অবশেষে সব জল্পনার অবসান। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে থাকা শেষ দুই ছাত্র প্রতিনিধি আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম বুধবার পদত্যাগ করেছেন। এঁদের মধ্যে আসিফ মাহমুদ ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে। আর মাহফুজ আলম ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে। এদিনই ছাত্রদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষ্যে ১২৫টি আসনে প্রাথমিক পার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। তাতে অবশ্য এই দুই উপদেষ্টার নাম ছিল না। কিন্তু এনসিপি প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরই জানা যায় দুই ছাত্র উপদেষ্টা তাঁদের পদত্যাগপত্র প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছেন। বাংলাদেশের প্রথমসারির সংবাদমাধ্যমগুলি এই দাবিই করছে। ধরে নেওয়া যায় তাঁরাও এবার নির্বচনে প্রার্থী হবেন। ফলে কৌতুহল জন্মাচ্ছে, কে কোন আসনে প্রার্থী হতে চলেছেন।
বুধবার বেলা ১১টায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রথম ধাপে ১২৫ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি। প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। তালিকায় তাঁর নাম যেমন আছে, তেমনই দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম থেকে শুরু করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ, তাসনীম জারা, আব্দুল হান্নান মাসউদের মতো নেতাদের নামও রয়েছে। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার নাসীরুদ্দীন বলেন, প্রথম ধাপে ১২৫ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। আবার এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব তাসনীম জারা বলেন, এনসিপির মনোনয়ন ফর্ম দেশের সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছিল। দেড় হাজারের বেশি মানুষ মনোনয়ন ফর্ম সংগ্রহ করেন। তাই এনসিপির প্রার্থী তালিকায় ব্যতিক্রম দেখা যাবে।
বাইট –
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছিল। তাঁর উপদেষ্টামণ্ডলীতে ঠাঁই হয়েছিল মোট ২৩ জনের। এই তালিকায় ছিলেন তিনজন ছাত্র উপদেষ্টা। এর মধ্যে নাহিদ ইসলাম আগেই পদত্যাগ করে এনসিপির আহ্বায়ক হয়েছেন। এবার বাকি দুই ছাত্র প্রতিনিধিদেরও পদত্যাগ করলেন। জানা যাচ্ছে, তাঁরাও এনসিপির হয়ে ভোটে লড়বেন। এখন দেখার তাঁরা কোন আসনে প্রার্খী হন। আসিফ মাহমুদ শুরুতে ছিলেন শ্রম মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে। পরে তাঁকে অতিরিক্ত নীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। যদিও ক্ষমতার অপব্যাবহার করে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তাঁর দফতরের বিরুদ্ধে। আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সহকারী সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনকে দুর্নীতির দায়ে গত ২৪ মে গ্রেফতার করেছিল বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন। এমনকি মোয়াজ্জেম হোসেনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং তাঁর এনআইডি ব্লক করা হয়েছে। অভিযোগ, এপিএস থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার করে তদবির বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে শত কোটি টাকা লুট করেছেন তিনি।
অপরদিকে মাহফুজ আলম, যিনি প্রথম দিকে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারি ছিলেন। তাঁকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসে মুহাম্মদ ইউনূস পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন গণঅভ্যুত্থানের মেটিকুলাস ডিজাইনের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে। সেই মাহফুজকে পরে উপদেষ্টা পদে আনা হয়েছিল। তাঁকে দেওয়া হয়েছিল তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। তার পরেও বাংলাদেশে সঙ্গীতশিল্পীদের উপর হামলা, গানের শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে হাঙ্গামা, বাউল, কবিয়ালদের উপর হামলার মতো অসংখ্য ঘটনা বাংলাদেশে ঘটেছে। সূত্রের খবর, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বদলে আদিলুর রহমান শুভ্রকে দেওয়ার কথা হচ্ছিল। কিন্তু এই দুই মন্ত্রণালয়ে হওয়া ব্যাপক দুর্নীতির বোঝা তিনি নিতে নারাজ। তবে পরে তিনি রাজি হয়েছেন বলেই জানা গিয়েছে। অপরদিকে, মাহফুজ আলমের মন্ত্রণালয়ের বাড়তি দায়িত্ব পেতে পারেন সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। প্রশ্ন উঠছে, আসিফ বা মাহফুজ আবার নাহিদের মতো ছাত্রনেতাদের যা জনপ্রিয়তার গ্রাফ, তাঁরা আদৌ ভোটে কতটা সুবিধা করতে পারবেন সেটা নিয়ে। যদি তাঁরা জিতেও যান, তাও তাঁদের স্থায়ীত্ব নিয়ে প্রশ্ন থাকবে। কারণ, পরবর্তী স্থায়ী সরকার এসে তাঁদের দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত শুরু করলেই এই ছাত্র নেতারা ফেঁসে যাবেন। ফলে এখন থেকেই তাঁদের এক্সেপ প্ল্যান তৈরি করতে হচ্ছে বলেই ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post