারেন, তিনি নির্বাচন করছেন না। কিন্তু তিনি সরকারে থাকছেন। কারণ দেখা গিয়েছে, আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ঢাকা ১০ আসন থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। নিজের মন্ত্রণালয় থেকে ঢাকা ১০ আসনকে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিয়েছিলেন বলে নানা সমালোচনাও হয়েছে। এদিকে বিএনপি দ্বিতীয় দফায় যে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে ৩৬ জনের, সেখানে ঢাকা ১০ আসন ফাঁকা রাখেনি তারা। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, বিএনপির সঙ্গে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার সমঝোতা হয়নি। তাহলে কি বিষয় উঠে আসছে, সেটার জন্য আসিফের সাংবাদিক বৈঠকের দিকে নজর থাকবে প্রত্যেকের। এদিকে যখন আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার নামে একাধিক বিষয় শোনা যাচ্ছে, তখন মাহফুজ আলমের নামে কোনও কথা শোনা যাচ্ছে না। অনেকে বলছেন, তিনি নির্বাচনের দিকে ঝুঁকছেন না বেশি। তিনি সরকারে থাকতে চান। এরমধ্যে আরও একটি বিষয় উঠে এসেছে। যেমন, আসিফ মাহমুদ এবং মাহফুজ আলম পদত্যাগ করলে দুদক যেন তাদের সম্পদ তদন্ত করেন। এমনটাই অনুরোধ জানিয়েছেন সদ্য এনসিপি থেকে পদত্যাগ করা নেতা, কেন্দ্রীয় সংগঠক মুহাম্মদ রাকিব। তিনি বলেছেন, যে আশা-আকাঙ্খা নিয়ে আমরা জুলাই অভ্যুত্থান করেছিলাম, সেটি ধ্বংস করে দিয়েছে ক্ষমতালোভী নেতারা। অন্তবর্তী সরকারের কাউকে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দিলে সেই নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। অর্থাৎ সাবেক সমন্বয়করা যখন বর্তমান সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে সুর চড়ায়, তখন একাধিক প্রশ্ন উঠে আসে। এখন দেখার তফশিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে যে বিষয় নিয়ে এত আলোচনা, তার কোনও আপডেট আসে কিনা!












Discussion about this post