ঢাকার খবরে স্তব্ধ বাংলাদেশ। মুক্তিযোদ্ধার জামায়াত শিবিরে যোগদান! ২০২৪-এর ৫ই অগাস্টের পর থেকে বাংলাদেশ যে অশান্ত হয়ে উঠেছে, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে অশান্তর থেকেও বড় বিষয় হল, নৈরাজ্য। নৈরাজ্যের শিকার আজকের বাংলাদেশ। এরমধ্যে উঠে এল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খবর। ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর যোদ্ধা, যিনি কিনা পাকিস্তান বাহিনীর সঙ্গে অস্ত্র সহযোগে লড়াই করেছিলেন, সেই মুক্তিযোদ্ধা জামায়াত-ই ইসলামীতে যোগদান করলেন। প্রকাশ্যে এসেছে সেই ছবি। জামায়াতের কেন্দ্রীয় অফিসে গিয়ে তিনি দলে যোগদান করেন। অনেকে বলছেন, এতে বিএনপির কি চাপ বাড়ল? তার কারণ বাংলাদেশে এগিয়ে আছে নির্বাচন। আর এই মুহূর্তে একে একে জামায়াতের দিকে ঝোঁকে, তবে প্রশ্ন তো উঠবেই।
জামায়াত-ই ইসলামী দলে যোগদান করতে গেলে নানারকম প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। দীর্ঘ হয় সেই সময়টা। সামান্য দলের সদস্য হতে গেলে কাঠখড় পোড়াতে হয়। এই যোগদান পর্ব যখন চলছিল, তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন আমির শফিকুর রহমান। ফুলের তোড়া হতে আক্তারুজ্জামানকে বরণ করে নেন তাঁরা। জামাইতের দুই শীর্ষ নেতা সেখানে উপস্থিত থেকে এই যোগদানকে যে বিশেষ বার্তা দিলেন, তাতে বোঝা যায়, জামাইয়েত-ই তাদের কৌশল পরিবর্তন করছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, কেন এক বিতর্কিত সাবেক বিএনপি নেতাকে সাদরে গ্রহণ করল? আর মেজর আখতারুজাম্মান কেন যোগদান করলেন জমায়েত-ই ইসলামী দলে?
শাহাজান ওমর-ও নাকি জামায়াতি ইসলামীতে যোগদান করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়। এখন প্রশ্ন, যেখানে শাহজাহান ওমরের মতো এখন হেভিওয়েট নেতাকে প্রত্যাখ্যান করল জামাইয়েত-ই ইসলামী। অথচ আখতারুজ্জামানকে সাদরে গ্রহণ করল তারা। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখানেই লুকিয়ে রয়েছে জামায়াত-ই ইসলামীর নতুন পলিসি। জামায়াতের নিজস্ব কিছু মানদণ্ড রয়েছে। শাহাজাহান ওমরের বিরুদ্ধে এমন কিছু অভিযোগ উঠে এসেছে, সেগুলি বিতর্কিত। এছাড়াও জুলাই আন্দোলনের সময় তাঁর এমন ভূমিকা ছিল, যেটা জামাইয়েত-ই ইসলামী মেনে নিতে পারেনি। জামায়েত পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে, তিনি যদি পরিবর্তন হয়ে আসেন তবে দল বিবেচনা করে দেখবে। কিন্তু এই মুহূর্তে নয়। অন্যদিকে আখতারুজ্জামান বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব হলেও এখন তাঁর বিরুদ্ধে বড় কোনও ফৌজদারি অপরাধ নেই। জুলাই আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তিনি শক্ত অবস্থানে ছিলেন। শেখ হাসিনার বিরোধিতা এবং জুলাই আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান, জামাইয়েত-ই ইসলামীর কাছাকাছি পৌঁছেছেন তিনি। অনেকেই এই নতুন জামায়াত-ই ইসলামীকে বলছে, 2.0। সারা দেশ যখন রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলছে, তখন চুপিসারে নিজেদের দলের সংস্কার করে ফেলেছে জামায়েত। জানা যাচ্ছে, জামায়াতের কোনও গোপন বৈঠকে যোগদান করতে পারবেন না আখতারুজ্জামান। দলের নীতি নির্ধারণের কোনও বৈঠকে তিনি থাকতে পারবেন না। তিনি মূলত কাজ করবেন, নির্বাচনের ময়দানে।
এই মুহূর্তে বাংলাদেশে দুটি বড় রাজনৈতিক দল। যাদের সদস্য সংখ্যা এবং বাংলাদেশের মানুষেরর কাছে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তারা হল বিএনপি এবং জামায়েত-ই ইসলামী। তবে সবার উপরে আঔওয়ামী লীগ। কিন্তু এখন তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ বা দেশের অবস্থান, তা নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। এক্ষেত্রে বিএনপির ভীত খানিকটা নড়ে গিয়েছে বলে মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। কারণ খালেদা জিয়া অসুস্থ। দলের চেয়ারপারর্সন দেশের বাইরে। অন্যদিকে ধীরে ধীরে নিজেদের গুছিয়ে নিয়েছে জামায়েত-ই ইসলামী। তারমধ্যে তাদের কট্টরপন্থী তকমা ঘোচাতে মাঠে নেমেছে তারা। কারণ তারা জানে বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে তাদের সরিয়ে রাখা হয়েছে কট্টর ইসলামীপন্থী এবং দেশের স্বাধীনতা বিরোধী বলে। আর সেটাই সুচারুভাবে ঘোচাতে চাইছে জামায়েত-ই ইসলামী। এখন দেখার, শেষমেশ তাদের এই অবস্থান দলকে কতটা এগিয়ে নিয়ে যায়!












Discussion about this post